• বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ন
Headline
পিরোজপুরে তিন বছর ধরে বর্ষায় চারা রোপণ ও বিতরণ করছেন শাহিন গাজী, এবারও দিলেন ৭ শতাধিক রিয়েলমির নতুন সি-সিরিজ স্মার্টফোন সি১০০এক্সে ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং ও রিভার্স চার্জিং সুবিধা নাজিরপুরে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত তৃণমূল নারীদের প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও সিড মানি দেওয়া হচ্ছে : মন্ত্রী প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়নি : ববি হাজ্জাজ সরকার মুখে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বললেও কাজে দেখি ‘সবার পরে বাংলাদেশ : আনু মুহাম্মদ আমি মাঝেমধ্যেই চলে আসবো, কেউ জানতে পারবেন না: আফরোজা খানম হারানো সরকারি অস্ত্রের তথ্য দিলেই মিলবে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার উগ্রবাদ-সহিংসতা মোকাবিলায় গবেষণা কাজে লাগানোর আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল চালু ১৬ ডিসেম্বর: বিমানমন্ত্রী

সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের যৌথ সামরিক শক্তি কতটা?

Reporter Name / ১৪৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান যৌথভাবে একটি বড় সামরিক জোট গড়ে তুলছে। গত শুক্রবার তিন দেশের নেতারা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছেন। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনও একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে যেকোনও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেছে তিন দেশ।
আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে থাকা এমন এক সময়ে এই চুক্তি হলো, যখন ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতার বিস্তার এবং ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও এর আশপাশের দেশগুলোর উদ্বেগ বাড়ছে।
সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে একসঙ্গে বিবেচনা করলে এটি নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী সামরিক জোট। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রফতানিকারক; তুরস্কের রয়েছে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী; আর পাকিস্তান একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। ২০২৬ সালের গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার সূচকের তথ্যানুযায়ী, তিন দেশের সম্মিলিত সামরিক সক্ষমতা স্থল, আকাশ ও নৌ—তিন ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য।

প্রায় ১৪ লাখ সক্রিয় সেনা

তিন দেশের সক্রিয় সামরিক সদস্যের সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। এর মধ্যে পাকিস্তানের সক্রিয় সেনাসদস্য সবচেয়ে বেশি- প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার। তুরস্কের রয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৮১ হাজার এবং সৌদি আরবের প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার। সক্রিয় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি তিন দেশেরই রয়েছে বড় আকারের রিজার্ভ ও আধাসামরিক বাহিনী। ফলে প্রয়োজনের সময় সম্মিলিত জনবল আরও অনেক বাড়ানো সম্ভব। এই জনশক্তি তিন দেশের সামরিক জোটের অন্যতম বড় শক্তি। পাকিস্তান বিশেষ করে দীর্ঘদিনের সামরিক অভিজ্ঞতা ও বড় পেশাদার সেনাবাহিনীর কারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আকাশপথে ৩ হাজার ৪০০-এর বেশি সামরিক বিমান

আকাশ সক্ষমতার ক্ষেত্রেও তিন দেশ মিলে বড় শক্তি তৈরি করে। তাদের সম্মিলিত সামরিক উড়োজাহাজের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৪১৫টি। এর মধ্যে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, পরিবহন বিমান ও প্রশিক্ষণ বিমান রয়েছে। পাকিস্তানের হাতে রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৯৭টি সামরিক বিমান। তুরস্কের রয়েছে ১ হাজার ১০১টি এবং সৌদি আরবের প্রায় ৯১৭টি। তুরস্কের সামরিক বিমানশক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশটির দ্রুত বিকাশমান ড্রোন ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি। পাকিস্তানের রয়েছে যুদ্ধবিমান পরিচালনা ও আকাশ প্রতিরক্ষায় দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে সৌদি আরবের বিমানবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি উন্নত যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে আসছে। ফলে তিন দেশের বিমান সক্ষমতা শুধু সংখ্যার দিক থেকেই বড় নয়; প্রযুক্তি ও যুদ্ধ সক্ষমতার ক্ষেত্রেও এর বৈচিত্র্য রয়েছে।

৬ হাজারের বেশি ট্যাংক

স্থলবাহিনীর ক্ষেত্রেও তিন দেশের সম্মিলিত শক্তি উল্লেখযোগ্য। তাদের হাতে রয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৪৬টি ট্যাংক এবং ১ লাখ ৭৯ হাজারের বেশি সাঁজোয়া যান। এর পাশাপাশি রয়েছে হাজার হাজার আর্টিলারি ব্যবস্থা এবং একাধিক রকেট লঞ্চার ব্যবস্থা। ট্যাংকের সংখ্যায় পাকিস্তান এগিয়ে। দেশটির হাতে রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬৭৭টি ট্যাংক। তুরস্কের রয়েছে ২ হাজার ২৮৪টি এবং সৌদি আরবের ১ হাজার ৮৫টি। স্থলযুদ্ধের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের বিশাল সেনাবাহিনী ও যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা, তুরস্কের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প এবং সৌদি আরবের বিপুল অর্থনৈতিক সক্ষমতা একে অন্যের পরিপূরক হতে পারে।

নৌবাহিনীতেও বড় সক্ষমতা

নৌ সক্ষমতার দিক থেকে তিন দেশের সম্মিলিত বহরে রয়েছে প্রায় ৩৪৪টি নৌযান। এর মধ্যে ৩৩টি ফ্রিগেট, ২৪টি করভেট এবং ২২টি সাবমেরিন রয়েছে। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে তুরস্ক। দেশটির নৌবাহিনীতে রয়েছে প্রায় ১৯২টি নৌসম্পদ। পাকিস্তানের রয়েছে ১২০টি এবং সৌদি আরবের ৩২টি। তুরস্কের নৌবাহিনী তিন দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় হওয়ায় সমুদ্রভিত্তিক সামরিক অভিযানে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অন্যদিকে পাকিস্তানের নৌবাহিনী আরব সাগরকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ এবং সৌদি আরবের অবস্থান পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথের কাছে।

বছরে প্রতিরক্ষা ব্যয় ১২৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি

অর্থনৈতিক সক্ষমতার দিক থেকেও তিন দেশ উল্লেখযোগ্য শক্তি। ২০২৬ সালে তাদের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ১২৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করছে সৌদি আরব- প্রায় ৬৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। তুরস্কের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ৫১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার এবং পাকিস্তানের প্রায় ৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এই আর্থিক সক্ষমতা বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় ধরনের যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তিন দেশের সামরিক শক্তি একে অন্যের পরিপূরক

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি পরামর্শক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তিন দেশের সামরিক সক্ষমতার পারস্পরিক পরিপূরকতা। তার ভাষায়, সৌদি আরব এই অংশীদারত্বে অর্থ, ভৌগোলিক অবস্থান, অবকাঠামো এবং রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন পক্ষকে একত্র করার সক্ষমতা নিয়ে আসছে। অন্যদিকে তুরস্কের রয়েছে দ্রুত উন্নতিশীল প্রতিরক্ষা শিল্প, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, সেন্সর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা, নৌ প্রযুক্তি এবং ন্যাটো-ভিত্তিক সামরিক অভিজ্ঞতা।
পাকিস্তান যোগ করছে বিপুল জনশক্তি, বড় ও পেশাদার সামরিক বাহিনী, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- পারমাণবিক সক্ষমতা। অর্থাৎ তিন দেশের শক্তি একই ধরনের নয়; বরং এক দেশের ঘাটতি অন্য দেশের সক্ষমতা দিয়ে আংশিকভাবে পূরণ করা সম্ভব।

সৌদি আরবের জন্য কী লাভ?

সৌদি আরবের জন্য এই চুক্তির অন্যতম প্রধান সুবিধা হলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কিছুটা কমিয়ে প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বে বৈচিত্র্য আনা।
ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রিয়াদ তুরস্কের সামরিক সক্ষমতা এবং পাকিস্তানের পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চাইছে। পাকিস্তান বিশ্বের নয়টি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশের একটি। দেশটি ১৯৯৮ সালে প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। ২৫ কোটির বেশি জনসংখ্যার পাকিস্তান সামরিক সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে চীনের ওপর নির্ভরশীল। তুরস্ক ১৯৫২ সাল থেকে ন্যাটোর সদস্য। দেশটির নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র নেই। তবে ন্যাটোর ‘নিউক্লিয়ার শেয়ারিং’ ব্যবস্থার আওতায় তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।

প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন বাজার পাবে তুরস্ক ও পাকিস্তান

এই চুক্তি শুধু সামরিক সহযোগিতাই নয়, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্যও বড় অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের আরব উপদ্বীপবিষয়ক সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড দেস রোশেসের মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর অস্ত্র রফতানি নীতিতে অনিশ্চয়তার মধ্যে সৌদি আরবের জন্য অস্ত্র সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করা গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্ক ও পাকিস্তান বিপুল পরিমাণে ১৫৫ মিলিমিটার আর্টিলারি গোলার মতো সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারে। অন্যদিকে তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পে এমন উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে, যা তাদের নিজস্ব অর্থনীতির চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। সৌদি আরবের বড় প্রতিরক্ষা বাজার ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা সেই অতিরিক্ত উৎপাদনের জন্য নতুন বাজার তৈরি করতে পারে।
ফলে চুক্তিটি ভবিষ্যতে শুধু সামরিক নয়, প্রতিরক্ষা শিল্প ও অস্ত্রবাণিজ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ এই জোট

তিন দেশের নতুন প্রতিরক্ষা সমীকরণ যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা পেয়েছে, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামের সবচেয়ে বড় বিদেশি ক্রেতাদের একটি এবং তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের পর ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি।
হার্ডক্যাসল অ্যাডভাইজরির ব্যবস্থাপনা অংশীদার জায়েদ এম বেলবাগির মতে, এই বাস্তবতায় চুক্তিটির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, গোয়েন্দা তথ্য, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখনও গুরুত্বপূর্ণ। তবে আঞ্চলিক দেশগুলো এখন শুধু ওয়াশিংটনের কাছ থেকে নিরাপত্তা কেনার পরিবর্তে নিজেদের অর্থ, প্রযুক্তি, জনশক্তি ও ভৌগোলিক সুবিধাকে একত্র করে বাস্তব সামরিক শক্তিতে রূপান্তর করতে চাইছে।
ক্রিগের ভাষায়, আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি ছিল মূলত ‘হাব-অ্যান্ড-স্পোকস’ মডেলের- যেখানে ওয়াশিংটন ছিল কেন্দ্রে এবং পৃথক দেশগুলো নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে থাকত। এখন আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে সরাসরি ‘অনুভূমিক সংযোগ’ তৈরি হচ্ছে।

আর কোন দেশ যোগ দিতে পারে?

এই জোটে ভবিষ্যতে অন্য কোনও দেশ যুক্ত হবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনও স্বাক্ষরকারী দেশের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে যে দেশের সম্ভাব্য সদস্যপদের কথা বলা হয়েছে, সেটি হলো মিসর। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান মিসরকে এই জোটের ‘স্বাভাবিক অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রযুক্তিগত কিছু বিষয় সমাধান হলে কায়রো জোটে যোগ দিতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ে বিশ্লেষক ক্রিগের মতে, মিসরের সামরিক শক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং সুয়েজ খালের নিয়ন্ত্রণ এই জোটে যুক্ত হলে এর গুরুত্ব অনেক বেড়ে যাবে। তবে মিসর এত সহজে এমন কোনও সামরিক বাধ্যবাধকতায় যেতে চাইবে না, যা তার বিদ্যমান জোট, চুক্তি বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষক করিম এলগেন্দির মতে, মিসর তখনই এই চুক্তিতে যোগ দিতে আগ্রহী হতে পারে, যদি চুক্তির ভাষা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সহায়তা সম্পর্ককে সুরক্ষিত রাখে, বিদ্যমান জোট ও শান্তিচুক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে এবং কখন ও কোথায় সামরিক অভিযানে অংশ নেবে- সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা কায়রোর হাতে রাখে।

বদলে যাচ্ছে আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণ

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি তাই শুধু তিন দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ঘোষণা নয়। এটি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন ধরনের সামরিক ও কৌশলগত সমন্বয়ের ইঙ্গিতও দিচ্ছে। একদিকে সৌদি আরবের অর্থ ও কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, অন্যদিকে তুরস্কের উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও ন্যাটো-অভিজ্ঞতা এবং পাকিস্তানের বিশাল সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক সক্ষমতা- এই তিনটি শক্তি একত্র হলে জোটটির সামরিক গুরুত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তবে এই সক্ষমতাগুলোকে বাস্তব সম্মিলিত সামরিক শক্তিতে রূপ দিতে হলে কমান্ড কাঠামো, যৌথ মহড়া, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, অস্ত্র ও প্রযুক্তির সমন্বয় এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি সমন্বয় প্রয়োজন হবে। সেই সমন্বয় কতটা কার্যকরভাবে গড়ে ওঠে, তার ওপরই নির্ভর করবে মক্কা চুক্তি শেষ পর্যন্ত একটি রাজনৈতিক ঘোষণা হয়ে থাকবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি নতুন শক্তিশালী সামরিক কাঠামোর জন্ম দেবে।

সূত্র: আল-জাজিরা


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category