মো. বিল্লাল মোল্লা, কুমিল্লা উত্তর : কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নে গোমতী নদীর পাড় ও আশপাশের একাধিক কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের যথাযথ নজরদারির অভাবে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। সরজমিনে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করে যা জানা যায়। স্থানীয় সাংবাদিকদের তৎপরতায় অবশেষে তৎপর প্রশাসন।
স্থানীয়রা জানান, শুধু বর্তমানে নয়—বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা প্রভাব খাটিয়ে দিনের পর দিন মাটি কেটে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে আবার একই অভিযোগ উঠেছে একটি দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, দলটির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকর্মী এই মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে তিতাস উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. গোলাম মহিউদ্দিন জিলানী বলেন, আমাদের দলে এমন ছেসরা নই যে সামান্য মাটি কেটে বিক্রি করে চলতে হবে।যারা এসব অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভিটিকান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি এলাকায় মেসার্স এমএমআর ব্রিকস ফিল্ডের পাশের গোমতী নদীর পাড়ঘেঁষা সরকারি খাস জমি থেকে রাতের আঁধারে বড় বড় ট্রাকে করে মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। একই ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামসংলগ্ন মেসার্স ন্যাশনাল ব্রিকসের পাশ থেকেও গোমতী নদীর পাড় কেটে ট্রলির মাধ্যমে মাটি অন্যত্র নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্বিচারে নদীর পাড় ও ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার ফলে কৃষিজমির উর্বরতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে গোমতী নদীর পাড় দুর্বল হয়ে পড়ায় বেড়িবাঁধ যেকোনো সময় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এলাকার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ধুলোবালিতে জনদুর্ভোগ চরমে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানিয়া আক্তার লুবনা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুটি ভেকু মেশিন সরেজমিনে দেখতে পান। এ সময় দুই ভেকুর চালককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভেকুগুলো দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। তিনি জানান, এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এদিকে স্থানীয়রা নদী ও কৃষিজমি রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়।