আজ
|| ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর, বহির্নোঙরে জট
প্রকাশের তারিখঃ ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রভাত রিপোর্ট: নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাই ভিত্তিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শেষে এবার অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি বুধবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচিতে রূপ নেওয়ায় বন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। জেটিতে জাহাজগুলো অলস পড়ে থাকতে দেখা গেছে, গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ পণ্য ওঠানামার সব যন্ত্রপাতিও বন্ধ রয়েছে। বেশ কয়েকটি জেটি খালি থাকলেও কর্মবিরতির কারণে নতুন কোনো জাহাজ ভিড়তে পারেনি। বন্দর সূত্র জানিয়েছে, এর ফলে বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা বেড়ে ৯৬টিতে দাঁড়িয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টা ধরে পণ্য ডেলিভারি বন্ধ থাকায় বন্দর এলাকার ভেতরে ও বাইরে হাজার হাজার ভারী যানবাহন আটকা পড়েছে। যানজট এড়াতে কর্তৃপক্ষ নতুন করে কোনো গাড়ি ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না।
গত শনিবার থেকে টানা তিন দিন ৮ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকরা। এরপর মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয় ২৪ ঘণ্টার সর্বাত্মক কর্মবিরতি, যা এখন অনির্দিষ্টকালের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
আমদানি পণ্য খালাস ও রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণের জন্য আসা হাজার হাজার ট্রাক এই অচলাবস্থায় আটকা পড়েছে। আমদানিকারকরা বলছেন, পণ্য খালাসে দেরি হওয়ায় তাদের অতিরিক্ত স্টোর রেন্ট বা মাশুল গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারায় অর্ডার বাতিল ও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন রপ্তানিকারকরা।
এছাড়া রমজানের আগে ভোগ্যপণ্যবাহী অনেক কন্টেইনার আটকে পড়ায় বাজারে পণ্য সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ী নেতা ও অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এনসিটি ইস্যুতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর অনড় অবস্থানের কারণে এই নজিরবিহীন সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিতে চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম ঐক্য পরিষদের সমন্বয়করা দাবি করেছেন, শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, ঢাকায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কার্যালয়ে বন্দর কর্মকর্তাদের আটকে রেখে চাপের মুখে চুক্তি সই করানোর চেষ্টা চলছে। নেতৃবৃন্দ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এনসিটি ইজারা দেওয়ার মতো ‘দেশবিরোধী’ সিদ্ধান্ত সরকার বাতিল না করা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য এই কর্মবিরতি চলবে। বন্দরের এই অচলাবস্থা নিয়ে মন্তব্যের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও মুখপাত্র ওমর ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.