প্রভাত রিপোর্ট: সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কাজী জিনাত হককে মনোনীত করেছেন প্রধান বিচারপতি। সোমবার (১৭ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের এক স্মারক থেকে এ তথ্য জানা গেছে। জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক বরাবর পাঠানো স্মারকে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান পদে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কাজী জিনাত হককে মনোনয় দিয়েছেন।
বিনামূল্যে আইনি সেবা দিতে ২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির অফিসটি উদ্বোধন করেন তৎকলীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এর আগে গঠন করা হয় সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি। তখন এ কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছিলেন আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. নিজামুল হক। পরের বছর ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি নিজামুল হক আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। এ কারণে তার জায়গায় ১৮ ফেব্রুয়ারি নতুন চেয়ারম্যান হন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি আপিল বিভাগে নিয়োগ পান। তখন এই পদে ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমকে মনোনীত করা হয়। একই বছরের ৮ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে নিয়োগ পান বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম। ২০২৩ সালের ৫ জানুয়ারি বিচারপতি নাইমা হায়দারকে এই পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়। বিচারপতি নাইমা হায়দার বর্তমানে বিচার কাজের বাইরে রয়েছেন।
আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক বিচারপতি কাজী এবাদুল হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. শরীফা খাতুনের মেয়ে বিচারপতি কাজী জিনাত হক।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (প্রথম বিভাগ) ও এলএলএম (প্রথম বিভাগ) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলম এবং সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট গ্রাজ্যুয়েট ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি বার-এট-ল (ব্যারিস্টার) ডিগ্রিও নেন। তিনি ১৯৯৭ সালে জজ কোর্ট, ২০০০ সালে হাইকোর্ট এবং ২০১৫ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। এছাড়া ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর কাজী জিনাত হক হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন।