• শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ভেনিজুয়েলা-ইরানের পর এবার ইকুয়েডর : ট্রাম্পের নতুন ‘যুদ্ধ-ফ্রন্ট’! কে এই মোজতবা খামেনি, যার কণ্ঠস্বর শোনেননি অনেক ইরানি! তৃণমূল ছেড়ে আসা হুয়ায়ুন কবীর নতুন দলের নিবন্ধন পেলেন, সঙ্গে বিশেষ নিরাপত্তা নতুন ডেস্ট্রয়ার জাহাজ থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লেন কিম হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকার জাহাজে হামলা, ২৪ ক্রুকে বাঁচালো ওমান ৮ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে ইরান যুদ্ধ : হেগসেথ ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ৭ পয়েন্টে এগিয়ে থাকার স্বস্তি আর্সেনালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যাটিংয়ে দশের অধিক রেকর্ড গড়লেন ফিন অ্যালেন নির্বাচক হতে আবেদন করেছেন নান্নুসহ সাবেক ক্রিকেটাররা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রোর হ্যাট্রটিকে বড় জয় চেলসির

ঈদের পর বাজারে মিশ্র চিত্র

প্রভাত রিপোর্ট / ২০২ বার
আপডেট : শনিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৫

প্রভাত অর্থনীতি

ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছে মানুষ। রাজধানীর জনসমাগমের সেই পুরোনো চিত্র ফেরার পাশাপাশি বাজারগুলোতেও বাড়ছে ক্রেতা। তবে এখনও বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ। পণ্যের সরবরাহ কম থাকায় বেড়েছে মাছসহ বিভিন্ন সবজির দাম। তবে ঈদের পর চাহিদা কম থাকায় বাজারে কমেছে মুরগি ও গরুর মাংসের দাম। শনিবার ( ৪ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা ও বনশ্রী এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মুরগি ও গরুর মাংসের দাম কমেছে। আবার কিছু সবজির সরবরাহ কমায় সেগুলোর দাম বেড়েছে। বাজারে মাছের সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় কিছু মাছের দামও বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চিংড়ি মাছের দাম। বিক্রেতারা বলছেন, এখনও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে ঈদের ছুটি থাকায় অনেক মানুষ ঢাকায় ফেরেননি। এ কারণে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতিও বেচাকেনা কম।
ঈদের আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ২৪০ টাকা পর্যন্ত, এখন তা কমে ২০০–২১০ টাকায় নেমে এসেছে। সোনালি মুরগি কেজিপ্রতি ২৮০–৩১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের আগে ছিল ৩২০–৩৩০ টাকা। গরুর মাংসের দাম ৭০০–৭৫০ টাকায় নেমে এসেছে, যেখানে ঈদের আগে তা ছিল ৭৫০–৮৫০ টাকা।
রামপুরা বাজারের মুরগির মাংস বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, ঈদের পর এখনও শহরে অনেক মানুষ ফেরেননি। তাই চাহিদা কম, আমাদেরও দাম কিছুটা কমিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ঈদের পর সপ্তাহখানেক আমাদের ব্যবসা খুবই কম হবে। ঈদের পর পর মানুষের মাংসের প্রতি খুব বেশি চাহিদা থাকে না। যেকারণে বেচাকেনা খুবই কম হয়। এই সময়ে ক্রেতাদের চাহিদা যেমন কম থাকে, পাইকারি বাজারেও দাম কিছুটা কম থাকে।
ঈদ পরবর্তী সময়ে বাজারের মাংসের চাহিদা কমে যাওয়ায় কদর বেড়েছে মাছের, যার ফলে প্রায় সব ধরনের মাছেই কিছুটা বাড়তি দাম যোগ হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ২০০ টাকায়, যা অন্যান্য সময়ে ১৮০-১৯০ টাকায়ও পাওয়া যায়। তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত, সরপুঁটি মাছ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজিতে। চাষের কই বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজিতে।
এপ্রিলের শুরুতে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা ব্যবসায়ীদের
খুচরা বাজারে ফলের চড়া দাম, পাইকারি কম দামের সুফল মিলছে না
এছাড়াও আজকের বাজারে প্রতি কেজি বড় আকৃতির রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত, মাঝারি আকৃতির রুই বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজিতে। এছাড়াও কাতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। তবে নদীর মাছের সরবরাহ কম থাকায় বাজারে বেড়েছে চিংড়ি, শিং, ট্যাংরা, শোল ও পুঁটি মাছের দাম। চাষের চিংড়ি কেজিপ্রতি ৬৫০–৭৫০ টাকা, নদীর চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০০–১০০০ টাকায়। অন্যান্য মাছের মধ্যে শিং বিক্রি হচ্ছে ৮৫০–৯০০ টাকা, শোল ৮০০–৮৫০, ট্যাংরা ৭০০–৮০০ এবং পুঁটি ৬০০–৮০০ টাকা কেজিতে।
শ্যামল রাজবংশী নামে এক মাছ বিক্রেতা বলেন, ঈদের পরপর প্রায় বেশিরভাগ মানুষ মাংসের পরিবর্তে মাছ খোঁজে। যে কারণে বাজারে এক ধরনের সংকট তৈরি হয়। সে তুলনায় বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দামটাও বেড়ে যায়। ঈদের ছুটির কারণে মাছ উঠেছে কম, এখনো গ্রাম থেকে পুরো সরবরাহ আসেনি।
ঈদের পর বাজারে কাঁচামরিচ, টমেটো, পেঁপে, শসা, লেবু—সবজির দাম বেড়ে গেছে। টমেটো বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫০–৬০ টাকা, পেঁপে ৬০ টাকা, শসা ৬০–৭০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১২০ টাকা কেজি। এছাড়া প্রতিটি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮–১০ টাকায়।
সবজি বিক্রেতা নূর হোসেন বলেন, চাষিদের অনেকেই ঈদের সময়ে মাঠে যাননি, পরিবহনও সীমিত ছিল। ফলে সরবরাহ কমেছে। কিছুদিনের মধ্যেই বাজার স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।
বনশ্রী এলাকার গৃহিণী রোকসানা আক্তার বলেন, মাংসের দাম কমেছে, এটা ভালো লাগছে। কিন্তু সবজির বাজার দেখে তো রীতিমতো ভয় লাগে!
পূর্ব রামপুরা এলাকার বাসিন্দা শাহেদ হাসান বলেন, ব্রয়লার এখন সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু মাছ ও সবজি এখন আর মধ্যবিত্তের নাগালে নেই।
কলেজছাত্রী তাসনিম জান্নাত বলেন, একটা মাঝারি লাউ ৭০ টাকা, চারটা লেবুতে ৪০ টাকা! বাজেট গুনে বাজারে আসতে হয়।
এদিকে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ঈদের ছুটির পরে ঢাকায় জনসমাগম কম, পরিবহন ও সরবরাহ সীমিত। ফলে কিছু পণ্যের দাম বাড়লেও এটা দীর্ঘস্থায়ী নয়। কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে মাছ-সবজির দামও কমে আসবে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও