আজ
|| ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
চালের মূল্যবৃদ্ধি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ক্রেতাদের
প্রকাশের তারিখঃ ২৮ জুলাই, ২০২৫
প্রভাত রিপোর্ট: জিইডির বিশ্লেষণে বলা হয়, গত জুন মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে ৫০ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভূমিকা রেখেছে চালের দাম বৃদ্ধি। আর ৩২ দশমিক ৩৭ শতাংশ ভূমিকা মাছের দাম বৃদ্ধিতে। তাছাড়া খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে অন্য আইটেমগুলোর মধ্যে ১১ দশমিক ৫৭ শতাংশ অবদান ফলের বাজারের, ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ তেল কেনায়, ২ দশমিক ৬ শতাংশ দুধ কেনায় এবং শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ মাংস কেনায়।
চালের দামের বিশ্লেষণে দেখানো হয়েছে, জুন মাসে সামগ্রিক খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে মাঝারি চালের অবদান ২৫ শতাংশ। মোটা চালের অবদান মোট অবদানের ১৭.৮২ শতাংশ। চালের ভোক্তা মূল্য সূচকের পরিবর্তনের প্রবণতা দেখে, জুন মাসে তিনটি জাত মাঝারি, মিহি এবং মোটা ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
সংস্থাটি বলছে, গত ১২ মাসে ধানের জাতের মূল্যস্ফীতি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বোরো ধানের ফলন সামগ্রিক চালের দামের ওপর মোটেও প্রভাব ফেলেনি। মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) কর্তৃক ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ‘শস্য এবং খাদ্য আপডেট’ প্রতিবেদন অনুসারে, মোটা চালের গড় দাম গত দশকের মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বরে সর্বোচ্চে পৌঁছে ছিল। উপকরণের দাম বৃদ্ধি (সার, বীজ, শ্রমিক, সেচ), ফসল কাটার পর ধানের ক্ষতি ২৬ শতাংশ, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, সাম্প্রতিক সময়ে চালের দামের অনিশ্চয়তা এবং অস্থিরতা এবং উচ্চমূল্য প্রত্যাশার কারণে মজুদদারির প্রবণতার মতো কারণগুলো এই পরিস্থিতির কারণ হতে পারে। বাজারে সরবরাহের প্রকৃত ঘাটতি আছে নাকি সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটছে, তা আরও তদন্তের দাবি রাখে বলে মত দিয়েছে জিইডি।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে গড় মূল্যস্ফীতি ও খাদ্য মূল্যস্ফীতি ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। জানুয়ারি-জুন ষাণ¥াসিকের মুদ্রানীতি অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুনের শেষে ৭-৮ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু মূল্যস্ফীতি কমার সুখবরের পাশাপাশি উদ্বেগ রয়েছে প্রধান খাদ্যপণ্য চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে। মাসিক খরচের ক্ষেত্রে, মানুষের সবচেয়ে বেশি খরচ হয় খাবারে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সর্বশেষ ইকোনমিক আপডেট প্রতিবেদনে এসব বিশ্লেষণ উঠে এসেছে।
ইলিশ মাছ, বেগুন, সয়াবিন তেল এবং টমেটোসহ অন্যান্য পণ্যগুলো উচ্চ মূল্যবৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। তবে এখন স্বস্তির বিষয় হলো যে, মুদ্রাস্ফীতি ৮.৪৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর প্রথমবারের মতো ৯ শতাংশের নিচে। ২০২৫ সালের জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭.৩৯ শতাংশ ও ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ৮ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ গত ছয় মাস ধরে ১০ শতাংশ নীতিগত রেপো রেট বজায় রেখেছে। কঠোর আর্থিক অবস্থান এবং অন্যান্য কারণগুলো বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি হ্রাসে অবদান রেখেছে, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রায় ৭ শতাংশ ছিল, যা ২০২৫ সালের মে মাসে ৭.১৫ শতাংশ এবং ৭.১৭ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে, এফএও শস্যের মূল্যসূচক গড়ে ১০৭.৪ পয়েন্ট ছিল, যা কভিড সময়কালে সেপ্টেম্বর ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন।
অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত মুদ্রাস্ফীতি স্থিতিশীল রয়েছে, যদিও ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে তা কিছুটা হ্রাস পাচ্ছে। বিস্তৃত খাদ্যবহির্ভূত শ্রেণির মধ্যে, জুন মাসে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়, তামাক ও মাদকদ্রব্য ১৭.৫৫ শতাংশ, পোশাক ও পাদুকা ১৫.৪০ শতাংশ, রেস্তোরাঁ ও হোটেল ১১.০৯ শতাংশ, বিবিধ পণ্য ও পরিষেবা ১৫.২৫ শতাংশ দ্বি-অঙ্কের মুদ্রাস্ফীতি রেকর্ড করেছে। সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিতে খাদ্যের অবদান আগের মাসের ৪২.৬ শতাংশের তুলনায় ৩৯ শতাংশে কমেছে, যেখানে বিবিধ ও আবাসন খাতের অবদান এক শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.