• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
হরমুজে ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ চলাচলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইরানের নির্দেশনা তীব্র হচ্ছে গরম : ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রিতে উঠতে পারে তাপমাত্রা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দেশ-বিদেশে সফরে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা আলোচনায় থেকেও মনোনয়ন পেলেন না যেসব নেত্রী ও তারকারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যারা জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত স্বৈরাচারী সরকার দায়ী : তথ্যমন্ত্রী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বসছে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী সৌদিতে অবস্থানরত ২২ হাজার রোহিঙ্গা পেলো বাংলাদেশি পাসপোর্ট বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী আরও সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু, বিচারপ্রার্থীরা কী কী সুবিধা পাবেন

ধনাগোদা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে জমি-ঘর

প্রভাত রিপোর্ট / ১০৬ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৩ মে, ২০২৫

প্রভাত সংবাদদাতা, চাঁদপুর: ধনাগোদা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের বাড়িঘর, বিভিন্ন স্থাপনা ও ফসলি জমি। কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙনে অনেক জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলার কমপক্ষে ১৫টি স্থানে ভাঙনে প্রতিদিনই নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে বাদাম, ভুট্টা, ধান ক্ষেতসহ ফসলি জমি। এতে আতঙ্কে দিনযাপন করছেন কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা। তাই ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।
ভাঙনকবলিতরা জানান, দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে ধীরে ধীরে ধনাগোদা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে মতলব উত্তর উপজেলার চরমাছুয়া, চরলক্ষ্মীপুরের কয়েকশ একর ফসলি জমি। বিলীন হয়েছে বহু ঘরবাড়ি। এ ছাড়া ধনাগোদা নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে আমিরাবাদ, জহিরাবাদ, এখলাছপুর, গৌরিপুর, ষাটনল ও হাঁপানিয়া এলাকায়। এসব এলাকার বসতবাড়ি, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, মাজার ও ঈদগাঁ ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীর ভাঙনের শিকার হচ্ছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা। গত তিন মাস ধরে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। অনেক ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছে আকুতি করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি কেউ। বছরের পর বছর মিলেছে শুধু আশ্বাস। নদীবেষ্টিত চরলক্ষ্মীপুরের প্রায় পাঁচ হাজার বাসিন্দার অধিকাংশ মানুষই কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। নদী ভাঙনের কারণে এখানকার কৃষকরা প্রায় সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে। ভাঙনের যে তীব্রতা দেখা দিয়েছে, তাতে গ্রামবাসী এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
চরলক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা বৃদ্ধা হনুফা বেগম বলেন, ‘আমাগো বাড়ি ঘর সবই আছিলো, সবই দাইব্বা গেছেগা। বহু বছর ধইরাই ভাঙতাছে, আমাগো জমি রক্ষায় কোনও সরকার পদক্ষেপ নেই নাই। আমরা বাস্তুহারা মানুষের মতো জীবন যাপন করতাছি।’
এ গ্রামের আরেক বৃদ্ধা আমেনা বেগম বলেন, ‘নদীর এপার থেকে হেপার আইছি, এপারও ভাঙতাছে। কোনও সরকার পদক্ষেপ নেয় নাই। এহন দয়া কইরা যদি এই সরকার কিছু করে, আর নইলে আমাগো কোনও উপায় নাই। রাত অইলেই আমাগো অনেক ভয় লাগে, ঘুম আসে না। এন্দা ভাইঙা যায় গা, হেন্দা ভাইঙা যায়গা। ভাঙনের শিকার বারেক খান বলেন, ‘এলাকাটি মতলবের সুলতানাবাদ ইউনিয়নের চরলক্ষ্মীপুর গ্রাম। এর চারপাশ দিয়েই নদী। এখানে বর্তমানে আমরা দুই হাজার লোক বসবাস করি। আগে আরও বেশি ছিল। কিন্তু ভাঙনের কারণে অনেকে এলাকা ছেড়ে গেছেন। যাদের কোনও জায়গা জমি নাই, তারা বিপদে পড়ে বাঁধের ওপর ঠাঁই নিয়েছেন। ভাঙন আতঙ্কে থাকা যুবক হোসেন বেপারী বলেন, ‘নদী ভাঙনের কারণে কখন কী হয় বলা খুব মুশকিল। গত দুই মাসেও অনেক জমি নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। আমাদের এখানে একটি স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ ও কবরস্থান এখন ভাঙনের হুমকির মধ্যে রয়েছে। তাই অতি দ্রুত নদী ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।’
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি গোলাম নবী খোকন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ধনাগোদা নদীর ভাঙনে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুলসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানালেও কার্যকর তেমন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড মেঘনা ধনাগোদার নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম শাহেদ বলেন, ‘সরজমিনে আমরা ভাঙন কবলিত এলাকা দেখেছি। নদী ভাঙন রোধে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’ তিনি বলেন, ‘মেঘনার ধনাগোদা নদীর পাড়ে কয়েকটি স্পটকে ভাঙনকবলিত স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছি। ইতোমধ্যেই আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তা পাঠিয়েছি। আমরা কিছু বরাদ্দ চেয়েছি এবং সামান্য হলেও কিছু বরাদ্দ পাওয়া গেছে। কিছুদিনের মধ্যেই দরপত্র আহ্বান করে খুব দ্রুত আমরা কাজ শুরু করবো। তবে ইতোমধ্যে আমরা কালিপুর বাজার, হাঁপানিয়াসহ কয়েকটি এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে প্রটেকশন দেওয়া শুরু করেছি। ফরাজিকান্দি, জহিরাবাদ, চরমাছুয়া এবং চরলক্ষ্মীপুর এলাকায় খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও