• বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
হোমনায় সেনা অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রসহ ৫ যুবক আটক হজযাত্রীদের বাড়িভাড়া চুক্তি সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে: ধর্ম উপদেষ্টা ‘নির্বাচনি মাঠে কেউ বাড়াবাড়ি করছে কিনা তা জানতে চেয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত’ ঢাকায় মেট্রোরেলের পরিসর আরও বাড়ানো হবে : জামায়াত আমির মির্জা আব্বাস দেশের ‘এক নম্বর ক্রিমিনাল’: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের কথা বলা জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি: সালাহউদ্দিন আহমদ নির্বাচনে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রস্তুত বিজিবির ডগ স্কোয়াড-হেলিকপ্টার সরকারকে অবহিত না করেই ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার সরিয়ে নেয়া হয়েছে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আগামীকাল থেকে ঢাকাসহ তিন জেলায় নামছে ৩৮ প্লাটুন বিজিবি অন্তর্বর্তী সরকার কেন বিচার বিভাগকে পঙ্গু করে রেখেছে: এ কে আজাদ

হাজতখানায় ভূরিভোজ, পাঁচ পুলিশ সদস্য বদলি

প্রভাত রিপোর্ট / ২৬ বার
আপডেট : বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা, নোয়াখালী : নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানা। এই হাজতখানায় আয়োজন করা হয় কারাগার থেকে আদালতে হাজিরা দিতে আসা দুই আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতার ‘বেয়াইখানা’ (বর ও কনের বাবার ভূরিভোজ)। এ ঘটনায় পুলিশের পাঁচ সদস্যকে বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ বুধবার দুপুরে এসব সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন।
এর আগে গত সোমবার দুপুরে আদালতে দায়িত্বরত পুলিশের সহযোগিতায় হাজতখানায় দুই আসামির ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়। এই আসামিরা হলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আ জ ম পাশা চৌধুরী এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছাইফ উদ্দিন আহমদ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আ জ ম পাশার মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরীর সঙ্গে ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিনের বিয়ে হয় গত ৩০ ডিসেম্বর। তবে আ জ ম পাশা ও ছাইফ উদ্দিন আহমদ হত্যা-বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলায় কারাগারে থাকায় আদালতে হাজিরার দিনে হাজতখানায় দুজনের বেয়াইখানার আয়োজন করা হয়। গতকাল ভূরিভোজের ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সমালোচনায় মেতে ওঠেন।
যে হাজতখানায় ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়, সেটি নারী আসামিদের জন্য সংরক্ষিত। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভূরিভোজের সময় আসামি আ জ ম পাশা ও ছাইফ উদ্দিনের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। এর মধ্যে আ জ ম পাশার স্ত্রী খোদেজা আক্তার, মেয়ে ফালিহা আজম এবং ছাইফ উদ্দিনের ছেলে ছাইম উদ্দিনকে ভিডিতে দেখা যায়। পাশে ছিলেন আরও এক যুবক।
পুলিশ জানায়, হাজতখানার মতো সুরক্ষিত স্থানে বেয়াইখানা আয়োজনের ঘটনা জানার পর তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা পুলিশ। কমিটিতে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেনকে প্রধান করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিয়াকত আকবর এবং পরিদর্শক মো. শাহ আলম।
একই ঘটনায় বদলি হওয়া পাঁচজনের মধ্যে রয়েছে সহকারী শহর উপপরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলাম ও কবির আহম্মদ ভূঁইয়া এবং তিন কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন, মো. হাসান ও সাইফুল ইসলাম। তাঁদের জেলার হাতিয়ার বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়িতে বদলি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন জেলার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটির কার্যক্রম আজ শুরু হয়েছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি আজ আদালতে গিয়ে ঘটনাটি শুনেছেন। কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এভাবে হাজতে আসামিদের খাবার খাওয়ানো গুরুতর অন্যায়। আদালতের পুলিশ পরিদর্শকও এর দায় এড়াতে পারেন না।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে থাকা আ জ ম পাশার বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রশিবিরের সাত কর্মীকে গুলি করে হত্যার মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে ছাইফ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে হাতিয়া, চরজব্বর ও কবিরহাট থানায় বিস্ফোরকসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও