তাজুল ইসলাম,স্টাফ রিপোর্টার : বুধবার ( ২১ মে) দুপুরে বিক্রমপুর জাদুঘর পরিদর্শন করেন শ্রীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী সোহেল তিনি বিক্রমপুর জাদুঘরের প্রতি তলার প্রত্যেকটি গ্যালারি ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং পরিদর্শন বইয়ে ভূয়সি প্রশংসা করে মন্তব্য লিখেন। এছাড়া তিনি বিক্রমপুর জাদুঘরের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন। বিক্রমপুর জাদুঘর এর পক্ষ থেকে জাদুঘরের কিউরেটর নাছির উদ্দিন আহমেদ আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য বিক্রমপুরের রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস। প্রাচীন পূর্ববঙ্গ বা সমতটের রাজধানী হিসেবে বিক্রমপুরের খ্যাতি কমপক্ষে ১২০০-১৫০০ বছরের। বিক্রমপুরের মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেছে হাজার বছর আগের নৌকা, কাঠের ভাস্কর্য, পাথরের ভাস্কর্য, টেরাকোটাসহ অসংখ্য অমূল্য প্রত্নবস্তু। এ ছাড়াও বিক্রমপুরের মাটিতে জন্মগ্রহণ করেছেন অনেক মনীষী। বিক্রমপুরের এইসব অতীত ইতিহাস, ঐতিহ্য, লোকজীবন, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও প্রত্ন নিদর্শনাদি সংরক্ষণ করা সর্বোপরি প্রদর্শনের জন্য সামাজিক সংগঠন ‘অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন’ মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল ইউনিয়ন এর উত্তর বালাসুর গ্রামের জমিদার যদুনাথ রায়ের ১৯৬৫ সাল থেকে পরিত্যক্ত বাড়িতে সরকার থেকে লিজ নিয়ে “বিক্রমপুর জাদুঘর” প্রতিষ্ঠা করে। সরকারকে বছরে দুই লাখ টাকা লিজের অর্থ পরিশোধ করে এছাড়া কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন বিদ্যুত বিল ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মিলে প্রতিমাসে প্রায় এক লক্ষ টাকার উপরে পরিশোধ করে জাদুঘরটি ১২ বছর যাবত পরিচালনা করে আসছে।
২০১০ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৩ একর জায়গা জুড়ে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও সরকারি অর্থায়নে এই প্রাঙ্গণে বিক্রমপুর জাদুঘর, গেস্ট হাউস- “পান্হশালা ‘থাইল্যান্ডের মতো বাংলাদেশে একমাত্র ‘’ নৌ জাদুঘর বা বোট মিউজিয়াম” ( Boat Museum) এবং শহীদ মুনীর-আজাদ স্মৃতি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিদিন শত শত দর্শক আসছে জাদুঘর পরির্দশন করতে। এটাই বিক্রমপুর জাদুঘরের সফলতা।
এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা সফর, সামাজিক সংগঠন, কর্পোরেট অফিসের উদ্যোগে জাদুঘর প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন হয়ে থাকে। একটি আঞ্চলিক জাদুঘর দেখতে দুর দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন এখানে। অনেক বিদেশী পর্যটক আসেন এখানে। এছাড়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি বর্গ প্রায়ই এই আঞ্চলিক জাদুঘরটি পরিদর্শন করতে আসেন।
তন্মধ্যে দেশী বিদেশী অনেক দর্শনার্থী আছেন কিছু তুলে ধরছি _সম্মানিত মন্ত্রী মহোদয়, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রিয় উপস্থাপক হানিফ সংকেত, এলজিইডি এর প্রধান প্রকৌশলী মোঃ খলিলুর রহমান সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অনেক সচিব, অতিরিক্ত সচিব, উপ-সচিব, বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারাকাত, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি বিশিষ্ট অভিনেত্রী সারা জাকের, কিউরেটর আমেনা বেগম, মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, স্থানীয় প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট কবি ও লেখক বিভিন্ন সময়ে বিক্রমপুর জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সহ ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশিষ্ট কবি, লেখক, বাচিক শিল্পী এবং পর্যটক এসেছেন বিক্রমপুর জাদুঘর পরিদর্শন করতে। অনেকে শুধুমাত্র বিক্রমপুর জাদুঘর পরিদর্শন করার জন্য ভারত থেকে এসেছেন।
মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি দুই সাংবাদিক দম্পতি পল কনেট ও তার স্ত্রী এলেন কনেট এসেছিলেন বিক্রমপুর জাদুঘর পরিদর্শন কালে সাথে ছিলেন তাদের বন্ধু বিচারপতি সামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক। মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারীতে তাদের ছবি ( পেপার কাটিং) দেখে অভিভূত হন। এছাড়া এখানে এসেছেন জাপানিজ সাংবাদিক মিকহিও ম্যাৎসুই, বিশ্বব্যাংক এর দক্ষিণ এশিয়া অবকাঠামো বিভাগের সিনিয়র ট্রান্সপোর্ট বিশেষজ্ঞ নাটালিয়া স্থানকে, ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মিসেস সুজান ভাইস, এটি আমাদের জন্য পরম পাওয়া তিনি বিক্রমপুর জাদুঘর প্রাঙ্গণ সম্পূর্ণ ঘুরে ঘুরে দেখেন ভবনগুলোর সংস্কার সহ বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন এবং পরামর্শ দেন। বিক্রমপুর জাদুঘর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে কিনা জানিনা কিন্তু তাদের খাতায় আমাদের নাম লিপিবদ্ধ হলো নিঃসন্দেহে এটি একটি বিক্রমপুরের মানুষের জন্য বিশাল প্রাপ্তি, আনন্দের সংবাদ।
পদ্মা সেতুর কাছে আড়িয়াল বিলের গা ঘেঁষে সবুজের মাঝে বিক্রমপুর জাদুঘর ও গেষ্ট হাউস প্রাঙ্গণে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে হাস্যোজ্জ্বল সময় কাটানোর জন্য মনোরম পরিবেশে আছে ভাগ্যকুলের সাবেক জমিদারের এই বাড়িতে অর্থাৎ উন্মুক্ত বিক্রমপুর জাদুঘর প্রাঙ্গণে। কিছুটা সময় নিজেদের মতো প্রকৃতির কাছাকাছি উপভোগ করার একটি চমৎকার যায়গা এই বিক্রমপুর জাদুঘর প্রাঙ্গণে বিভিন্ন কর্পোরেট অফিস, ব্যাংক, বীমা, আইনজীবী সমিতি, বিভিন্ন কোম্পানির বনভোজন,সেমিনার করে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা সফর, বিভিন্ন সাংবাদিক সমিতির ফ্যামিলি-ডে অনুষ্ঠান করেছেন এই উন্মুক্ত বিক্রমপুর জাদুঘর প্রাঙ্গণে।