আজ
|| ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩০শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২৪শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি
শিক্ষার্থীদের অবরোধে সড়কে ভোগান্তি চরমে
প্রকাশের তারিখঃ ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬
প্রভাত রিপোর্ট: রাজধানীর একাধিক স্থানে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। এতে অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে গোটা রাজধানী। সড়কে থেমে যায় গাড়ি। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে রওয়ানা দেন অনেকে। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির এক দফা দাবিতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর থেকে রাজধানীর টেকনিক্যাল, সায়েন্সল্যাব, তাঁতীবাজার, মহাখালীর আমতলী মোড়সহ বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। আর বেলা ১১টার দিকে সহপাঠী সাকিবুল হত্যার বিচার দাবিতে ফার্মগেট মোড় অবরোধ করে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা।
সাত কলেজের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, আগামী ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন ২০২৫’-এর অনুমোদন দিতে হবে এবং একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।
পুলিশ বলছে, অবরোধের ফলে ওইসব সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। সড়কে স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
সাত কলেজের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে আজ আন্দোলন করেছেন শিক্ষার্থীরা। কাল বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) একই দাবিতে রাজধানীর তিন গুরুত্বপূর্ণ মোড়-পুরান ঢাকার তাঁতিবাজার, সায়েন্স ল্যাব ও গাবতলীর টেকনিক্যালে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা বুধবার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর গাবতলী টেকনিক্যাল মোড়ে ঢাকা কেন্দ্রিক বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা জানান বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ।
মাসুম বিল্লাহ বলেন, আজকের কর্মসূচি এখানেই শেষ করা হয়েছে। কাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব, টেকনিক্যাল ও তাঁতিবাজার মোড়ে একযোগে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চলবে।
মাসুম বিল্লাহ আরও বলেন, আজকের কর্মসূচি শেষ হলেও আন্দোলনের মূল দাবি থেকে শিক্ষার্থীরা একচুলও সরে আসবে না। শিক্ষার্থীদের মতে, এটি কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়; বরং তাদের ভবিষ্যৎ ও অধিকার আদায়ের দীর্ঘ লড়াই।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের লক্ষ্য স্পষ্ট। শিক্ষাই তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আশা। সেই আশা বাস্তবায়নের জন্য তারা ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি, আগামী ১৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’-এর অনুমোদন দিতে হবে এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।লালবাগ জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. আমিনুল কবীর তরফদার বলেন, “কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা বেলা সাড়ে ১১টা থেকে পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার চৌরাস্তা অবরোধ করেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অবরোধের ফলে কোনও যানবাহন চলাচল করতে পারেনি।” দুপুর ১২টা ১০ মিনিট থেকে বাংলা কলেজের শিক্ষার্থীরা টেকনিক্যাল মোড় অবরোধ করে অবস্থান নেন। এ সময় তারা ‘সেন্ট্রাল সেন্ট্রাল’, ‘গোলামী না আজাদী, আজাদী আজাদী’, ‘দালালি না রাজপথ’, ‘আপস না সংগ্রাম’, ‘শিক্ষা নাকি সিন্ডিকেট’, ‘তালবাহানা বন্ধ কর, অধ্যাদেশ জারি করো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
টেকনিক্যাল মোড় অবরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুর বিভাগের দারুসসালাম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইমদাদ হোসেন বিপুল বলেন, “বাংলা কলেজের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের কারণে গাবতলী, টেকনিক্যাল মোড়, মিরপুর সড়কে কোনও যানবাহন চলাচল করছে না। ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ শিক্ষার্থীদেরকে মূল সড়ক থেকে সরে যেতে অনুরোধ করে। দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর ব্যস্ততম সড়ক সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় সায়েন্সল্যাব থেকে নিউ মার্কেট, শাহবাগ ও ধানমন্ডি সড়ক দিয়ে চলাচরত সব ধরণের যানবাহন আটকে যায়। শিক্ষার্থীরা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সেখানেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এদিকে, রাজধানীর মহাখালী মোড় অবরোধ করে সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ অবরোধ অবশ্য তেমন দীর্ঘ হয়নি। পরে পুলিশের সহয়তায় সড়ক স্বাভাবিক হয়। পরে সেখানে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানায় পুলিশ।
এ বিষয়ে ট্রাফিক গুলশান জোনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, “শিক্ষার্থীরা ১৫ মিনিট মতো অবরোধ করেছিল। পরে সড়ক স্বাভাবিক হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পাওয়া পরামর্শের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় এই খসড়া হালনাগাদ করেছে বলে জানা গেছে। সর্বশেষ গত ৭ থেকে ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবন অভিমুখে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করে। সেই সভায় ডিসেম্বরের মধ্যে আনুষঙ্গিক সব কার্যক্রম শেষ করে জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে অধ্যাদেশ জারি করার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.