• শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বিশ্বরাজনীতির মাঠে ধীরে ধীরে বন্ধুহীন হয়ে পড়ল পাকিস্তান দেশে এলো সেই ‘বুলেটপ্রুফ গাড়ি’, নিবন্ধন বিএনপির নামে খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে জুবাইদা রহমান শারীরিক অবস্থা ঠিক থাকলে রোববার খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেয়া হবে বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ গাড়ি অরাস সেনাটে চড়েন পুতিন অল দ্য প্রেসিডেন্টস মেন : পুতিন ঘিরে থাকে যে ‘ছায়াবাহিনী’ বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ কয়েকটি সংগঠনের বিক্ষোভমিছিলে পুলিশের লাঠিপেটা, কয়েকজন আহত নেইমারের মাঠে নামাই এখন বড় খবর, তারপরও হ্যাটট্রিক এমবাপ্পে জাদুতে বিলবাও হেরেছে ৩–০ গোলে, জয়ে ফিরল রিয়াল চেলসির হার লিভারপুলের ড্র, ব্যবধান বাড়াচ্ছে আর্সেনাল

নিকলীর সন্তান নাজমুলের ইংলিশ চ্যানেল জয়

প্রভাত রিপোর্ট / ১৬১ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫

প্রভাত সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত নিকলীতে পানির সঙ্গে বেড়ে ওঠা এক তরুণ তার ছোটবেলার লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। দীর্ঘ ৩৭ বছর পর ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে গৌরবের আসনে বসিয়েছেন কিশোরগঞ্জের নিকলীর সন্তান নাজমুল হক হিমেল। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আবারও লেখা হলো গর্বের নতুন অধ্যায় এই চ্যানেল জয় শুধু একটি ব্যক্তির নয়, এটি একটি জাতির অর্জন। বহু প্রতীক্ষিত সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলেন হিমেল। তার এ সাফল্য পুরো জাতিকে গর্বিত করেছে। গত ২৯ জুলাই যুক্তরাজ্যের সময় বিকেল ৩টায় এই চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়ে সফলভাবে ৩৩.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেন হিমেল। গলায় পরেন ইংলিশ চ্যানেল জয়ের মালা।
ইংলিশ চ্যানেল হলো যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যবর্তী সমুদ্রপ্রণালী। এই প্রণালীর দূরত্ব ৩৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার। এটি সাঁতরে পাড়ি দিয়েছেন নাজমুল হক হিমেল। ১৯৮৭ সালে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়েছিলেন আরেক বাংলাদেশি মোশাররফ হোসেন। এরপর ২০২৫ সালে এসে পাড়ি দিলেন নাজমুল হক হিমেল।
স্থানীয় ও নিকলী সুইমিং ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের নিকলী মীরহাটি গ্রামে জন্ম নাজমুল হক হিমেলের হাওরেই বেড়ে ওঠা। ১৯৯৭ সালে বাবা আবুল হাসেমের মাধ্যমে সাঁতারে হাতেখড়ি। আবুল হাসেম ছিলেন আশির দশকের জাতীয় সাঁতারু। জাতীয় সুইমিং ফেডারেশনের সাবেক সদস্য ও নিকলী সুইমিং ক্লাবের কোচ। চার ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় হিমেল। সাঁতারুর প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সাঁতারে হাতেখড়ি সাবেক সাঁতারু মো. সোলায়মানের মাধ্যমে ১৯৯৮ সালে। তারপর জাপানি কোচের অধীনে ছিলেন তিন বছর। পরের সময়টুকু চীনা কোচের অধীনে। সাঁতারের পথচলায় সব মিলে ১০ বছর এই তিনজনের অধীনেই ছিলেন হিমেল।
এ সময়ের মধ্যে ১৯৯৮ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতারে ২০টি স্বর্ণ, ১৫টি রৌপ্য পদক নিজের ঝুলিতে পুরেছেন এই সাঁতারু। ২০০৬ সালে বয়স গ্রুপে নির্বাচিত হয়েছেন সেরা সাঁতারু। ২০০৬ থেকে ২০০৮ সালে জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় অর্জন পাঁচটি স্বর্ণ ও চারটি রৌপ্যপদক। এই সময়কালে বয়সভিত্তিক সাঁতারে গড়েছেন ছয়টি জাতীয় রেকর্ড। ২০০৮ সালে ঢাকায় দ্বিতীয় ইন্দো-বাংলা গেমসে এক স্বর্ণ ও দুই রৌপ্য জয় করেন।
আরও জানা যায়, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিকেএসপি থেকে ২০০৬ সালে এসএসসি ও ২০০৮ সালে এইচএসসি পাস করার পর হিমেল উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান চীনে। সেখানে বেইজিং স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি থেকে ২০০৯-২০১৩ সেশনে শারীরিক শিক্ষায় স্নাতক ডিগ্রি লাভকরেন। একই বিষয়ে ২০১৩-২০১৬ মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। এই সময়ের মধ্যে অল বেইজিং ইন্টারন্যাশনাল ফরেন স্টুডেন্টস সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১২-তে চ্যাম্পিয়ন, ২০১২ ও ১৩ সালে ৮০০ মিটার ওপেন ওয়াটার চ্যাম্পিয়নশিপ কুনমিং, চীনে এক স্বর্ণ এক রৌপ্য জয় করেন।
বিজয়ের অনুভূতি শেয়ার করে নাজমুল হক হিমেল বলেন, আমি সত্যিই অনেক আবেগ আপ্লুত। এ অনুভূতি বোঝানোর ভাষা ঠিক এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই। ছোট একটা মেডেল কিন্তু এর ওজন এত ভারী যা আমার অনুভূতির বাইরে। ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন ছিল। আটলান্টিক মহাসাগরে সাঁতার কাটতে নামার আগে অনেক গবেষণা করেছেন। সবচেয়ে বড় বাধা ছিল ঠান্ডা পানি, জেলিফিশ ও সি সিকনেস। জেলিফিশ দেখে কিছুটা ভয় লেগেছিল। কারণ সংস্পর্শে লাগলে চামড়ার সঙ্গে লেগে যেত। এটি খুবই রোমাঞ্চকর এক অভিজ্ঞতা ছিল।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও