• বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নাজিরপুরে অনলাইন জুয়ার টাকার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব, শিক্ষকসহ গ্রেফতার-২ সম্মিলিত সার ডিলার নীতিমালা বাতিলের দাবিতে পিরোজপুরে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান হারলেও চোখে চোখ রেখে লড়াই করলো বাংলাদেশ ইংরেজি বিভাগ, বাইউস্টের উদ্যোগে প্রফেশনাল কমিউনিকেশন বিষয়ে সার্টিফিকেট কোর্স অনুষ্ঠিত পাথরঘাটায় দুটি জবাই করা হরিণ ও ফাঁদসহ হাতেনাতে আটক- ১ দুবাই ছাড়তে ধনকুবেরদের হুড়োহুড়ি, প্রাইভেট জেটের ভাড়া বেড়ে কয়েক গুণ ওমান উপসাগরে ইরানের সব যুদ্ধজাহাজ ধংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন নাগরিকদের এখনই মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ছাড়তে বলল যুক্তরাষ্ট্র রিয়াদ ও কুয়েত মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা এটি কোনো অন্তহীন যুদ্ধ নয়: নেতানিয়াহু

ইলেকট্রিক শক পদ্ধতিতে মাছ নিধন, শিবচরের নদ-নদীতে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়

প্রভাত রিপোর্ট / ১০০ বার
আপডেট : সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

হাসানাত আকাশ, শিবচর : মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় নিষিদ্ধ ইলেকট্রিক শক ব্যবহার করে মাছ শিকারের ভয়ংকর প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। পদ্মা নদী, আড়িয়াল খাঁ নদ ও বিল পদ্মা এলাকায় এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফলে রেণু-পোনা, মাছের ডিমসহ অসংখ্য জলজ প্রাণী নির্বিচারে মারা যাচ্ছে। এতে করে পুরো অঞ্চলের মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার মাদবরের চর, কাঁঠালবাড়ি ও চর জানাজাত ইউনিয়নের বিভিন্ন নদ-নদীতে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে।
এসব চক্র নৌকায় করে ইনভার্টার ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি বহন করে পানিতে বৈদ্যুতিক তার ফেলে শক দেয়। এর ফলে ওই এলাকার সব ধরনের ছোট-বড় মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মুহূর্তেই অচেতন হয়ে পানির ওপরে ভেসে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, চক্রের সদস্যরা রাতভর এই নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ শিকার করে ভোরের আগেই ধরা মাছ মাদবরের চর ও পাঁচ্চর এলাকার বিভিন্ন আড়ত ও বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করে দ্রুত সটকে পড়ে। প্রতিটি নৌকা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১২ কেজি মাছ ধরা হচ্ছে, যার বেশিরভাগই রেণু-পোনা ও ছোট আকারের মাছ। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় জেলেরা। তাঁদের অভিযোগ, ইলেকট্রিক শক ব্যবহারের কারণে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে মাছ ধরা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বেড জালসহ প্রচলিত জালে আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে দেশীয় প্রজাতির বহু মাছ এই অঞ্চল থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রভাবশালী একটি মহলের আশ্রয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অভিযান অনেক ক্ষেত্রেই ফলপ্রসূ হচ্ছে না।
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, ইলেকট্রিক শক পদ্ধতিতে মাছ শিকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করা হলেও অভিযানের সময় সংশ্লিষ্টদের হাতেনাতে ধরা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং নজরদারি আরও জোরদার করে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নদী ও বিলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের স্বার্থে অবিলম্বে এই ধ্বংসাত্মক পদ্ধতি বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর তদারকির দাবি জানিয়েছেন শিবচরের সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও