আজ
|| ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
নির্বাচন সামনে রেখে আশা-নিরাশায় পর্যটন খাত
প্রকাশের তারিখঃ ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
প্রভাত রিপোর্ট: দেশে শীতকালীন পর্যটন মৌসুম শুরু হয়েছে। পছন্দের গন্তব্য কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলে ছুটছেন পর্যটকরা। নতুন গন্তব্য হিসেবে চাহিদা বেড়েছে সুন্দরবনের। তবে নানান বিধিনিষেধ ও যাতায়াতে ভোগান্তির কারণে সেন্টমার্টিন ও সিলেট ভ্রমণে আগ্রহ কমেছে অনেকের।
চলতি পর্যটন মৌসুম কেন্দ্র করে পর্যটক আকর্ষণে মূল্যছাড়সহ নানান ধরনের অফার দিচ্ছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। অনেকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য প্যাকেজ ট্যুরের আয়োজন করছেন। তবে আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জানুয়ারি থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে পারে। এমনটি হলে পর্যটনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পর্যটন খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগেও অনেকগুলো জাতীয় নির্বাচন শীত মৌসুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবারই তার ধাক্কা এসে লেগেছে পর্যটন খাতে। গত বছর সরকার পতনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও সেন্টমার্টিনে বিধিনিষেধ আরোপ পর্যটন ব্যবসার ওপর চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এবারও জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে মৌসুমজুড়ে এ খাতে মন্দা যেতে পারে। তারপরও টিকে থাকতে পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
দেশের পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে ভ্রমণপিপাসুদের পছন্দের শীর্ষে কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন। প্রতি বছর শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সড়ক, রেল ও আকাশপথে কক্সবাজার যান পর্যটকরা। তাদের অনেকে ‘এক ঢিলে দুই পাখি মারা’র মতো ঘুরে আসেন সেন্টমার্টিনেও।
গত বছর আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও সেন্টমার্টিন ভ্রমণে সরকারের বিধিনিষেধ আরোপ পর্যটন ব্যবসার ওপর চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এবারও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মৌসুমজুড়ে এ খাতে মন্দা যেতে পারে।
গত বছর পর্যটন মৌসুমের আগেই দ্বীপটির অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বেশকিছু বিধিনিষেধ জারি করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এ কারণে গত ৯ মাস সেন্টমার্টিন ভ্রমণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ছিল। গত ১ নভেম্বর সেই নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। নভেম্বরে পর্যটকদের শুধু দিনের বেলায় দ্বীপটি ভ্রমণের সুযোগ ছিল। কিন্তু সেন্টমার্টিনে দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসা সম্ভব না হওয়ায় কোনো পর্যটক সেখানে যাননি, জাহাজও চলেনি। তবে ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকে ট্রাভেল পাস নিয়ে প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার পর্যটককে সেন্টমার্টিন যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে সরকার। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকরা সেখানে রাতযাপন করতে পারবেন। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আবার ৯ মাসের বিধিনিষেধ শুরু হবে।
পার্বত্য তিন জেলা প্রকৃতিপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতির বৈচিত্র্য এবং পাহাড়ি জনপদের মনোমুগ্ধকর জীবনধারা সব মিলিয়ে এই এলাকাগুলো পর্যটকদের জন্য এক অসাধারণ ভ্রমণের স্থান।
কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনের হোটেল, রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা জানান, কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনে প্রায় ৫০০ হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। সেখানে রিজার্ভেশন নেওয়া শুরু হয়েছে। পর্যটক টানার জন্য ২০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.