• বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শুধুমাত্র মিছিল মিটিং করার জন্য জাতীয়তাবাদীর নাম ব্যবহার নয় : রিজভী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নৈরাজ্য বন্ধে সরকারের উদ্যোগ নেই: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আ.লীগ ভারতের সেবাদাস সরকার ছিল : সালাহউদ্দিন আহমেদ পাতানো নির্বাচনের চেষ্টা চলছে, রুখে দেয়া হবে: আসিফ মাহমুদ এনইআইআরের মাধ্যমে অবৈধ ও নকল মুঠোফোন নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে ‘সিন্ডিকেটের কারসাজিতে এলপিজির দাম বৃদ্ধি’ পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলায় ক্রেতাদের আগ্রহে মাটির তৈরি তৈজসপত্র নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না জাতিসংঘ: স্টিফেন দুজারিক মোবাইল ব্যবহারকারীদের যে বার্তা দিলো বিটিআরসি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৩৫

এলপিজির আমদানি বাড়াতে চেয়ে অনুমতি পাননি ব্যবসায়ীরা

প্রভাত রিপোর্ট / ৬ বার
আপডেট : সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি কমিয়ে দেয় কিছু কোম্পানি। পরে কিছু কোম্পানি আমদানি বন্ধ করে দেয়। তবে সক্রিয় কিছু কোম্পানি আমদানি বাড়াতে চেয়ে বারবার আবেদন করেও সরকারের অনুমতি পায়নি। ফলে এখন তৈরি হয়েছে সরবরাহ সংকট। এক সপ্তাহ ধরে বাড়তি টাকা দিয়েও এলপিজি পাচ্ছেন না গ্রাহক। চলমান এ সংকটের জন্য সরকারের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, তাঁদের বাড়তি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়নি। আমদানি বাড়াতে পারলে সংকট তৈরি হতো না।
এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব) সূত্র বলছে, দেশে ২৮টি কোম্পানি এলপিজি ব্যবসা করে। এর মধ্যে ২৩টি কোম্পানির আমদানির অনুমোদন আছে। যদিও এখন মূলত ছয়টি কোম্পানি বেশির ভাগ এলপিজি আমদানি করে। আরও চারটি সীমিত পরিসরে আমদানি করে। অন্যগুলো গত ডিসেম্বর মাসে এলপিজি আমদানি করেনি। কোনো কোনো কোম্পানি চলছে ধুঁকে ধুঁকে। ব্যাংকঋণের কিস্তি শোধেও হিমশিম খাচ্ছে তারা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রতিটি কোম্পানির জন্য এলপিজি আমদানির পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। এর চেয়ে বেশি আমদানির সুযোগ নেই। তাই সক্ষমতা থাকলেও আমদানি বাড়াতে পারছে না তারা। আবার অনুমোদিত বরাদ্দের চেয়ে কম আমদানি করছে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে দেড় বছর ধরে বড় একটি কোম্পানির আমদানি অনেক কমেছে। আর ব্যাংকের লেনদেনজনিত জটিলতায় এলপিজি আমদানি করতে পারছে না আরও কয়েকটি কোম্পানি।
এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান গণমাধ্যমকে বলেন, এলপিজির সংকট নেই। খুচরা বিক্রেতারা বাজারে সংকট তৈরি করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালানো হবে। আর ব্যবসায়ীদের আমদানি বাড়ানোর অনুমতি দেবে বিইআরসি।
প্রায় দুই বছর ধরে বাড়তি আমদানির অনুমতি পেতে জ্বালানি বিভাগে ঘুরছে শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ এলপিজি। এ কোম্পানির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, সিলিন্ডারে এলপিজি ভর্তি করতে তাঁদের চারটি প্ল্যান্ট আছে। এর মধ্যে মেঘনাঘাটের বৃহৎ প্ল্যান্টের জন্য বছরে আড়াই লাখ টন এলপিজি আমদানির অনুমতি আছে। এখানে আরও এক লাখ টন আমদানি করা সম্ভব। এর বাইরে মোংলায় ৯০ হাজার টন, বগুড়া ও ভালুকায় ৬০ হাজার করে দুটি এলপিজির প্ল্যান্ট আছে। প্রাথমিক অনুমোদন নিয়ে এ তিন প্ল্যান্টে সীমিত পরিসরে এলপিজি আনা হচ্ছে। ল্যাবরেটরি নেই বলে আমদানির চূড়ান্ত অনুমতি দিচ্ছে না সরকার।
৬০ হাজার টন থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার টন আমদানির অনুমতি চেয়েছে ডেল্টা এলপিজি লিমিটেড। তবে গত ১২ নভেম্বর জ্বালানি বিভাগ থেকে ওই কোম্পানিকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, বার্ষিক আমদানি বা উৎপাদন ক্ষমতা উন্নীতকরণের বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ না থাকায় ডেল্টার আবেদনটি বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, নীতিমালা অনুসারে এলপিজি প্ল্যান্টে মান পরীক্ষার ল্যাবরেটরি বানাতে হবে। এটি না থাকায় নতুন প্ল্যান্টে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তবে লোয়াব বলছে, দেশের কোনো প্ল্যান্টে ল্যাব নেই। ল্যাব ছাড়াই আগে সবাই অনুমতি পেয়েছে। দুই বছর ধরে এটি কঠোর করা হয়েছে। আর একই কোম্পানির প্রতিটি প্ল্যান্টে ল্যাব করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। একটি ল্যাব করতে অন্তত তিন কোটি টাকা খরচ হয়; বরং দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাধ্যমে সবার জন্য ল্যাব করা যেতে পারে। এসব ল্যাবে নিরপেক্ষ পরীক্ষা হবে।
লোয়াব সূত্র বলছে, আমদানির জন্য ২৩টি কোম্পানির নিজস্ব টার্মিনাল আছে। গত ডিসেম্বরে আমদানি করেছে মাত্র ১০টি কোম্পানি—ফ্রেশ, ওমেরা, আই গ্যাস, যমুনা, পেট্রোম্যাক্স, বিএম এনার্জি, টোটাল গ্যাস, সেনাকল্যাণ, ডেল্টা ও লাফস। ব্যাংক লেনদেনজনিত জটিলতায় আমদানি করতে পারছে না ওরিয়ন, বেক্সিমকো, এনার্জিপ্যাকের জি-গ্যাস, নাভানা ও এস আলম গ্রুপের ইউনিগ্যাস।
এলপিজি আমদানি বাড়ানোর আবেদন অনুমোদন করতে জরুরি অনুরোধ জানিয়ে গত বছরের ২১ আগস্ট জ্বালানি বিভাগে সর্বশেষ চিঠি দিয়েছে লোয়াব। তবে জ্বালানি বিভাগ এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর কিছু কোম্পানি একসঙ্গে এলপিজি আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। তাই যারা সক্রিয় আছে, তাদের আমদানি বাড়ানোর জরুরি অনুমতি দরকার, যাতে ভোক্তার নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অব্যাহত থাকে। তাই দ্রুত অনুমোদনের জন্য অনুরোধ করা হয় চিঠিতে।
লোয়াবের সেক্রেটারি জেনারেল আহসানুল জব্বার গণমাধ্যমকে বলেন, যথাসময়ে অনুমতি পেলে আমদানি আরও বাড়ানো যেত। যদিও বেশ কিছু কারণে বর্তমানে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। আর খুচরা বিক্রেতারা এর সুযোগ নিচ্ছেন।
বৈঠক শেষে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন) মনির হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, জাহাজসংকট—সব মিলিয়ে সরবরাহ কমেছে। সব অপারেটর সক্রিয় নয়, কেউ কেউ গত দেড় বছরে আমদানি কমিয়েছে। তাদের অনুমোদিত বরাদ্দ অন্যদের দিলে তারা আমদানি বাড়াতে পারবে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও