আজ
|| ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৪ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ৮ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
মির্জা আব্বাস দেশের ‘এক নম্বর ক্রিমিনাল’: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
প্রকাশের তারিখঃ ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
প্রভাত রিপোর্ট : ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে বাংলাদেশের এক নম্বর ক্রিমিনাল ও গডফাদার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক এবং একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমরা প্রচারণা করতে গিয়েছি, তারা আমাদেরকে এসে হ্যারাস করেছে, বাধা দিয়েছে। আমরা এখানে বিএনপির বিরুদ্ধেও না, মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধেও না। স্পষ্ট কথা। আমরা এখানে যুবদল ছাত্রদল কারো বিরুদ্ধে না। আমরা সিস্টেমের বিরুদ্ধে। এখন এই এলাকা যদি চাঁদাবাজি চলে, এটার যদি পাহারাদার ছাত্রদল হয়-তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ফাইট হবে। আমাদের স্পষ্ট কথা।
মির্জা আব্বাসকে উদ্দেশে এনসিপির এই নেতা বলেন, আমি আপনাদের সামনে আজকে মিডিয়ার সামনে বলে গেলাম, বাংলাদেশে যদি ক্রিমিনাল র্যাঙ্কিং করা হয়, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অন্যতম গডফাদার এবং ক্রিমিনাল নাম্বার ওয়ান হলো মির্জা আব্বাস। আজকে আমি বেঁচে আছি বলে গেলাম, মরার পরে আপনারা প্রমাণ পাবেন বাংলাদেশের এক নাম্বার ক্রিমিনাল মির্জা আব্বাস।
এ সময় মঙ্গলবার তার প্রচারণায় বাধার ঘটনা উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন বলেন, ঢাকা-৮ আসনে প্রতি পরতে পরতে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম। আমরা কারোর বিরুদ্ধে না, সিস্টেমের বিরুদ্ধে। সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করতে অবকাঠামো পাল্টাতে হবে। কেউ কেউ সিস্টেম পরিবর্তন না করে আগের সিস্টেমের নব্য পাহারাদার সাজতে চায়।
মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে এনসিপির এই নেতা বলেন, ওনি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ ইউনিটের। সেটা মিডিয়ার মাধ্যমে আপনারা একটু প্রকাশ করবেন। এবং ওই কলেজ কমিটি যেটা রয়েছে ওইখানে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন মির্জা আব্বাস। ভিকারুননিসা নিয়ন্ত্রণ করেন, সিদ্ধেশ্বরী নিয়ন্ত্রণ করেন। এগুলা তো ওপেন সিক্রেট, মানুষ জানে এগুলা। ঢাকা-৮ আসনের বাসিন্দারা জানে।
বিএনপির চেয়ারম্যানের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে বলবো... অনেকে বলেছে এইভাবে কথা না বলার জন্য। তারেক রহমান স্থায়ী কমিটিতে এরকম একটা সন্ত্রাসীকে আশ্রয় দিল! আরও অনেকগুলা গডফাদার নিয়ে... এই যে ঢাকা-১১-তে কি নাম যেন-কাইয়ুম কমিশনার। এমন কোনো জায়গা নাই যে সে দখল করে নাই। এই যে ইশরাক, এই জমিদার পুত্র ইশরাক ঢাকা-৬-এ। এইসব সন্ত্রাসীদেরকে তারা নমিনেশন দিয়েছে।
মির্জা আব্বাসকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আমরা সিস্টেমের বিরুদ্ধে। মির্জা আব্বাস সাহেব যদি আমার পায়ে পা পাড়া দিয়ে ঝগড়া করতে চায়, আমি উনাকে একটা জিনিসে বলতে চাই যে আমি খুব ভদ্র মানুষ, কিন্তু আপনি আমার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙবেন না। আপনি যদি মনে করেন যে, আপনার অনেক বড় রাজত্ব রয়েছে, অনেক বড় গুন্ডা বাহিনী, সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে, এটা দিয়ে নাসীরকে আপনি পিষে ফেলবেন, এটা আপনার ভুল ধারণা। কারণ যে একবার মরে গেছে, আমাদের এটা বোনাস লাইফ।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন বলেন, এখন মানুষ ভোট দেওয়ার আগে ইলেকশন কমিশন গোল দিয়ে দিয়েছে। ভোট ১২ তারিখ আসার আগেই ইলেকশন কমিশন ভোট দিয়ে আছে ঋণ খেলাপিদের পক্ষে, দুর্নীতিবাজদের পক্ষে, চাঁদাবাজদের পক্ষে। তো এটা কেমন ইলেকশন কমিশন বাংলাদেশে? তিনি বলেন, ‘আমাদের জীবন বোনাস লাইফ। গতকাল মেরেছেন, মার সহ্য করেছি। মির্জা আব্বাসের আমলনামা বাংলাদেশের মানুষ জানে। একজন চোর, বাটপার যদি নিজেকে ভদ্র মানুষ বলে-তাহলে আমরা কোন সমাজে বাস করছি?’
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.