প্রভাত রিপোর্ট: এই স্কিমের আওতায় আমানতকারীরা কোনো সুদ পাবেন না। সেই বিবেচনায় আবগারি শুল্কসহ সরকারি ও ব্যাংকের যত ধরনের চার্জ আছে, সেগুলো আমানতকারীদের থেকে নেওয়া হবে না। চার্জগুলো আমানতকারীদের পক্ষে ব্যাংক পরিশোধ করবে। সঞ্চয়ের ওপর যারা সুদ নিতে আগ্রহী নন, সেইসব নাগরিকদের কথা মাথায় রেখে শরিয়াহ ধাঁচের সুদমুক্ত স্থায়ী আমানত স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি)।
১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই স্কিম চালু করার জন্য গত ২৯ জানুয়ারি এক সার্কুলারে ব্যাংকটি তাদের সব শাখা ব্যবস্থাপকদের নির্দেশ দিয়েছে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক এ হিসাব খুলতে পারবেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. খালেদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, দেশের ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের চাহিদা বিবেচনা করে সুদমুক্ত আমানত হিসাব চালু করার অনুমোদন দিয়েছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। এই স্কিমের আওতায় আমানতকারীরা কোনো সুদ পাবেন না। সেই বিবেচনায় আবগারি শুল্কসহ সরকারি ও ব্যাংকের যত ধরনের চার্জ আছে, সেগুলো আমানতকারীদের থেকে নেওয়া হবে না। চার্জগুলো আমানতকারীদের পক্ষে ব্যাংক পরিশোধ করবে। পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে আমানত রাখলে আমানতকারীকে ডেবিট কার্ডও দেওয়া হবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অগণিত ধর্মপ্রাণ নাগরিক আছেন, যারা কষ্টার্জিত অর্থ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা সৃষ্টির প্রয়োজনে সঞ্চয় আকারে জমা রাখতে আগ্রহী হলেও ব্যাংকের দেওয়া সুদ নিতে আগ্রহী নন। এসব আমানতকারীর থেকে সুদমুক্ত আমানত সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করে ব্যাংকটি।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের ধর্মপ্রাণ গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনা করে এবং সুদহিবীন ও কম সুদের আমানত সংগ্রহের লক্ষ্য অর্জন ও আমানত ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার জন্য ‘কৃষি ব্যাংক সুদমুক্ত স্থায়ী আমানত হিসাব’ চালু করা হয়েছে। গত বছরের ১৫ অক্টোবর ব্যাংকের ৮৮৭তম বোর্ড সভায় এই হিসাব খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়।
তবে এই হিসাব খোলার কিছু শর্ত রয়েছে। এই স্কিমে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা জমা রাখতে হবে। সর্বোচ্চ যেকোনো পরিমাণ অর্থ এই হিসাবে রাখা যাবে। আমানতের মেয়াদ হবে ১ মাস থেকে ৩ বছর বা তার বেশি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক জানিয়েছে, এই হিসাবে নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর ডিসেম্বরে সরকারি আবগারি শুল্ক কাটা হবে। তবে আবগারি শুল্ক কাটার পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে শাখা কর্তৃক স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা পুনর্ভরন করা হবে। আর এই হিসাব সুদমুক্ত বিধায় উৎসে কর কাটা হবে না।
এই হিসাবের কোনো রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ নেবে না ব্যাংক। এমনকি হিসাব বন্ধ করা, স্টেটমেন্ট চার্জ ও এসএমএস চার্জও নেবে না ব্যাংক।
ব্যক্তির পাশাপাশি মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, চার্চ, কবরস্থান, মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, সমিতি বা এ ধরনের যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন এ হিসাব খুলতে পারবে। তবে এই হিসাবের বিপরীতে ব্যাংক কোনো চেক ইস্যু করবে না। অর্থাৎ হিসাবটি হবে চেকবিহীন। হিসাব খোলার সময় গ্রাহককে আমানত রশিদ দেওয়া হবে। এই হিসাব এক শাখা থেকে অন্য শাখায় নেওয়া যাবে না। হিসাবের বিপরীতে কোনো ঋণও দেওয়া হবে না।
সাধারণত দেশের ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোতে এ ধরনের হিসাব পরিচালনা করা হয়ে থাকে। আল-ওয়াদিয়াহ নামে এই হিসাব পরিচালনা করে ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো। প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর ইসলামী উইন্ডো এ ধরনের হিসাব পরিচালনা করে। তবে অন্য কোনো রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক বা বিশেষায়িত ব্যাংকে এখন এ ধরনের সুদমুক্ত স্থায়ী আমানত হিসাব নেই। সোনালী, জনতা, রুপালী ও অগ্রণী ব্যাংকে লিখিতভাবে সুদ নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়ে সঞ্চয়ী হিসাব খুলে অর্থ জমা রাখতে পারেন গ্রাহক। এই ব্যাংকগুলোর চলতি হিসাবে সুদ দেওয়া হয় না। এমনকি বেশিরভাগ বেসরকারি ব্যাংকও চলতি হিসাবের বিপরীতে সুদ দেয় না। কিন্তু ব্যাংক ভেদে আলাদা আলাদা সার্ভিস চার্জ ও মেইনটেনেন্স ফি দেওয়া লাগে গ্রাহকদের। বর্তমানে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) সুদমুক্ত সঞ্চয়ী হিসাব রয়েছে।
এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে দ্য সিটি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ইষ্টার্ন ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক তাদের ইসলামী উইন্ডো বা উইংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের সুদমুক্ত সেবা দিয়ে থাকে।