• মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
হামলায় অবৈধভাবে ‘সাদা ফসফরাস’ ছুড়েছে ইসরায়েল রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে কমিটি; প্রজ্ঞাপন জারি সারাদেশে জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামছে ভ্রাম্যমাণ আদালত মধ্যপ্রাচ্য সংকট, শ্রমবাজারে নতুন চ্যালেঞ্জ ভর্তুকির চাপে দিশেহারা বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত শিক্ষাকে মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করতে চায় সরকার: শিক্ষামন্ত্রী রমজানের পরই সারাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তামাকের ‘প্রকাশ্যে ব্যবহার নিষিদ্ধ’ করার প্রস্তাব দেয়া হবে: তথ্যমন্ত্রী ভোজ্যতেলের দাম এক ফোঁটাও বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা

প্রভাত রিপোর্ট / ৯৭ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ৩ জুন, ২০২৫

মো.নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা: ঈদুল আজহা মানেই পশু কোরবানি। ঈদের মাত্র কয়েক দিন বাকি। ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে কোরবানির পশুর মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম চাপাতি, ছুরি, চাকু, দা ও বঁটি বানাতে কামারপল্লীতে টুংটাং শব্দে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাইবান্ধার কামারশিল্পীরা। কায়িক পরিশ্রমী এ পেশাজীবীদের কারখানায় চলছে হাপর টানা, পুড়ছে কয়লা ও জ্বলছে লোহা। হাতুড়ি পিটিয়ে কামারেরা তৈরি করছেন মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম। তাদের টুংটাং শব্দেই যেন জানান দিচ্ছে আর কিছুদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস সাইজ করতে ছুরি, চাপাতি, দা ও বঁটি অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ। সেগুলো সংগ্রহ এবং প্রস্তুত করে রাখতে এখন সবাই ব্যস্ত। আর এ উপকরণ তৈরি ও শান বা লবণ-পানি দেওয়ার কাজে প্রয়োজন কামারদের। পশু কোরবানির দা, ছুরি, চাপাতিসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে এখন থেকেই মানুষ কামারপাড়ায় আসছেন। আবার কেউ কেউ পুরনো সরঞ্জাম মেরামত অথবা শান দিয়ে নিচ্ছেন। বর্তমানে অধুনিক যন্ত্রপাতির প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠে এ শিল্প। শান দেওয়া নতুন দা, বঁটি, ছুরি ও চাকু সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকানের সামনে। দোকানের জ্বলন্ত আগুনের তাপে শরীর থেকে ঝরছে অবিরাম ঘাম। চোখে মুখে প্রচণ্ড ক্লান্তির ছাপ। তবু থেমে নেই তারা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে তাদের কর্ম ব্যস্ততা। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে বিক্রি খুব কম। সারা দিন কঠোর পরিশ্রম করলেও তাদের মুখে নেই কোনো উচ্ছ্বাস, নেই প্রাণভরা হাসি। তারপরও আসন্ন কোরবানির ঈদের কথা মাথায় রেখে নতুন আশায় বুক বেঁধে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পীরা। হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে কামারের দোকান গুলো। ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত চলবে এমন কর্মব্যস্ততা। কিন্তু অনেকেই আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান সময়ে কয়লা, লোহাসহ সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লোহার জিনিসপত্র তৈরি করলেও তেমন কোনো লাভ হয় না। অনেক সময় কয়লা একেবারেই পাওয়া যায় না। কী আর করব পূর্বপুরুষের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই হবে। গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার উল্লা বাজারের কামার শহিদুল ইসলাম জানান, লোহা পিটিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা আমার পেশা।বাপ দাদার পৈত্রিক সূত্রে আমি এই পেশায় জড়িত। একটি মাঝাড়ি ধরণের দা ও কাটারি তৈরি করে ওজন অনুযায়ী ৩শ থেকে ৪শ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হয়। সারা দিন হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে যে কয়টি জিনিস তৈরি করি তা বিক্রয় করে খুব বেশি লাভ না হলেও পরিবার-পরিজন নিয়ে ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার স্বার্থে এই পেশা আমি ধরে রেখেছি। তবে সাড়া বছর কাজ-কর্মের ব্যস্ততা তেমন না থাকলেও কুরবানীর ঈদকে সামনে রেখে আমার কাজের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে।হাটে আসা এক ক্রেতা বলেন, আগের চাইতে দা -ছুরি, এই গুলো জিনিস দাম বেশি।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও