আজ
|| ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
দশমিনা নদী ভাঙ্গন রোধে ইউএনও’র ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস
প্রকাশের তারিখঃ ১ আগস্ট, ২০২৫
প্রভাত সংবাদদাতা, দশমিনা: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় নদী পথে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হলো হাজীরহাট লঞ্চঘাট। ক্রমান্বয়ে তেঁতুলিয়ার কড়ালগ্রাসে ভাঙ্গনে ছোট হয়ে আসছে হাজির হাট লঞ্চঘাট এলাকা। কোন টিকসই ব্যবস্থাপনা না থাকায় ১০ বছরে প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা ভেঙ্গে তেঁতুলিয়ার গ্রাস করেছে। চরাঞ্চলে টিকসই বেরিবাঁধ না থাকায় হাজার একর ফসলি জমি সামান্য বন্যা হলেই পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে প্রান্তিক কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। চলাচলের রাস্তা অনপুযোগি হয়ে পড়ে। বিপাকে পরে চরাঞ্চলের সাধারণ জনগন।
সরজমিনে দেখা যায় গত ২৫ জুলাই বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে উপজেলার চরাঞ্চলসহ নিচু এলাকার চরহাদী, আজমাইন, শাহজালাল, চরবোরহান, মায়ারচর, চরভুতুম’র কৃষি জমি, স্কুল, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি তলিয়ে যায় এবং উপজেলা একমাত্র বানিজ্যিক এলাকা হাজির হাট ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চরাঞ্চলের সাধারণ জনগনের দাবি আমাদের চরাঞ্চলের কৃষকদের বাচঁতে হলে বেরি বাঁধ এর বিকল্প নাই। বেরিবাঁধ না থাকায় প্রতি বছর কৃষক হাজার হাজার একর জমির ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। এতে কৃষক লোকসানের মধ্যে পরে।। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পরিদর্শন করেছেন।
চরহাদী এলাকার কৃষক লালমিয়া জানান,আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি চরাঞ্চল এলকায় বেরিবাঁধ নির্মানের। ভোট আসলে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বেরিবাঁধসহ নানান প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলেও ভোট গেলে আর আমাদের কথা মনে থাকে না। আমাদের কথা কেহই শোনে না। বন্যা হলে উপজেলার সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। থেকে পানি বন্দি চরাঞ্চলের হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট পানির চাপে বিলীন হয়ে গেছে। বেরিবাঁধ থাকলে আমাদের এই সকল ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতাম। হাজীরহাট নিবাসি মৎস্য ব্যবসায়ী সৈয়দ প্যাদা ও নেছার রাড়ি দৈনিক সংবাদ পত্রিকাকে বলেন, হাজিরহাট একটি বানিজ্যিক এলাকা। এখানে ঢাকা থেকে লঞ্চ আসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ২শত মুদি, গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর মালামাল আসে। তেঁতুলিয়ার কড়াল গ্রাসে ছোট হয়ে আসছে হাজিরহাট। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা না নিলে আগামী এক মাসের মধ্যে তেঁতুলিয়ার গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে হাজিরহাট। তাই আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরতিজা হাসান বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়কে সার্বিক বিষয় জানিয়েছি। এই কাজ উপজেলা প্রশাসনের নয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের। আমি হাজিরহাট এলাকায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার ভাঙ্গন রোধে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন পাঠিয়ে দিবো। এলাকাবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলে আশা প্রকাশ করছে।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.