রকমারি ডেস্ক: বরফে ঢাকা দুর্গম পাহাড়, হিমেল বাতাস আর নিস্তব্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশ। সেই নির্জনতার মাঝেই কখনও দেখা মেলে তুষারচিতাবাঘের। লাদাখ ও হিমালয়ের উঁচু পাহাড়ে বসবাসকারী এই বিরল প্রাণীকে তার নিজস্ব আবাসস্থলে দেখার অভিজ্ঞতা এবার জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য বন্যপ্রাণী ভ্রমণ অভিজ্ঞতার তালিকায়।
ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান বেইলি রবিনসনের প্রকাশিত বন্যপ্রাণী অভিজ্ঞতা সূচকে লাদাখে তুষারচিতাবাঘ অনুসরণকে বিশ্বের চতুর্থ সেরা বন্যপ্রাণী অভিজ্ঞতা হিসেবে স্থান দেওয়া হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা পেয়েছে ১০০-এর মধ্যে ৮৫ দশমিক ৫ নম্বর।
তুষারচিতাবাঘ বিশ্বের অন্যতম দুর্লভ ও সহজে দেখা যায় না এমন বন্যপ্রাণী। তীব্র শীত এবং পাথুরে পাহাড়ি পরিবেশে টিকে থাকার জন্য প্রাণীটির শরীর বিশেষভাবে অভিযোজিত। ধূসর-সাদা লোমের ওপর কালো ছোপ বরফ ও পাথুরে ভূপ্রকৃতির সঙ্গে তাকে সহজেই মিশে যেতে সাহায্য করে।
শীতকালে তুষারচিতাবাঘ দেখার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসের কারণে বন্য পরিবেশে তাদের জীবনযাপন সম্পর্কে এখনও অনেক কিছু অজানা। তাই লাদাখের দুর্গম পাহাড়ে গিয়ে এই প্রাণীকে খুঁজে দেখার অভিজ্ঞতা প্রকৃতিপ্রেমী ও বন্যপ্রাণী অনুরাগীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে।
বন্যপ্রাণী অভিজ্ঞতা সূচকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ৩০টি বন্যপ্রাণী দেখার অভিজ্ঞতা তুলনা করা হয়েছে। এ মূল্যায়নে প্রাণীটির দুর্লভতা, আবাসস্থলের দুর্গমতা, সংরক্ষণের গুরুত্ব, অভিজ্ঞতাটির বিশেষত্ব, সেখানে পৌঁছানোর সহজতা এবং প্রাণীটির দেখা পাওয়ার সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই ছয়টি বিষয় বিবেচনা করেই লাদাখে তুষারচিতাবাঘ অনুসরণের অভিজ্ঞতাকে তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রাখা হয়েছে।
ভ্রমণবিষয়ক সাময়িকী কনডে নাস্ট ট্রাভেলার-এর প্রতিবেদনে বেইলি রবিনসনের বিক্রয় পরিচালক সারা পার্কার বলেন, বন্যপ্রাণী দেখার অভিজ্ঞতায় প্রাণীর দুর্লভতা ও আবাসস্থলের দুর্গমতার মধ্যে একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর মতে, অসাধারণ বন্যপ্রাণী দেখার অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে পর্যটকদের অনেক সময় আরও দূরে যেতে হয় এবং গভীরতর প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রবেশ করতে হয়। ফলে এমন প্রাণী দেখার সুযোগ তৈরি হয়, যা খুব কম পর্যটকেরই হয়।
বিশ্বের ৩০টি বন্যপ্রাণী অভিজ্ঞতার তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে রুয়ান্ডা ও উগান্ডায় পর্বত গরিলা দর্শন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে অ্যান্টার্কটিকায় সম্রাট পেঙ্গুইন দেখার অভিযান। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে কাজাখস্তানে সাইগা হরিণ দেখার অভিজ্ঞতা। এর পরেই চতুর্থ অবস্থানে লাদাখের তুষারচিতাবাঘ অনুসরণ। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে জাভান গণ্ডার অনুসরণ।
বন্যপ্রাণী ভ্রমণের এই তালিকায় ভারতীয় উপমহাদেশের আরও দুটি অভিজ্ঞতাও জায়গা করে নিয়েছে। নেপাল, ভুটান ও ভারতে লাল পান্ডা অনুসরণ রয়েছে ১৫তম অবস্থানে। এ অভিজ্ঞতা পেয়েছে ১০০-এর মধ্যে ৭৮ দশমিক ৫ নম্বর।
অন্যদিকে ভারত ও নেপালে একশৃঙ্গ গণ্ডার দর্শনের অভিজ্ঞতা রয়েছে ২১তম অবস্থানে। এটির প্রাপ্ত নম্বর ১০০-এর মধ্যে ৭৪ দশমিক ৫।
লাদাখের তুষারচিতাবাঘ অনুসরণের বিশেষত্ব হলো বরফে ঢাকা পাহাড়, দুর্গম উপত্যকা, নীরব প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং কঠিন ভূপ্রকৃতির মধ্য দিয়ে প্রাণীটির সন্ধান করা নিজেই একটি ভিন্নধর্মী ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।
তুষারচিতাবাঘ সহজে মানুষের সামনে আসে না। কখনো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, কখনও দূরবীন দিয়ে পাহাড়ের ঢাল পর্যবেক্ষণ করতে হয়। তাই এই ভ্রমণের আকর্ষণ প্রাণীটিকে দেখা ও তার আবাসস্থলের কাছাকাছি গিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে এক ধরনের গভীর সংযোগ তৈরি করা।
বিশ্বের অন্যতম দুর্গম অঞ্চলে এমন বিরল প্রাণীর সন্ধান প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য লাদাখ ভ্রমণকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং দায়িত্বশীল পর্যটনের গুরুত্বের কথাও মনে করিয়ে দেয় এই অভিজ্ঞতা।