আজ
|| ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন—আদিলুর রহমান খান
প্রকাশের তারিখঃ ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার: সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, জুলাইয়ের বীর শহীদদের আত্মত্যাগ এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংগ্রামের মধ্য দিয়েই নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে। এই অর্জনকে টেকসই করতে এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।
শনিবার সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শহরের পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে গণভোটের কার্যক্রম সংক্রান্ত এক জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, নতুন বাংলাদেশে আর কাউকে ধরে নিয়ে গুম করা যাবে না, ক্রসফায়ারের সংস্কৃতি চলবে না, আয়নাঘরের মতো অমানবিক নির্যাতন কেন্দ্র আর তৈরি হবে না। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের দুঃশাসন। এই দেশ হবে সকল জাতিগোষ্ঠী, ধর্ম ও শ্রেণির মানুষের জন্য সমান অধিকারের বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, জনতার কাফেলা আজ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। জনতার কাফেলা জুলাই সনদের পক্ষে, জনতার কাফেলা নতুন বাংলাদেশের পক্ষে। তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদের প্রতি সমর্থন জানাতে হবে।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী। এছাড়া বক্তব্য দেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান এবং কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান।
সভায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে গণভোট উপলক্ষে প্রচারণামূলক ভোটের গাড়ির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সাধারণ মানুষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলেই তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রয়েছে। যারা ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করে, তারা ‘না’-এর পক্ষে প্রচার চালাবে। আর যারা জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গুম ও ক্রসফায়ারের বিরুদ্ধে—তারাই ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবে। জুলাই সনদকে সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতেই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.