প্রভাত রিপোর্ট: সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের প্রার্থিতা অকারণে বাতিল করা হলে নির্বাচন কখনোই অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতাকে তিনি অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে ময়মনসিংহ নগরের নতুন বাজার এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপের আয়োজন করে সুজনের ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর শাখা।
সংলাপে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, যেসব প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে, তাদের বড় একটি অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী। তাদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের শর্ত বাস্তবতা বিবর্জিত। তিনি বলেন, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, প্রার্থীদের জন্য মাত্র ৫০০ ব্যক্তির স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা রাখা হোক এবং তা হলফনামার মাধ্যমে নেওয়া হোক। এতে স্বাক্ষর যাচাইয়ের নামে চাপ প্রয়োগ বা জালিয়াতির সুযোগ থাকত না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে নির্বাচন কমিশন এই প্রস্তাব আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত করেনি।
নির্বাচন ও প্রশাসনের আচরণ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিযোগ প্রসঙ্গে সুজন সম্পাদক বলেন, যেহেতু নির্বাচন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা সরকারের ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।
নির্বাচনের পর গণতান্ত্রিক উত্তরণ জরুরি উল্লেখ করে বদিউল আলম বলেন, আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত—এই তিন স্তরে সংস্কার প্রয়োজন। এসব সংস্কারের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সম্ভব হবে। তবে এই দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার সূচনা হতে হবে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ—সবাইকে এই প্রক্রিয়ায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সুজন সম্পাদক বলেন, ব্যাপক দলীয়করণের কারণে গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক সদস্য দায়িত্ব ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। একটি ভেঙে পড়া প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠন করতে সময় লাগে। দলনিরপেক্ষ সরকারই নিশ্চিত করতে পারে প্রশাসন যেন দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে। সকাল পৌনে ১১টায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সংলাপ শুরু হয়। ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের ১০ জন প্রার্থীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কামরুল আহসান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোস্তাক আহাম্মদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির লিয়াকত আলী, কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী এমদাদুল হক।
সংলাপে নাগরিক প্রতিনিধিরা বেকারত্ব দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যানজট নিরসন, দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ, পরিকল্পিত নগরায়ণ, নারীবান্ধব পরিবেশ, খেলার মাঠ বৃদ্ধি এবং কৃষি খাতে সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি তুলে ধরেন। প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন এবং নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন।