আজ
|| ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ || ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ || ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
‘ইউনূস-শি বৈঠকে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে’
প্রকাশের তারিখঃ ২৫ মার্চ, ২০২৫
প্রভাত রিপোর্ট
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে বৈঠকে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন। তিনি বলেণ, ‘এছাড়াও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা, জিডিআই, অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।’ মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যে বৈঠকটি হবে, সেটি শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের পছন্দ অনুযায়ী কথা বলবেন। তবে, আমাদের দিক থেকে এবং চীনের দিক থেকে পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কথা বলার আগ্রহ আছে। পানি ব্যবস্থাপনার আওতায় তিস্তা প্রকল্প নিয়ে কথা বলার সুযোগ আছে।’উল্লেখ্য, চীনের হাইনান প্রদেশে বোয়াও সম্মেলন এবং বেইজিং এ চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য আগামী বুধবার (২৬ মার্চ) চীনের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধান উপদেষ্টা। ২৭ মার্চ বোয়াও সম্মেলনের প্লেনারি সেসনে বক্তব্য রাখবেন তিনি। ২৮ মার্চ চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার বৈঠক হবে। ২৯ মার্চ পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসর মুহাম্মদকে বিশেষ সম্মাননা জানাবে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘চীন আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু এবং আমরা সেই বন্ধুত্বকে ধারণ করি। চীনের দিক থেকেও একই ধরনের মনোভাব আছে এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর হিসেবে চীনকে বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে একটি বার্তা আমরা দিচ্ছি।’তিনি বলেন, ‘এই সফর থেকে আমাদের প্রত্যাশা বহুমাত্রিক। চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং অন্যতম বড় উন্নয়ন সহযোগী।’ এছাড়া মানুষে মানুষে যোগাযোগ বাড়ছে। আমরা নতুন নতুন ক্ষেত্র আবিষ্কার করছি এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি বলে তিনি জানান।
এবারের সফরে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। এছাড়া কিছু ঘোষণা আসতে পারে জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘এরমধ্যে রয়েছে পানি সম্পর্ক উন্নয়নে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াবিষয়ক সহায়তা, এবং গণমাধ্যম বিষয়ক সহযোগিতা।’ যেসব বিষযে ঘোষণা আসতে পারে সেগুলো হচ্ছে— অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ক, জানান জসীম উদ্দিন।। পররাষ্ট্র সচিব জানান, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘদিনের। এরমধ্যে সাত বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশের দিক থেকে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে সমস্যার যেন সমাধান হয়।
মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনায় চীনও আমাদের সহায়তা করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এ বৈঠকে যেটি করছি যে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যে উদ্ভূত পরিস্থিতি— সেটি নিয়ে চীন কী ভাবছে তা আমরা দেখতে পারি। আমাদের চিস্তা তাদেরকে জানাতে পারি।’স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলছে এবং সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব।
তিনি বলেন, ‘চীনে বাংলাদেশি রোগীদের প্রথম ব্যাচ গিয়েছে। আমি যতটুকু জানতে পেরেছি, তারা চিকিৎসাসেবায় সন্তুষ্ট। এছাড়া বাংলাদেশি রোগীদের জন্য কুনমিংয়ে চারটি হাসপাতাল চিহ্নিত করা হয়েছে।’
সচিব বলেন, আমাদের প্রত্যাশা, সামনের সময়ে এই সহযোগিতা আরও বাড়বে এবং চীন বাংলাদেশে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল করবে, যেটি বাংরাদেশ ও চীনের দ্বিাপক্ষিক সম্পর্কের যে সুবর্ণজয়ন্তী, তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বিষয় হবে। এ বিষয়টিকে জোর দেওয়ার জন্য আমরা শীর্ষ পর্যায়ে কথা বলবো।’
আমাদের দিক থেকে সাধারণভাবে চীনের সঙ্গে যে সামরিক সহযোগিতা আছে, সেগুলোর সাধারণ একটি আলোচনা হবে’, বলে সাংবাদিকদের জানান পররাষ্ট্র সচিব।
Copyright © 2025 প্রভাত. All rights reserved.