আজ
|| ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
শেরপুর সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ২১ রোহিঙ্গাকে পুশ-ইন করেছে বিএসএফ
প্রকাশের তারিখঃ ২৫ জুলাই, ২০২৫
মো. নমশের আলম, শেরপুর : ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ আবারও ২১ রোহিঙ্গাকে পুশ-ইন করেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ২১ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে বাংলাদেশে পুশ-ইন করে।
স্থানীয় হাতিপাগার বিজিবি ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, রাত প্রায় ১টা ১৫ মিনিটের দিকে সীমান্তের ১১১৬ নম্বর মেইন পিলার এলাকা দিয়ে ভারতীয় কিল্লাপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের ঠেলে পাঠায়। পরে সীমান্তে টহলরত বিজিবি সদস্যরা ওই রোহিঙ্গাদের আটক করে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাকুগাঁও মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করেন।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন প্রাপ্ত বয়স্ক ৫জন পুরুষ, ৫জন নারী এবং ১১ জন অপ্রাপ্ত শিশু। এরা হলো- সাব্বির (৪০), শামসুল আলম (৪৩), হাতেমা বেগম (৪০), সেতারা বেগম (৩৫), রোমানা বেগম (২৪), রবি খানম (২৪), হাসিনা বেগম (২২), আবসার (১৭), নুরুল জিন্নাত আরা (১৫), নুরুল ইসলাম (১৩), সিরাজ (১১), ত্বোহা (৯), আজিজুল ওসমান (৯), বোরহান (৮), আয়েশা বিবি (০৬), নূর তাজোল (৪), রিয়াজ (৪), শাহিনা আক্তার (৩), আরমান (১), শুকতারা (৪ মাস), ও একজন বাক প্রতিবন্ধী।
এই ঘটনায় ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদি হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “রাতের আঁধারে কৌশলে পুশ-ইন করা হয়েছে। আটক রোহিঙ্গারা মোট ছয়টি পরিবারের সদস্য।"
বিজিবি আরও জানায়, "তারা ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনা অভিযানের সময় কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছিল। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে চলে যায় এবং সেখানে হোটেল ও বাসাবাড়িতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। প্রায় এক মাস আগে ভারতীয় পুলিশের অভিযানে তারা আটক হয়। পরে ভারতীয় প্রশাসন তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করলে তারা রোহিঙ্গাদের বিনা নোটিশে বাংলাদেশে পুশ-ইন করে দেয়। এর আগে গত ১১ জুলাই একই উপজেলার পানিহাতা সীমান্ত দিয়েও বিএসএফ ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পুশ-ইন আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং বাংলাদেশের জন্য চরম মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি করতে পারে।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.