আজ
|| ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
হারিয়ে যাচ্ছে মধুমাসের দেশী ফল
প্রকাশের তারিখঃ ২৫ জুলাই, ২০২৫
নাসির আহমেদ,দশমিনা: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে মধুমাস জ্যৈষ্ঠের দেশী ফল দিন দিন হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে। এক সময়ে উপজেলার গ্রামাঞ্চলে গ্রামীন ঐতিহ্য ও বাংলার দামাল ছেলে-মেয়েদের কাছে ফলগুলো বেশ পছন্দের ছিল। একই সঙ্গে দেশী ফলগুলো বেশ পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিদেশী বিভিন্ন ধরনের ফলের ভিড়ে ঐতিহ্যবাহী দেশী ফলগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে।
উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে গ্রামাঞ্চলে আশি কিংবা নব্বইয়ের দশকে দেশী ফলের সমাহার ছিল। গাছ ভর্তি দেশী ফল দেখে সকলেই খুশি হতো এবং অতিথি আপ্যায়নে ব্যস্ত হয়ে পড়তো। দেশী ফলের মধ্যে আম, জাম, কাঠাল, শরীফা, আতা, গোলাপজাম, ডেঊয়া, তৈকর, বেতফল, কাউফল, ফলসা,বৈচিফল,গাব,জামফল আজ বিলুপ্তি পথে চলে যাচ্ছে। এই সব দেশী প্রজাতির ফলগাছগুলো প্রকৃতির বুকে টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনই মনে করেনি। বিদেশী নানা জাতের ফলের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় দেশী প্রজাতির গাছগুলো অবাধে কেটে ফেলেছে। মানুষের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অল্প সময়ে অধিক ফলনের আশায় হাইব্রিড ফলগাছ রোপন করছে। ফলে বিদেশী ফলের গাছের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় কৃষি উদ্যোক্তরা দেশী ফলের গাছ রোপন করছে না।
উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলে এখন আর আগের মত দেশী ফলের গাছ চোখে পড়ছে না। গ্রামীন রাস্তার দুই পাশে সারি সারি ফলের গাছ এখন আর আগের মতন নেই। আবাদি কিংবা অনাবাদি জমি ও বসতঘরের আশেপাশে ফলের গাছ থাকলেও মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে কেটে ফেলেছে। অনেকে গাছ কেটে জা¦লানী হিসাবে বা টাকার জন্য অল্প দামে বিক্রি করে দিয়েছে। ফলে কালক্রমে ধীরে ধীরে দেশী ফলের গাছের সংখ্যা কমে গেছে। বানিজ্যিক ভাবে এখন আর কেউ রোপন করছে না। এই গাছ রাস্তা, বসতঘর, আবাদি কিংবা অনাবাদি জমির আশেপাশে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে থাকে। প্রায় আশি ও নব্বইয়ের দশকে গ্রামাঞ্চলে সারি সারি নানা প্রজাতির দেশী ফলের গাছ ছিল। গ্রাম বাংলায় এখন আর এই দৃশ্য দেখা যায় না। দেশী ফলের মধ্যে আম, জাম, কাঠাল, শরীফা, আতা, গোলাপজাম, ডেঊয়া, তৈকর, বেতফল, কাউফল, ফলসা, বৈচিফল, গাব ও জামফলের গাছ কমতে থাকায় ফলও আজ বিলুপ্তি দিকে চলে যাচ্ছে।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.