আজ
|| ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে মিসরকে হারিয়ে ফাইনালে সেনেগাল
প্রকাশের তারিখঃ ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
প্রভাত স্পোর্টস: আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের সেমিফাইনালে সবার চোখ ছিল মোহাম্মদ সালাহ ও সাদিও মানের দ্বৈরথে। লিভারপুলের সাবেক দুই সতীর্থ বুধবার রাতে মুখোমুখি হন ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে। যেখানে শেষ হাসি হেসেছেন মানে। তাঁর গোলেই মিসরকে ১–০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে সেনেগাল। একবারের চ্যাম্পিয়ন সেনেগালের এটি চতুর্থ ফাইনাল।
শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে সেনেগালের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক মরক্কো। একই রাতে অপর সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে (৪–২) নাইজেরিয়াকে হারায় তারা। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়েও গোলশূন্য ড্র ছিল এই ম্যাচ। এ জয়ে ২০০৪ সালের পর প্রথম ফাইনালে ওঠার স্বাদ পেল ৫০ বছর আগে একবারই চ্যাম্পিয়ন হওয়া মরক্কো। আগামী রবিবার রাত একটায় ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই দল। আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের ইতিহাসে এই প্রথম মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এই মরক্কো ও সেনেগাল।
তাঞ্জিয়ারে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে মিসরের ওপর শুরু থেকে থেকে আধিপত্য বিস্তার করে খেলে সেনেগাল। সালাহর মিসর বল দখল ও আক্রমণে পিছিয়ে ছিল। তবে লম্বা সময় পর্যন্ত গোল করা থেকে সেনেগালকে গোল করা থেকে বিরত রাখলেও শেষ পর্যন্ত আর পারেনি। ৭৮ মিনিটে বক্সের বাইরে বল পেয়ে দারুণ এক শটে লক্ষ্যভেদ করেন মানে। এই হারে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা অধরাই থেকে গেল লিভারপুল তারকা সালাহর জন্য। এটি ছিল সালাহর পঞ্চম আফ্রিকান কাপ অব নেশনস। এর আগে দুবার রানার্সআপ হয়েছেন। দেশের হয়ে এখনো শিরোপা জেতা হয়নি তাঁর।
ম্যাচ শেষে ৩৩ বছর বয়সী মানে জানান, এটিই তাঁর শেষ আফ্রিকা কাপ অব নেশনস এবং তিনি শিরোপা জয়ে বেশ আশাবাদী, ‘আমার শেষ আফ্রিকা কাপে খেলতে পেরে আমি খুব খুশি। আশা করি, ফাইনাল জিতে ট্রফিটা ডাকারে নিয়ে যেতে পারব। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা ম্যাচটা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছি। আমার মনে হয়, আমরা জয়ের যোগ্য ছিলাম। ফাইনালের জন্য প্রস্তুত হতে হবে, যেন নিজেদের সেরাটা দিতে পারি।’
রাবাতে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে মরক্কো ও নাইজেরিয়ার ম্যাচটি অতিরিক্ত সময় শেষেও গোলশূন্য ছিল। টাইব্রেকারে মরক্কোর জয়ের নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। সৌদি ক্লাব আল-হিলালের এই গোলরক্ষক নাইজেরিয়ার স্যামুয়েল চুকুয়েজে ও ব্রুনো অনিয়েমায়েচির শট ঠেকান। শেষ কিকে লক্ষ্যভেদ করে মরক্কোকে ফাইনালে তুলে দেন ইউসুফ এন-নেসিরি। এই গোলের পর প্রিন্স মৌলাই আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৬৫ হাজারের বেশি দর্শক আনন্দে মেতে ওঠে। জয়ের পর মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য সবচেয়ে কঠিন ম্যাচগুলোর একটি ছিল। প্রতিপক্ষ ছিল খুবই শক্তিশালী ও প্রতিভাবান। খেলোয়াড়দের জন্য এবং মরক্কোর মানুষের জন্য আমি খুব খুশি। এটা তাদের প্রাপ্য।’
২০০৪ সালে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে সর্বশেষ ফাইনাল খেলে মরক্কো, যেখানে তাঁরা হেরেছিল তিউনিসিয়ার কাছে। সেই দলের সদস্য ছিলেন রেগরাগুই। ফাইনালে ওঠার আনন্দে তিনি বলেন, ‘ফাইনালে ওঠাটা সবার জন্য দারুণ উপহার। তবে আমরা এই ম্যাচে অনেক শক্তি খরচ করেছি, তাই দ্রুতই আমাদের পুনরুদ্ধার করতে হবে।’
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.