আজ
|| ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ১১ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকার সমস্যার সমাধান করা হবে: তারেক রহমান
প্রকাশের তারিখঃ ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬
প্রভাত রিপোর্ট: বিএনপি ক্ষমতায় এলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেশের বেকার সমস্যা সমাধান করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস ময়দানে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি মানুষের জন্য রাজনীতি করে এবং দেশ পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা একমাত্র এই দলেরই রয়েছে। দেশের বিদ্যমান সমস্যার সমাধান চাইলে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি দল পলাতক স্বৈরাচারের ভাষায় কথা বলছে এবং দুর্নীতি নিয়ে মিথ্যাচার করছে।দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পেছনে ফেলে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ কারণেই আমরা ফ্যামিলি কার্ডের মতো উদ্যোগের কথা বলছি।’ আমি-ডামি ও নিশিরাতের ভোট সবার অধিকার কেড়ে নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান।
এর আগে বিকেল ৪টার পর ময়মনসিংহ সার্কেট হাউস ময়দানে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভার মঞ্চে উঠেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জনসভায় জেলার বাইরে থেকে বাস ও মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে আসা নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন। নেতাকর্মীরা জানান, তাদের চেয়ারম্যানকে কাছ থেকে একনজর দেখার জন্য আগেভাগেই জনসভায় উপস্থিত হয়েছেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, চার দলীয় জোট সরকার যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে তখন তো জামায়াতের দুই নেতা মন্ত্রী ছিলেন, তারা তখন কেন পদত্যাগ করেননি। মঙ্গলবার বিকালে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই পত্রপত্রিকায় দেখেছেন, এই মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক দল যেই স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, সেই স্বৈরাচারের মুখের ভাষা ব্যবহার করছে বিএনপিরই বিরুদ্ধে। ঠিক সেই স্বৈরাচার যেভাবে বলতো, বিএনপি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। তারাও সেভাবে বলছে। তো আমার প্রশ্ন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও তো দুই জন সদস্য বিএনপির সরকারে ছিল, ছিল না? ছিল। তো বিএনপি যদি অতই খারাপ হয়, তাহলে ওই দুই ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করে চলে যাননি।
জামায়াত নেতাদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কেন পদত্যাগ করে চলে আসেনি? এই জন্য পদত্যাগ করে তারা আসেনি, তারা সরকারে ছিল এবং তারা ভালো করেই জানত যে খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করেছে। এবং যেই দলটি এখন এই কথা বলছে, তাদের যে দুই সদস্য বিএনপি সরকারের অংশ ছিল; তারা ভালো করেই জানতেন যে, খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না।
২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারে মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামের তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ। নিজামীকে প্রথম কৃষিমন্ত্রী করা হয়েছিল, পরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। মুজাহিদ ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, সব ধরনের আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলে, খালেদা জিয়ার সময় দেশ দুর্নীতিতে নিম্নগতিতে ছিল। এবং খালেদা জিয়া যখন ২০০১ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশ দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের হতে শুরু করলো। যেই দল এই কথা বিএনপিকে এভাবে দোষারোপ করে, তাদের দুই সদস্যের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সরকারে থাকাই প্রমাণ করে যে, নিজেরাই নিজেদের মানুষ সম্পর্কে কত বড় মিথ্যে কথা তারা বলছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে ময়মনসিংহে প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমান। এরপর এই নির্বাচনী জনসভায় আসেন। এই কর্মসূচিকে জনসমুদ্রে রূপ দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়। ময়মনসিংহ নগরজুড়ে পোস্টার ও প্যানায় স্বাগত জানানো হয়েছে তারেক রহমানকে।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.