আজ
|| ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ || ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ || ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি
তুরস্কের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা বিরোধী দলীয় নেতার
প্রকাশের তারিখঃ ২৭ মার্চ, ২০২৫
প্রভাত ডেস্ক
তুরস্কের প্রধান বিরোধী দলের নেতা ওজগুর ওজেল বলেন, আগাম নির্বাচনের ডাক কিংবা ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুকে কারাগার থেকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত দেশটির প্রতিটি শহরে তাঁদের বিক্ষোভ চলবে। বিবিসিকে তিনি এ কথা বলেছেন। ওজগুর ওজেল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) চেয়ারম্যান। একরেম ইমামোগলুও একই দলের নেতা। ওজেল বলেছেন, দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী শনিবার ইস্তাম্বুলে বড় ধরনের বিক্ষোভ হবে। তাঁর মতে, এর মধ্য দিয়ে ২০২৮ সালে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ইমামোগলুকে দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট করার জন্য দলের প্রচারণার সূচনা হবে। ওজেল ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আমরা যে শহরেই যাব, সেখানেই তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমাবেশ হবে।’ ইস্তাম্বুলে দলের সদর দপ্তরে বসে বিবিসির সঙ্গে কথাগুলো বলেন ওজেল। তিনি আরও বলেন, ‘একরেম ইমামোগলুর প্রতি বিশ্বাস ও গণতন্ত্র এ বিক্ষোভকে আরও বড় এবং শক্তিশালী করে তুলবে।’ এক সপ্তাহ আগে ইমামোগলু গ্রেপ্তার হন। এর প্রতিবাদে বিভিন্ন সড়কে বড় জমায়েত করছে বিরোধী দল। গত এক দশকে তুরস্কে এত বড় বিক্ষোভ হতে দেখা যায়নি। তুরস্কে গণহারে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটছে। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে বিক্ষোভ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাত তুর্কি সাংবাদিকও আছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষের সমর্থন ধরে রেখেছেন। তিনি এ বিক্ষোভকে ‘পথ সন্ত্রাস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর হামলা করছে এবং জনগণের সম্পদ নষ্ট করছে। এরদোয়ান মনে করেন, বিরোধী দলের এ ‘শো’ ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাবে।
ইমামোগলুকে ইস্তাম্বুলের উপকণ্ঠে সিলিভরি কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। সেখানে ইমামোগলুর সঙ্গে দেখা করে ফেরার পর বিবিসির সঙ্গে কথা বলেন ওজেল। তিনি বলেন, ইমামোগলুকে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো আছে এবং এখন পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়নি। ওজেল বলেছেন, ইস্তাম্বুলের মেয়রকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে একটি উদাহরণও দিয়েছেন তিনি। যেমন ইমামোগলুর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ হলো, তিনি বহু বছর আগে সস্তায় জমি কিনেছিলেন। আর কম দাম হওয়ার মানে এটি ঘুষ হতে পারে। ওজেল বলছেন, এটা সত্য নয়। জমির জন্য জমা দেওয়া অর্থের একটি অংশ হিসেবে ওই সামান্য পরিমাণ অর্থ জমা দেওয়া হয়েছিল।
ইমামোগলুর বিরুদ্ধে একটি অপরাধ সংগঠন প্রতিষ্ঠা, ঘুষ নেওয়া, চাঁদাবাজি ও সরকারি টেন্ডারে কারচুপির অভিযোগ আনা হয়েছে। ইমামোগলু তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি তাঁর গ্রেপ্তারের ঘটনাটিকে অভ্যুত্থান বলে উল্লেখ করেছেন। তুরস্কের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশটির আদালতগুলো স্বাধীন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো তা মনে করে না। ওজেল মনে করেন, ইমামোগলুকে গ্রেপ্তার করার কারণ একটাই। আর তা হলো তাঁকে তুরস্কের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট না হতে দেওয়া। জনমত জরিপে আভাস দেওয়া হয়েছে, কারাগারে না থাকলে ইমামোগলু প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন। ওজেল বলেন, ‘পুরো বিশ্বের সামনে এরদোয়ান তিনবারের নির্বাচনে বিজয়ীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। হুট করে তিনি এমন একজনকে জেলে পাঠিয়েছেন যিনি, সাধারণ রাজনৈতিক উপায়ে তাঁর বিরুদ্ধে লড়ছিলেন। এটা অনেকটা এমন যে ফুটবল খেলায় আপনি জিতে যাচ্ছেন জেনে প্রতিপক্ষ এসে বল টুকরা টুকরা দিয়ে কেটে ফেলছে।’
Copyright © 2025 প্রভাত. All rights reserved.