আজ
|| ১০ই নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ || ২৫শে কার্তিক, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাংবাদিক পান্নার জামিন আপিলে বহাল
প্রকাশের তারিখঃ ১০ নভেম্বর, ২০২৫
প্রভাত রিপোর্ট: সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাকে হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত চেয়ে করা রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি এক সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছিলেন আপিল বিভাগ। তবে সে আদেশ পুনরায় রিকল করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সাংবাদিক পান্নার জামিন আপিলে বহাল রইলো বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
নিজেদের আগের আদেশ প্রত্যাহার করে সোমবার (১০ নভেম্বর) বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ জামিন বহালের নতুন আদেশ দেন। এর আগে সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে একই আদালত সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাকে হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত চেয়ে করা রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি এক সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছিলেন। হাইকোর্টের আদেশের লিখিত অনুলিপি প্রকাশিত না হওয়ায় বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দিয়েছিলেন।
আদালতে মঞ্জুরুল আলমের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন ও রমজান আলী শিকদার এবং আইনজীবী প্রিয়া আহসান চৌধুরী। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। এর আগে গত ৬ নভেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি তাদের জামিন বিষয়ে রুলও জারি করেন আদালত। তাদের পৃথক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাকে হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।
সেদিন আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, রমজান আলী শিকদার এবং আইনজীবী প্রিয়া আহসান চৌধুরী। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবী, সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল ইব্রাহিম খলিল ও আল আমিন হোসেন। এর আগে গত ২৯ আগস্ট রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও ঢাবি অধ্যাপক কার্জনসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন। শাহবাগ থানার এসআই মো. আমিরুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন (৭৩), মঞ্জুরুল আলম (৪৯), কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল (৭২), গোলাম মোস্তফা (৮১), মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু (৬৪), মো. জাকির হোসেন (৭৪), মো. তৌছিফুল বারী খাঁন (৭২), মো. আমির হোসেন সুমন (৩৭), মো. আল আমিন (৪০), মো. নাজমুল আহসান (৩৫), সৈয়দ শাহেদ হাসান (৩৬), মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার (৬৪), দেওয়ান মোহম্মদ আলী (৫০) ও মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম (৬১)।
এদিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক তৌফিক হাসান আসামিদের কারাগারে রাখার আবেদন করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় ঢাকার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির অডিটরিয়ামে ‘মঞ্চ ৭১’ এর ব্যানারে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত থেকে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্য দেন এবং অন্যদের প্ররোচিত করেন। পরে বৈঠকে অংশ নেওয়া ৭০ থেকে ৮০ জনের মধ্যে থেকে ১৬ জনকে আটক করে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, ৫ আগস্ট আত্মপ্রকাশ করা সংগঠন ‘মঞ্চ ৭১’-এর লক্ষ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে জনগণকে আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত করা। তবে পুলিশের অভিযোগ, এ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছিল।
Copyright © 2025 প্রভাত. All rights reserved.