ড. মুহাম্মদ মিনহাজ সেলিম
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। এখানকার বেশিরভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু যুগের পর যুগ তারা থেকে গেছে অবহেলিত ও বঞ্চিত। কৃষকরা মাঠে ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলায়, অথচ তারা নিজেরাই ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত। প্রযুক্তির যুগে বিশ্বের অনেক দেশ কৃষিকে আধুনিক করে তুললেও, বাংলাদেশে এখনো কৃষি ব্যবস্থা অনেকটা সনাতন পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। এতে কৃষকরা তেমন লাভবান হতে পারছেন না। বর্তমান সময়ে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে উন্নত দেশগুলোতে কৃষকরা অধিক উৎপাদন করছে এবং ভালো মুনাফা পাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের কৃষকদের অবস্থা একেবারে ভিন্ন। এখানে চাষাবাদের জন্য কৃষকদের এখনো প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়। উন্নত যন্ত্রপাতির অভাব, সঠিক পরামর্শের ঘাটতি এবং কৃষি উপকরণের উচ্চমূল্য কৃষকদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ কৃষক মৌসুমি ফসলের ওপর নির্ভরশীল। তারা সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করলেও অনেক সময় ফসলের ন্যায্যমূল্য পান না। বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও মহাজনের সুদের বোঝায় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েন। অনেক সময় ঋণের চাপে পড়ে তারা দিশেহারা হয়ে যান, যা কখনো কখনো আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনায় রূপ নেয়। কৃষকদের এ দুর্দশা থেকে মুক্তি দিতে হলে সরকার ও সমাজের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। উন্নত কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। স্বল্পমূল্যে আধুনিক যন্ত্রপাতি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এতে উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং কৃষকদের কষ্টও কমবে। উচ্চফলনশীল বীজ, মানসম্মত সার ও কীটনাশক কৃষকদের জন্য সহজলভ্য করতে হবে। কৃষি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হবে সঠিক পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের পাশে থাকা। যাতে তারা আধুনিক ও লাভজনক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে পারে। স্বল্প সুদে কৃষিঋণ কৃষকদের জন্য ব্যবস্থা করতে হবে। এতে তারা সহজে চাষের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে এবং ঋণের বোঝায় পড়বে না।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, খরা ও ঝড়ের কারণে কৃষকের ফসল নষ্ট হয়ে গেলে তারা চরম বিপদে পড়ে। এজন্য দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা, বিমা ব্যবস্থা ও সহায়তা তহবিল গড়ে তুলতে হবে। ফসল সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ অনেক সময় কৃষকরা তাদের ফসল সংরক্ষণ করতে না পারায় ন্যায্যমূল্য পান না। সরকারকে পর্যাপ্ত হিমাগার নির্মাণ করতে হবে। যাতে কৃষকরা ফসল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে পারেন। তাছাড়া মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে, যাতে কৃষকরা উপযুক্ত দাম পান। বাংলাদেশের কৃষকদের প্রতি আমাদের অবহেলা আর চলতে পারে না। তাদের কঠোর পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য দিতে হবে।
কৃষি খাতকে আধুনিক ও টেকসই করতে হলে সরকার, সমাজ ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত কৃষি উপকরণ, ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ এবং অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব। কৃষকদের অবস্থা বদলাতে পারলেই বাংলাদেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হবে। ‘কৃষকের হাসি মানেই দেশের হাসি। কৃষক বাঁচলে, বাঁচবে দেশ-আমার সোনার বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। কৃষির ওপর নির্ভর করেই তাদের সংসার চলে। তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ; তারা এই সোনার ফসলের ওপরই নির্ভরশীল। সারাটা মাস, সারাটা বছর পরিশ্রম করে শুধু দিন শেষে যাতে তাদের সন্তাদের মুখে হাসি ফোটে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তারা সমাজের মুখে গ্রাস তুলে দেয়। বিনিময়ে আমরা যা কিছুই দেই না কেন, তা তাদের শ্রমের সমতুল্য হবে না। তবু যাতে তারা দিন শেষে সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দিতে পারে, তাই তাদের ন্যায্য অধিকার দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের শুভ বার্তা দিচ্ছে না। বর্তমানে কৃষকদের অবস্থা সব থেকে করুণ। তারা তাদের ন্যায্য অধিকার তো পাচ্ছেনই না, বরং আরো লোকসান গুনতে হচ্ছে। পরিস্থিতি এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, কৃষকের এত পরিশ্রমের ফসল তারা এখন নিজেরাই জ্বালিয়ে দিচ্ছেন। কদিন আগেই আমরা পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি, টাঙ্গাইলে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। অন্যদিকে একজন শ্রমিকের দিনমজুরি হচ্ছে ৮৫০ টাকা। আর হৃদয়বিদারক ঘটনা হচ্ছে টাঙ্গাইলের কালিহাতীর আব্দুল মালেক সিকদার নামের এক কৃষক তার ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় নিজের ফসলের খেতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন। একজন কৃষক কতটা নিরুপায় হলে তার নিজের কষ্টের ফলকে এভাবে নিজে হাতে ধ্বংস করেন। এটা আমাদের সমাজের জন্য এক অশনিসংকেত। ওই এলাকায় এমন আরো কৃষক তাদের ফসল এলাকাবাসীদের বিনামূল্যে দিয়ে দিচ্ছেন। তারা তাদের ফসল জমি থেকে কেটে নিয়ে নিজেরা অর্ধেক নিচ্ছেন আর মালিকদের অর্ধেক দিচ্ছেন। এভাবে আমাদের কৃষকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আমরা যারা শহরে থাকি, বড় বড় অট্টালিকার ওপরে বসে আছি আর প্রস্তুতকৃত চাল নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বসে উপভোগ করছি, তারা যদি একটু হলেও ওই সব কৃষক ভাইদের কথা চিন্তা করতেন বা যারা ব্যবসায়ী তারাও যদি একটু চিন্তা করতেন তা হলে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না। মনে রাখতে হবে, আমার দেশের কৃষক যদি বাঁচে তবে আমার দেশ বাঁচবে, আমাদের দেশের মানুষ বাঁচবে। আর কৃষকরা যদি এভাবে দিনের পর দিন বঞ্চিত হতে থাকেন, তবে সেটা আমাদের অর্থনীতির ওপরই প্রভাব পড়বে। কারণ এতে করে আমার দেশের কৃষকরা তাদের কৃষিকাজ থেকে সরে আসবেন। প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে পত্রপত্রিকায় এটা নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ব্যবসায়ী মহল এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এখন সরকারকেই উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের এ কৃষক সমাজকে বাঁচাতে হলে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে আর কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে কৃষককে তাদের ন্যায্য অধিকার পাইয়ে দিতে হবে। তা না হলে আমাদের দেশের কৃষক সমাজের সঙ্গে সেটা অন্যায় হবে। কারণ বর্তমানে শ্রমিকের মজুরি, কৃষির আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি মিলিয়ে একজন কৃষকের যে খরচ হচ্ছে, তাতে সেই পরিমাণ লাভ তো হচ্ছেই না বরং তাদের আসলটাও উঠছে না। এখন সরকারকে এদিকে দৃষ্টি দিয়ে কৃষির আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতির দাম কমাতে হবে আর কৃষকদের ফসলের দাম বাড়িয়ে দিতে হবে। বিশেষ করে ধানের দাম বাড়াতে হবে। আমরা জানি বর্তমান সরকারের আমলে কৃষকরা সবচেয়ে বেশি সুখে ছিল। কিন্তু বর্তমান এ পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে কারা আছে বা কোনো চক্র, এই বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করছে কি না, এটা বের করতে হবে। তা না হলে কৃষকরা তাদের ন্যায্য অধিকার পাবেন না। একটা জাতির একটা বৃহৎ অংশ যদি সুখে না থাকে তবে আমরাও সুখে থাকতে পারি না। আমাদের উচিত হবে কৃষকদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে সহযোগিতা করা। হয়তোবা এই লোকসানের কারণে কত কৃষক পরিবারের সন্তানের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আবার কত পরিবার না খেয়ে জীবনযাপন করছে। এ ব্যাপারে যদি আশু পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে পরিস্থিতি আরো জটিল হবে। আর কৃষকদের মাঝে অসন্তোষও বাড়বে। তাই বর্তমানে এই স্থিতিশীল পরিবেশে কোনো বিষয়কেই খুব বেশি জটিল করা উচিত না। কারণ বর্তমানে আমরা উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। সেখানে যদি আমাদের কৃষক সমাজ অসন্তুষ্ট থাকে, তা হলে উন্নত দেশের দিকে ধাবমান হওয়ার এই যাত্রা বাধাগ্রস্ত হবে। তাই আমাদের দেশ বাঁচানোর জন্য, দেশের মানুষকে বাঁচানোর জন্য কৃষককে তার ন্যায্যমূল্য দিতে হবে। যাতে আর কোনো কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন না হন। কৃষকের কৃষিপণ্য আরো সহজলভ্য করতে হবে। মনে রাখতে হবে, কৃষকই আমার দেশের সব থেকে বড় সম্পদ।
কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পরিচিতি রয়েছে পৃথিবীব্যাপী। এ দেশের জনগণের বৃহদাংশই অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ লোক কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। সেই আদিকাল থেকেই এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে কৃষিকাজ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এ দেশের কৃষকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে হাড়ভাঙা খাটুনি করে বিভিন্ন কৃষিজ পণ্য উৎপাদন করে দেশের জনগণের চাহিদা মেটাচ্ছেন। দেশীয় আয়ের মোট ১২.৬৪ শতাংশ কৃষি থেকে আসে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বর্তমানে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়, যা থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সাফল্য লাভ করছে বাংলাদেশ। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, দেশের কৃষকরা কি আদৌও ভালো আছেন? তারা কৃষিকাজ করে কি স্বস্তিতে রয়েছেন? তারা কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন নাকি আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন? এমন নানা প্রশ্নের উত্তর পেতে কথা হয় মেহেরপুর সদরের মোমিনপুর গ্রামের একজন কৃষকের সঙ্গে। কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন করে আর্থিকভাবে লাভবান নাকি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ফসল তৈরির জন্য যেসব দ্রব্যাদি প্রয়োজন; বিশেষ করে সেচের জন্য জ্বালানি তেল, উৎপাদন বৃদ্ধি ও পোকামাকড় রোধ করার জন্য রাসায়নিক সার-কীটনাশক ইত্যাদি উচ্চমূল্য সম্পন্ন হওয়ায় তা কেনা আমাদের পক্ষে কষ্টসাধ্য হচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদনে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। পরবর্তীকালে উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করার সময় পণ্যের প্রকৃত মূল্য না পাওয়ায় আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। তিনি আরও বলেন, এভাবে কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা সব দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং কৃষকের উৎপাদিত ফসলের বাজারমূল্য সমতায় না নিয়ে এলে ধীরে ধীরে আমাদের পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না। পূর্বে কৃষিকাজে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সার-কীটনাশকসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য কম থাকলেও বিগত কয়েক বছর থেকে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অসচ্ছলতার কারণে কৃষি খাতে ভর্তুকি কমানো হয়। ফলে এসব দ্রব্যের মূল্য ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এসবের মূল্য বৃদ্ধি পেলেও কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের মূল্যের সঙ্গে এর কখনো সমতায় আনা হয়নি। এতে উৎপাদন খরচ বেশি এবং পণ্যের বাজারজাত মূল্য কম হওয়ার দরুন কৃষকরা লাভের তুলনায় ক্ষতির সম্মুখীন বেশি হচ্ছেন। আমাদের দেশ কৃষিপ্রধান বলা হলেও এ দেশের কৃষকরা সব থেকে অবহেলিত। সরকার কর্তৃক কৃষি খাতে বরাদ্দকৃত নানান সুযোগ-সুবিধা তৃণমূল পর্যায়ে খুব সামান্যই এসে পৌঁছে। সুযোগ-সুবিধার একটি বড় অংশই পড়ে দুর্নীতির কবলে। জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ বাজেট অন্যান্য খাতে বরাদ্দকৃত বাজেটের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম রাখা হয়। যেমন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল মোট বাজেটের ৭.৮ শতাংশ। এবার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মোট বাজেটের ৫.৯ শতাংশ, যা বিগত অর্থবছরের তুলনায় অনেক কম। আবার কৃষি খাতের ভর্তুকির ক্ষেত্রে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কৃষি খাতে ভর্তুকি ছিল মোট বাজেটের ৩.৬ শতাংশ। পরবর্তী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এর পরিমাণ কমে দাঁড়ায় মোট বাজেটের ২.২ শতাংশ, যা বিগত বছরের তুলনায় অনেকাংশে কম। কৃষকের ফসল উৎপাদন খরচ সীমিত রাখতে এবং তাদের প্রফুল্ল রাখতে কৃষকের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির ওপর মোট বাজেট থেকে কৃষি খাতে ভর্তুকির পরিমাণ বৃদ্ধিকরণের পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষক পর্যন্ত এর সুযোগ-সুবিধা পৌঁছায় কি না, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গ্রামীণ/তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নের জন্য জাতীয় বাজেটে কৃষির জন্য বরাদ্দ কার্যকরভাবে ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। কৃষি উন্নয়নের স্বার্থে এবং কৃষকের কাজে প্রগতি আনতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের জন্য অধিক ঋণ সুবিধা এবং টেকসই কৃষিব্যবস্থা যে শুধু উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে ভূমিকা রাখে তা নয়, বরং এর ফলে লাখ লাখ মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হয়। বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে একটি স্থিতিশীল এবং টেকসই কৃষি খাত নিশ্চিত করা সম্ভব।
লেখক : সাবেক কৃষি উন্নয়ন বিষয়ক গবেষক