• বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
৩০০ আসনেই একটি দল প্রচারণা চালাচ্ছে এমন হলে একসঙ্গে পথচলা কষ্টকর বিদেশে পালিয়ে থাকাদের হুমকির কোনো ভ্যালু নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে বিএনপি : সালাহউদ্দিন মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস বিশ্ববাজারে সর্বকালের সর্বোচ্চ দামে সোনা-রুপা দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে ত্রুটিবিহীন নির্বাচন উপহার দিতে হবে: ডিএমপি কমিশনার লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আগমনী ভিসা ফি মওকুফ হবে চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৬ শতাংশ, পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের ইরানে বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২৫৭১ জন: মানবাধিকার সংস্থা

বিফলে গেলো শ্রীপুর পৌরসভার পানি প্রকল্পের ২৩ কোটি টাকা

প্রভাত রিপোর্ট / ৯০ বার
আপডেট : বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

মো. কামাল পারভেজ , শ্রীপুর : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শ্রীপুর পৌরসভা এলাকায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাসাবাড়িতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। এ জন্য ২৩ কোটি ৬৬ লাখ ২৩ হাজার ৪৬৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পৌর এলাকায় পানি সরবরাহের জন্য ১৩৮ কিলোমিটার পাইপ লাইন ও ১০টি গভির মর্সেবলপাম্প হাউস স্থাপন করার কথা ছিল। এর মধ্যে একটি পাম্প স্থাপনের কাজ বাকি রেখে ২০২৩-২৪ইং অর্থবছরে ঠিকাদারেরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকে কাজ বুঝিয়ে দেন। কিন্তু দুই বছরেও এসব পাম্প চালু হয়নি। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা নির্মান ও গ্যাস লাইনের কাজ করতে যেয়ে পাইপ কেটে ও ফেটে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে সরকারের প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয় হলেও সুফল পাননি শ্রীপুর পৌর এলাকার বাসিন্দারা।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভা এলাকার বাসাবাড়িতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য ২০১৯-২০ইং অর্থবছরে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ১৩৮ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের জন্য ব্যয় ধরা হয় ১৫ কোটি ৮ লাখ ৬৭ হাজার ১৯ টাকা। এ ছাড়া ১০টি গভির মার্সেবল পাম্প হাউস স্থাপনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৮ কোটি ৫৭ লাখ ৫৬ হাজার ৪৪৭ টাকা। পাইপলাইন স্থাপনের কাজ করে মনিরা ট্রেডার্স এবং গভির মার্সেবল পাম্প হাউস স্থাপনের কাজ করে জিলানী ট্রেডার্স নামে ঠিকাদারি দুইটি প্রতিষ্ঠান। ২০২১-২২ ইং অর্থবছরে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও শেষ হয় ২০২৩-২৪ইং অর্থবছরে। যদিও একটি গভির মার্সেবল পাম্প স্থাপনের কাজ এখনো শেষ হয়নি। কথা ছিল ১ হাজার ৫০০ গ্রাহকের বাসাবাড়িতে পানি সরবরাহ করা হবে।
সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে ছিল। কাজ শেষে দুই ঠিকাদার ২০২৩-২৪ইং অর্থবছরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে এই প্রকল্পের সম্পুর্ন কাজ বুঝিয়ে দেন। কিন্তু নিম্নমানের পাইপ ব্যবহারের ফলে মাটির নিচে সেসব ভিবিন্ন ভাবে নষ্ট হচ্ছে। বেশির ভাগ এলাকার পাইপলাইন ভেঙে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং গ্যাসলাইন স্থানান্তরসহ নানা কারণে মাটির নিচে স্থাপিত পানি সরবরাহের পাইপ নষ্ট হয়েছে। ব্যবহৃত নিম্নমানের পাইপের বেশির ভাগ অংশ ভেঙে গেছে।
পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন বলেন, পৌরসভার এই প্রকল্পের টাকা সব বিফলে গেছে। মাটির নিচে পাইপলাইন বসানো হলেও তা নষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ির গ্যাসলাইন, বসতবাড়ি নির্মাণ, কারখানার নির্মাণকাজের ফলে পাইপ ভেঙে গেছে। পুরো প্রকল্পের টাকা বিফলে। শ্রীপুর পৌর এলাকার মানুষ সুবিধা পেল না।
৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কবির মিয়া বলেন, পানি সরবরাহ প্রকল্পে প্রায় ২৪ কোটি টাকা খরচ করলেও বাসিন্দাদের একফোঁটা পানি সরবরাহ করতে পারেনি শ্রীপুর পৌর কর্তৃপক্ষ। প্রকল্প দেখিয়ে কোটি, কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। খুবই নিম্নমানের পাইপ বসানো হয়েছে। সেগুলো প্রায়এরই মধ্যে শেষ। প্রকল্পটির সুফল পাওয়ার কোনো আশা দেখছি না।
শ্রীপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (পানি ও পয়োনিষ্কাশন) কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, প্রকল্প শুরুর দিকে আমি এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না। নিয়মানুযায়ী আমার দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও আমাকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। খুবই নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন,১৫০০শ গ্রাহকের বসতবাড়িতে পানি সরবরাহের সংযোগ দেওয়া হয়েছে কিন্তু সরেজমিনে তদন্ত করে দেখেন একটি সংযোগও নেই। ১৩৮ কিলোমিটার পাইপলাইন পুরোটাই অকেজো। কয়েকটি গভীর পানির পাম্প নষ্ট। চালানো যাচ্ছে না। ১০টি পাম্পের মধ্যে ৯টি বুঝিয়ে দিলেও একটির কাজ চলমান। পাম্প হাউস বসানো হলে কী হবে, পুরো লাইন ভেঙে গেছে। প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখার সম্ভাবনা একেবারেই কম।
শ্রীপুর পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাহেদ আখতার বলেন, কাজ বুঝে নেওয়ার পর থেকে পাম্প চালানো সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে পানি সরবরাহ লাইনের অনেক পাইপ নষ্ট হয়ে গেছে। প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক সজীব আহমেদ বলেন, গৃহস্থালি কাজে বাসিন্দাদের পানি সরবরাহের জন্য প্রকল্পটির কাজ আমি যোগদানের আগে শেষ হয়। আমি যোগদানের পর থেকে একটি বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে।
গাজীপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, ২০২৩ সালে শ্রীপুর পৌর কর্তৃপক্ষকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাজ নিম্নমানের হলে তাঁরা কেন কাজ বুঝে নিল। কোনো জিনিস ব্যবহার না করলে নষ্ট তো হবেই। এমন দায়সারা কথায় সরকারের ২৪ কোটি টাকার শ্রীপুর পৌর সুপেয় পানির প্রকল্পটি কি আলোর মুখ দেখবে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও