জাকির হোসেন,রায়পুর: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আধুনিক পৌরসভার দাবি থাকলেও বাস্তবে চিত্র একেবারেই ভিন্ন। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা ও দীর্ঘদিন সড়ক সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে থানার সামনে থেকে নতুন বাজার ও খেজুরতলা পৌরসভার সড়ক। সড়কটির পাশে উপজেলা পরিষদ, থানা, বেসরকারি একাধিক হাসপাতাল ও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চলাচলকারীদের।
সরেজমিন দেখা যায়, ড্রেনেজ ব্যবস্থার না থাকায় সড়কটির অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয় হাঁটু সমান জলাবদ্ধতা। দেখে বোঝার উপায় নাই এটি সড়ক নাকি খাল। উপায়ন্ত না পেয়ে ও বিকল্প সড়ক না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে পথচারী, শিক্ষার্থী, অফিসগামী, রোগীসহ বিভিন্ন যানবাহন। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এছাড়া একই অবস্থা নতুন বাজার ও মহিলা কলেজ সড়কেরও। জনদুর্ভোগ লাগবে দ্রুত এই সড়ক সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় আরিফ নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন ইউএনও, পৌর প্রশাসক , প্রকৌশলী, ওসিসহ উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রোগীসহ হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। প্রসূতি মাসহ অসুস্থ রোগীদেরও এই সড়ক দিয়েই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। বছরের পর বছর ধরে আমরা ড্রেনেজ সমস্যার কথা পৌর কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান নেই। তাই এই নিত্যদিনের দুর্ভোগ এখন আমাদের সঙ্গী হয়ে গেছে।
রায়পুর পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক ও সাবেক কমিশনার আবু জাহের মিয়াজী বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের অভাবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। র্দীঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় শহরবাসী ভোগান্তি পোহালেও পৌর কর্তৃপক্ষ সমস্যাটির সমাধানে কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছেন না।
পৌর প্রশাসক মোঃ ইমরান খাঁন বলেন, এই পৌর সভাটি রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা করা হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেখেছি এখানে অপরিকল্পিত লোক নিয়োগ থেকে শুরু করে সকল সেক্টরেই অনিয়মের চলছে। তবে উপজেলা সড়কটি ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই রাস্তাটি নির্মাণ হবে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়। এতে শহরবাসীর দুর্ভোগ অনেকটা কমে যাবে।