আজ
|| ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ১৫ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপে সংকট সমাধানের আশা কারিগরি শিক্ষার্থীদের
প্রকাশের তারিখঃ ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬
প্রভাত রিপোর্ট: কারিগরি শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, প্রকৌশল খাতে চলমান বৈষম্য নিরসন এবং জাতীয় স্বার্থে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার দাবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে কারিগরি ছাত্র আন্দোলন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
কারিগরি ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশের সভাপতি ও কার্যনির্বাহী সদস্য মো. মাসফিক ইসলামের সই করা ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশের শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এই খাত অবহেলা, বৈষম্য ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আসছে। ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ও কারিগরি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার উপেক্ষা করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত। বেকারত্বকে পুঁজি করে ভ্রান্ত তথ্য প্রচার, আর্থিক লেনদেন এবং প্রভাব খাটিয়ে এক পক্ষের অধিকার হরণ করা হচ্ছে। এর ফলে প্রকৌশল খাতে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে এবং শিক্ষা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ডিপ্লোমা ও বিএসসি প্রকৌশলীদের মধ্যকার বিদ্যমান পেশাগত সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না। একপাক্ষিকভাবে গঠিত এই কমিটি সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে সংকট আরও গভীর করছে বলে দাবি করা হয়। একইসঙ্গে বিএসসি ও ডিপ্লোমা প্রকৌশল শিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং ওই কমিটি বাতিলের দাবি জানানো হয়।
কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে অবহেলা করে কোনো দেশ টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না। দ্রুত উন্নত বিশ্বের কাতারে পৌঁছাতে হলে কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ অবস্থায় তারা প্রধান উপদেষ্টার ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রনায়কোচিত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্মারকলিপিতে ১০ দফা দাবির কথা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছেÍ ক্রেডিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করা, তিন বছর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নবম গ্রেডে আবেদনের সুযোগ পুনর্বহাল, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার দশম গ্রেডের পদে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের আবেদনাধিকার নিশ্চিত করা এবং জেনারেল ক্যাডারে প্রকৌশলীদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ। এ ছাড়া পরিচয় ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা ও ডিগ্রি প্রকৌশলীদের মধ্যে সমতা নিশ্চিত, ক্রেডিট আওয়ারের ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ, আইইবি ও বিএইটিই-এর একচ্ছত্র কর্তৃত্ব বন্ধ, কারিকুলামের ন্যায্য সমতা নির্ধারণ এবং আইডিইবি ঘোষিত যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.