নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা : হোটেলের নাম মেহেরাজ। এখানে ১০ রকমের ভর্তা, গরুর মাংসসহ পেট ভরে দুপুরের খাবার। সব মিলিয়ে দাম পড়বে ১৫০ টাকা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে এত কম টাকায় এতগুলো পদ খেতে অনেকেই ভিড় করছেন হোটেলটিতে। হোটেলটির অবস্থান গাইবান্ধা-ফুলছড়ি সড়কের সদর উপজেলার বোয়ালি ইউনিয়নের নশরৎপুর গ্রামে। স্থানীয়ভাবে অনেকেই বলেন পেট চুক্তির হোটেল, আবার কেউ বলেন ভর্তা-ভাতের হোটেল।
গত শনিবার হোটেলের সামনে গিয়ে দেখা যায়, দুপুরের খাবার খেতে আসা লোকজনের উপচে পড়া ভিড়। হোটেলের ভেতরে টেবিল-চেয়ার ও বেঞ্চে বসে সবাই খাচ্ছেন। হোটেলের বাহিরে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা। দূরদূরান্ত থেকে লোকজন মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসে করে খেতে আসছেন এখানে। হোটেলের সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে দুপুরের খাবার সেরে নিচ্ছেন অনেকেই। কেউবা পরিবার-পরিজন নিয়ে, আবার অনেকে বন্ধু-বান্ধবসহ।
খাওয়া শেষে কথা হয় গাইবান্ধাসদর উপজেলার কুঠিপাড়া গ্রামের রাসেল মিয়ার সাথে। তিনি জানান, গাইবান্ধা শহরে আসলে কাজ সেরে যাওয়ার পথে মেহেরাজ হোটেলে দুপুরের খাবার খেয়েই বাড়িতে রওনা দেই। আসলে এখানে বাড়ির মতই খাবার পরিবেশন করা হয়। খাবার স্বাদটাও আলাদা রকমের।
জেলাশহরে ব্যবসায়ি মোঃ রুকু নামের এক যুবক। তিনি জানান, ‘প্রায়ই দোকানের মালপত্র নিতে জেলা শহরে যেতে হয়। শহরে এলেই এ হোটেলে খেতে আসি। এখানে ঘরোয়া পরিবেশে রান্না ও রুচিসম্মত খাবার পরিবেশন করা হয়। কম টাকায় ১০ রকমের ভর্তা ও গরুর মাংস দিয়ে পেট ভরে ভাত খেয়ে খুব ভালো লাগে। এই হোটেলে যে খাবার পরিবেশন করে ১৫০ টাকা নেওয়া হয়, শহরের অন্য কোনো হোটেলে এর দাম অনেক বেশি।’
নশরৎপুর গ্রামের অসচ্ছল আমান মিয়া (৬৫) প্রায় পাঁচ বছর আগে ছোট্ট একটি কুঁড়েঘরে হোটেল ব্যবসা শুরু করেন। শুরুতে ১০ রকমের ভর্তা, গরুর মাংসসহ পেট ভরে খেতে নেওয়া হতো ১০০ টাকা। তারপর ১৩০ টাকা, বর্তমানে ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এই টাকায় যে কেউ পেট ভরে চিকন চালের ভাত, তরকারি হিসেবে চার টুকরা গরুর মাংস এবং ১০ রকমের ভর্তা (বাদাম, তিল, তিসি, কালিজিরা, আলু, মাছ, শুঁটকি, রসুন, কাঁচা কলা ও বেগুন) খেতে পারেন।
তিনি আরও জানান, প্রতিদিন এক মণ গরুর মাংস ও দেড় মণ চালের ভাত রান্না করা হয়। হোটেলে বেতনভুক্ত কোনো কর্মচারী নেই। তাঁর স্ত্রীসহ পরিবারের সাত সদস্য মিলে হোটেল পরিচালনা করেন। নারীরা রান্নার কাজ করেন। আর পরিবেশন করেন পুরুষেরা। এখানে কাউকে বেতন দিতে হয় না বলে অল্প দামে ভালো মানের খাবার দিতে পারেন বলে তিনি জানালেন।
এ প্রসঙ্গে বোয়ালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, জেলাব্যাপি নশরৎপুরের এ হোটেলটির সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা শহর থেকে শুরু করে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন এখানে খেতে আসে। দুপুরেতো এখানে ভীর জমে যায়। এ উদ্যোগের কারণে আমান মিয়া নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, সাধারণ মানুষও ভালো মানের খাবার পাচ্ছেন।