• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নাজিরপুরে গভীর রাতে বাড়ির মালিক-ডাকাতদের সংঘর্ষে নিহত-১, আহত ২ ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়লো ২১২ টাকা সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ ও অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা এলপিজি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার: বিদ্যুৎমন্ত্রী আইএমএফ’র সব শর্তে একমত নাও হতে পারে সরকার : অর্থমন্ত্রী নগরবাসীকে এখন বইতে হবে বাড়তি খরচের বোঝা সরকার বাধ্য হয়েই তেলের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানিমন্ত্রী সরকার বলছে সংকট নেই, তবে পাম্পে ৩ কিমি লাইন কেন? ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন ঋতুপর্ণা-নিয়াজ মোর্শেদরা, নেই হামজা-সামিত অতীতে কেউ ছাত্রলীগ করলেও এনসিপিতে যোগ দিতে পারবে: নাহিদ ইসলাম

ডাকসু নির্বাচনে তিন ভাগে বিভক্ত বৈষম্যবিরোধী সমন্বয়করা

প্রভাত রিপোর্ট / ২০০ বার
আপডেট : বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫

প্রভাত রিপোর্ট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ঘিরে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়করা। তিনটি ভিন্ন ভিন্ন প্যানেল থেকে প্রার্থী হয়েছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে দলের অমতে প্রার্থী হওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকার দল থেকে বহিষ্কারও হয়েছেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৫ নম্বর সমন্বয়ক ছিলেন।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব যারা দিয়েছেন তারা ছাত্র সংসদ নির্বাচনে চমক দেখাতে পারলে এনসিপির রাজনীতিতে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে, এমন ধারণা এনসিপি নেতাদের মধ্যে শুরু থেকে ছিল। যে কারণে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে যে সব আন্দোলন হয়েছে, সেখানে নেতৃত্বেও ছিলেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা। কিন্তু ডাকসুর নির্বাচনি প্রক্রিয়া শুরুর পর দেখা গেছে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী ও এনসিপির কেউ কেউ আলাদা তিনটি প্যানেলে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
এতে অন্তত এটি স্পষ্ট হচ্ছে যে একদিকে যেমন নিজ দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে এনসিপি, অন্যদিকে অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বিভেদ আরো স্পষ্ট হচ্ছে। তবে কোন্দল বা বিরোধ হিসেবে না দেখে একে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হিসেবেই দেখছে এনসিপি।
এনসিপির সদস্য সচিব ও ডাকসুর সাবেক নেতা আখতার হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘ক্যাম্পাসগুলোয় আবহ তৈরি হয়েছে। ভয়ের পরিবেশ নাই। যে কারণে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যে কোনো দলের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখতে হলে অনেকগুলো শর্তের প্রয়োজন হয়। যেটি এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বের মধ্যে না থাকায় ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিরোধ ও বিভেদ বাড়ছে অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
গত বছরের জুলাই-আগস্টে কোটা সংস্কারের দাবিতে সারাদেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল অরাজনৈতিক প্লাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তীব্র আন্দোলনে অসংখ্য প্রাণহানির পর গত বছরের ৩ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের এক দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সারাদেশের ক্যাম্পাসগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। পরে ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে। এরই মধ্যে ছাত্রদল, ছাত্র শিবির, বামজোটসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা মনোনয়ন সংগ্রহ করেছে।
এর পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের গঠিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদও (বাগছাস) ডাকসু নির্বাচনের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছে। তারা বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলে নির্বাচন করবে। এই প্যানেলে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) পদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক দুই সমন্বয়ক আব্দুল কাদের ভিপি পদে এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে আবু বাকের মজুমদার মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। এই প্যানেল থেকে এজিএস পদে আশরেফা খাতুন নির্বাচন করবেন। এর মধ্যে আব্দুল কাদের ও আবু বাকের মজুমদার দুজনই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক। আবু বাকের মজুমদার বর্তমানে বাগছাসের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও আব্দুল কাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
উমামা ভিপি পদে নির্বাচন করবেন। তার প্যানেলে জিএস ও এজিএস পদের জন্য আলোচনায় আছেন আল সাদী ভূঁইয়া ও মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহি। তারা দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) নেতা। সাদী ডুজার সদ্য সাবেক সভাপতি আর মাহি বর্তমান কমিটির সভাপতি। দুজনই বর্তমানে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) কর্মরত।
ডাকসু নির্বাচন ঘিরে কেন্দ্রীয় নেতাকে বহিষ্কার কিংবা তিনটি প্যানেলে বিভক্ত হলেও এনসিপির এই নেতা মনে করছেন তা দলের জন্য বড় কোনো সংকট তৈরি করবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য না থাকার কারণে দলের মধ্যে শুরু থেকে কোন্দল ও বিভেদ স্পষ্ট হয়েছে। যেটি আরো প্রকট হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘিরে।
বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘এনসিপির রাজনৈতিক লক্ষ্য বা কর্মসূচি এখনো স্পষ্ট না। বহু তারা যদি তাদের রাজনীতি স্পষ্ট না করে তাহলে তো টেকার কোনো কারণ দেখি না।’ ফলে দলটিতে ভবিষ্যতেও দলটি এরকম সংকটের মুখোমুখি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও