প্রভাত বিনোদন : ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং। তার কণ্ঠের জাদুতে মজে গানের দুনিয়া। হিন্দি কিংবা বাংলা, উভয় ভাষাতে গান গেয়ে ভক্ত ও সমালোচকদের মাঝে অবিস্মরণীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। সম্প্রতি প্লে-ব্যাক থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন এই সুরসম্রাট। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে অরিজিতের এমন সাহসী সিদ্ধান্তে যেমন ভক্তদের মন ভেঙেছে, তেমনি নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার অর্জিত বিশাল সম্পত্তির পরিমাণ।
মুম্বাইয়ের চাকচিক্য ছেড়ে জিয়াগঞ্জের মাটির টানে ফিরে যাওয়া অরিজিৎ সিংয়ের আর্থিক ভিত আকাশছোঁয়া। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে অরিজিতের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৪১৪ কোটি টাকা। কেবল গান গেয়েই যে তিনি এই পাহাড়সম সম্পদ গড়েছেন, তা নয়; এর পেছনে রয়েছে তার কঠোর পরিশ্রম ও ব্যবসায়িক বুদ্ধি।
বর্তমানে অরিজিৎ সিং ভারতের অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া শিল্পী। প্রতিটি প্লে-ব্যাক গানের জন্য তিনি ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে থাকেন। তবে তার আয়ের সিংহভাগ আসে লাইভ কনসার্ট থেকে। দেশে বা বিদেশে একটি চার ঘণ্টার শো-এর জন্য তিনি ১.৫ কোটি থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেন।
মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের সাধারণ জীবন যাপন করলেও মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে অরিজিতের চারটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। এই ফ্ল্যাটগুলোর বাজারমূল্য বর্তমানে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা। এছাড়া তার গ্যারেজে শোভা পায় মার্সিডিজ-বেঞ্জ ও রেঞ্জ রোভারের মতো দামী সব মডেল, যার সম্মিলিত মূল্য ৩.৪ কোটি টাকারও বেশি।
ব্যবসায়িক উদ্যোগ ও রয়্যালটি গানের পাশাপাশি অরিজিতের নিজস্ব মিউজিক লেবেল রয়েছে, যার নাম ‘ওরিয়ন মিউজিক’। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে আসা রয়্যালটি তার আয়ের একটি বড় অংশ নিশ্চিত করে। কোটিপতি হয়েও সাধারণ জীবন অঢেল সম্পত্তি থাকলেও অরিজিৎ সিং তার শিকড় ভোলেননি।
মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে তিনি পরিচালনা করেন ‘হেঁশেল’ নামে একটি সুলভ ভাতের হোটেল। যেখানে মাত্র ৪০ টাকায় মিলছে ভরপেট খাবার। কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েও এই সাধারণ জীবনবোধই তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।