• রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসন নেত্রকোণা’র যৌথ অভিযান কচুয়ায় শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে আটক -১ সাংবাদিক মশিয়ার রহমান খান ও কবি সরোজ দেব স্মরণে নাগরিক শোকসভা পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত আছে, কোনও শঙ্কা নেই: উপদেষ্টা বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কোথাও নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অনলাইন ক্যাম্পেইন : অধিকাংশ সংস্কার প্রস্তাবে একমত বিএনপি ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছে মানুষ, নেই যানজটের ভোগান্তি স্বস্তিতে ঢাকায় ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ বিমসটেক সম্মেলন শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে : প্রধান বিচারপতি

পোশাকে ক্রয়াদেশ কমবে যুক্তরাষ্ট্রের : দুশ্চিন্তায় রপ্তানিকারকেরা

প্রভাত রিপোর্ট / ৩ বার
আপডেট : শনিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৫

প্রভাত অর্থনীতি

বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক। আর সেই পোশাক রপ্তানির একক বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। গত অর্থবছরের বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া তৈরি পোশাকের ১৮ শতাংশের গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের কারণে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকেরা তাই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এই বাজারে যাঁরা জুতা ও চামড়াজাত পণ্য, হোমটেক্সটাইল, হিমায়িত খাদ্য ইত্যাদি পণ্য রপ্তানি করেন, তাঁরাও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
রপ্তানিকারকেরা বলছেন, চীন থেকে কিছু ক্রয়াদেশ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিল বাংলাদেশ। এখন তা অনিশ্চিত। উল্টো ক্রয়াদেশ কমবে যুক্তরাষ্ট্রের। তিনটি মার্কিন ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক বৈঠক করতে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে যান বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান স্প্যারো গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শোভন ইসলাম। পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোয় ক্রেতারা চীন থেকে মেয়েদের পোশাকের ক্রয়াদেশ বাংলাদেশে স্থানান্তরে ইতিবাচক মনোভাবও দেখায়।
রপ্তানিকারকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কে এখনই বড় আকারে কিছু না–ও হতে পারে। তবে অতিরিক্ত শুল্ক বজায় থাকলে ক্রয়াদেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইতিমধ্যে মার্কিন ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি ব্যয়ের হিসাব–নিকাশ শুরু করেছে। ফলে বাংলাদেশ সরকারকে যত দ্রুত সম্ভব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা দরকার।
দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণার সময়ই এমন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের গোলাপবাগানে গত বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তাতে বিশ্বের সব আমদানিকারক দেশের ওপর গড়ে ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তার বাইরে বেশ কিছু দেশের পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপ হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। চীন পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে।
রয়টার্স ও ভিয়েতনাম প্লাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক প্রতিরোধে গত ফেব্রুয়ারিতে বিলাসবহুল গাড়ি, সোলার সেল, রাসায়নিকসহ ৩০টির বেশি মার্কিন পণ্যে আমদানি শুল্ক পর্যালোচনার শুরু করে ভারত। কারণ, তাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে। গত মাসে ৫৫ শতাংশ মার্কিন পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক কমানোর বিষয়ে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে ভারত। অন্যদিকে ভিয়েতনাম গত সপ্তাহে অটোমোবাইল, কৃষিপণ্য, ইথানলসহ ১৬ ধরনের পণ্যে শুল্ক কমিয়েছে। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর ২৬ ও ভিয়েতনামের ওপর ৪৬ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শোভন ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করার পর আমি আবার সেই ক্রয়াদেশ নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা এখন দেখছি, দেব করছে। তার মানে ব্যবসার সুযোগটি এখন অনিশ্চিত। উল্টো একাধিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, শুল্কের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের চাহিদা কমবে। সেটি হলে আগামী শরৎ ও শীত মৌসুমে পোশাকের ক্রয়াদেশ ২০–৩০ শতাংশ কমতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের নিয়ে সরকার কী করছে জানতে বাণিজ্য উপদেষ্টার শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, পুরো বিষয়টি বুঝতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। বাংলাদেশের করণীয় নির্ধারণে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আগামীকাল রোববার জরুরি বৈঠক হবে বলেও জানান তিনি।
তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি আব্দুল্লাহ হিল রাকিব গণমাধ্যমকে বলেন, ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক চার–পাঁচ বছর থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকারের দ্রুত আলোচনা শুরু করা দরকার।
বাংলাদেশের শীর্ষ পণ্য রপ্তানির অন্যতম হোমটেক্সটাইল। গত অর্থবছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এই খাত প্রায় পাঁচ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় এসেছে। নতুন শুল্কের কারণে বাজারটিতে রপ্তানি কমার শঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা।
বাংলাদেশ টেরিটাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিটিএলএমইএ) সাবেক চেয়ারম্যান এম শাহাদাৎ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হোমটেক্সটাইলে আমাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান। দেশটির ওপর পাল্টা শুল্ক বসেছে ২৯ শতাংশ। আর আমাদের পণ্যে ৩৭ শতাংশ। ফলে পাকিস্তান স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, হোমটেক্সটাইলে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গ্যাস–বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, নগদ সহায়তা কমানো এবং সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের কারণে হোঁচট খেল।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও