আজ
|| ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
ট্যাগ, ট্রল ও শেমিংয়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন ডাকসুর নারী প্রার্থীরা
প্রকাশের তারিখঃ ৩১ আগস্ট, ২০২৫
প্রভাত রিপোর্ট: নারী প্রার্থীরা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন এবং এখনও লড়াই করে টিকে রয়েছেন। কখনো ‘শাহবাগী’, কখনো ‘হিজাবি’Íএমন নানা ট্যাগ এরই মধ্যে লেগেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের গায়ে। বাদ পড়ছেন না পুরুষ প্রার্থীরাও। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শত শত মন্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নারী প্রার্থীদের প্রতিই বেশি বুলিং ও হয়রানি চলছে। অনেকেই নারীবিদ্বেষী মনোভাব থেকে আবার অনেকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে এসব করছেন।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের নিচে ২৯টি মন্তব্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশই কুরুচিপূর্ণ ও গালিগালাজে ভরা। ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমাকে উদ্দেশ্য করে ‘শাহবাগী’ ট্যাগ থেকে শুরু করে নোংরা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যÍকোনো কিছুই বাদ যায়নি। নারী হয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে প্রার্থী হওয়াকেও অনেকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে ডাকসু নির্বাচন। এবার ২৮টি পদের জন্য লড়ছেন ৪৭১ জন প্রার্থী, এর মধ্যে ৬২ জন নারী। ভিপি, জিএস, এজিএসসহ সম্পাদকীয় ও হল সংসদের বিভিন্ন পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা। নারী প্রার্থীরা বলছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত আক্রমণ, যৌন হয়রানি ও কৌশলগত ‘ক্যারেক্টার অ্যাটাক’-এর শিকার হচ্ছেন।
উমামা ফাতেমা বলেন, “অনলাইনে হয়রানির বিষয়ে আমি অভ্যস্ত হয়ে গেছি। মানসিক শক্তি দিয়েই এসব মোকাবিলা করি। তবে অনলাইন হয়রানির কারণে অনেক মেয়ে রাজনীতিতে আসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনেও অনেকেই তাই অংশ নেননি।”
একই অভিযোগ করেন ভিপি প্রার্থী তাসনিম আফরোজ ইমি। তার ভাষায়, “সবচেয়ে বেশি হয়রানি হচ্ছে অনলাইনে, আর তা নারী প্রার্থীদের বিরুদ্ধেই। বিপক্ষ মতাদর্শের লোকজন ইচ্ছাকৃতভাবে এসব করছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
নারী প্রার্থীদের অভিযোগ, অনলাইন ট্রল ও গুজবই এবারের নির্বাচনে তাদের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুয়া আইডি থেকে মিথ্যা তথ্য, বিকৃত ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা ভোটারদের প্রভাবিত করছে এবং নির্বাচনী পরিবেশকে কলুষিত করছে। মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী ফাহমিদা আলম বলেন, আমার বক্তব্যের নিচে বডি শেমিং ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে। আসলে উদ্দেশ্য একটাইÍমেয়েদের রাজনীতি থেকে দূরে সরানো। তবে এতসব আক্রমণের পরও নারী প্রার্থীরা বলছেন, তারা থেমে থাকবেন না। বাধা-বিপত্তি পেরিয়েই তারা নির্বাচনী মাঠে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের বিশ্বাস, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসব নেতিবাচক প্রচারণা পাশ কাটিয়ে যোগ্য নেতৃত্বকেই বেছে নেবেন।
নারী প্রার্থীদের হয়রানির বিষয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, নারীদের বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের ‘সাইবার সহিংসতা’ চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, বাস্তব জগতের মতো অনলাইনেও নারীদের প্রতি যৌন সহিংসতা বেড়েছে। বিশেষ করে ডাকসু নির্বাচন কেন্দ্র করে এটি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে নারীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। মালেকা বানু আরও বলেন, সাইবার সহিংসতার বিরুদ্ধে আইন থাকলেও তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না। দায়বদ্ধতার অভাবে অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.