• বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বেলুচিস্তানে হামলা: চীন ও ট্রাম্পকে দেয়া পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি কি ঝুঁকিতে মাদুরোর মুক্তির দাবিতে কারাকাসে হাজারো মানুষের মিছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনায় বসতে রাজি, তবে এজেন্ডা নিয়ে মতভেদ ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনার প্রথম দিন ‘ফলপ্রসূ’ অ্যান্ড্রু ও ভার্জিনিয়ার আলোচিত সেই ছবি ‘আসল’ মাটির নিচের নতুন মিসাইল ঘাঁটি উন্মোচন ইরানের তুরস্ক-মিসর ও কাতার মিলে দিলো আলোচনার কাঠামো টানা দ্বিতীয় ম্যাচ বয়কট করলেন রোনালদো, ছাড়তে পারেন সৌদি ক্লাব! বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে ভারত–ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত, বললেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ভারত–ম্যাচ বয়কট: পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানালেন আসিফ নজরুল

২০২৬ বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে ব্যয়বহুল, হু হু করে বাড়ছে টিকিটের দাম

প্রভাত রিপোর্ট / ৩ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রভাত স্পোর্টস : গত বছরের ৫ ডিসেম্বর ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ড্র হওয়ার পর থেকেই আসলে এই ‘ডমিনো এফেক্টের’ শুরু। হু হু করে বাড়ছে টিকিটের দাম, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিশ্বকাপের শহরগুলোয় হোটেলের ভাড়াও।
যাঁরা মাঠে বসে খেলা দেখার পরিকল্পনা করেছেন, তাঁদের এখনই ক্রেডিট কার্ডের লিমিট বাড়িয়ে নিতে হচ্ছে। দ্য অ্যাথলেটিকের এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এবারের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আসর।
এবারের আসর যে ব্যয়বহুল হতে যাচ্ছে, এর বড় কারণ টিকিটের অবিশ্বাস্য মূল্য। চাহিদাও রেকর্ড পরিমাণ। লটারিতে টিকিট পাওয়ার জন্য গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত জমা পড়েছে প্রায় ৫০ কোটি আবেদন! আজ (৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে ই–মেইলের মাধ্যমে জানানো হবে কার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তো আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, অনেক সমর্থক বেশি লাভে টিকিট ‘রিসেল’ করবেন। ফলে টিকিটের দাম যে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু শুধু টিকিট পেলেই তো আর হবে না! খেলা দেখতে তো যেতে হবে, আর সেখানে থাকতেও হবে। এই ‘থাকা-খাওয়া’ নিয়েই বিশাল ঝামেলায় পড়তে যাচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
সস্তায় থাকার জন্য ফুটবলপ্রেমীরা এয়ারবিএনবি বা বুকিং ডটকমের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর সাহায্য নেন। কিন্তু সেখানে যে হারে ভাড়া চাওয়া হচ্ছে, তা দেখে অনেকেরই চোখ ছানাবড়া। যেমন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের কাছে একটি হোটেলের ভাড়া বর্তমানে প্রতি রাতে ৪ হাজার ৫১০ ডলার (প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা)! অথচ সাধারণ সময়ে এই হোটেলের ভাড়া থাকে মাত্র ১৫৩ ডলার। অর্থাৎ ভাড়া বেড়েছে প্রায় ২,৮৪৮ শতাংশ!
শর্ট হিলস এলাকায় সাত বেডরুমের একটি বাড়ি তিন রাতের জন্য ভাড়া দেওয়া হচ্ছে প্রায় ৩৫ হাজার ডলারে। লস অ্যাঞ্জেলেসেও স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার চাহিদা বেড়েছে ১২১ শতাংশ। এয়ারবিএনবির তথ্যমতে, ড্র হওয়ার পর আবাসনের জন্য অনুসন্ধান বেড়েছে ১৬০ শতাংশ। অনেক শহরে পর্যটকদের এই বিশাল চাপ সামলানোর মতো পর্যাপ্ত হোটেল নেই বলে উদ্বেগ জানানো হয়েছে দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে।
বিশ্বকাপের খরচ শুধু টিকিট আর হোটেলেই শেষ নয়। নিজের গাড়ি নিয়ে স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে যাওয়াটা এবার বিলাসিতা মনে হবে। লস অ্যাঞ্জেলেসে ফিফার অফিশিয়াল পার্কিং স্পটগুলোর দাম ধরা হয়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ ডলার! মজার ব্যাপার হলো, অনেক ক্যাটাগরির টিকিটের দামের চেয়েও এই পার্কিং ফি বেশি। আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, ৩০০ ডলার দিয়ে গাড়ি পার্ক করে আপনাকে প্রায় এক মাইলের বেশি পথ হেঁটে স্টেডিয়ামে যেতে হবে। তবে ২০-২৫ মিনিটের হাঁটাপথকেও ফিফা বলছে ‘লোকাল কন্ডিশন’ অনুযায়ী যৌক্তিক!
এদিকে চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে অনেক বাড়ির মালিক এখন আগের বুকিং বাতিল করে দিচ্ছেন। অ্যান্থনি জোরিচ নামের ক্রোয়েশীয় বংশোদ্ভূত এক সমর্থক ডালাসে একটি বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন ৩২৭ ডলারে। কিন্তু বিশ্বকাপের ড্রর পর হুট করে মালিক সেটি বাতিল করে দেন ‘রক্ষণাবেক্ষণের’ অজুহাতে। অথচ মাত্র এক ঘণ্টা পরেই জোরিচ দেখতে পান, সেই একই বাসা ৯১৭ ডলারে আবার ভাড়ার জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে! অর্থাৎ দাম রাতারাতি তিন গুণ করে দেওয়া হয়েছে।
এয়ারবিএনবি অবশ্য বলছে, তারা এমন আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। মালিকদের জরিমানা করা হচ্ছে এবং তাঁদের প্রোফাইল ব্লক করে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাতেও ভুক্তভোগী সমর্থকদের ভোগান্তি খুব একটা কমছে না। জন সিয়ার নামের ইংল্যান্ডের এক সমর্থক তো আরও অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা জানালেন। বোস্টনে তিনি আগেভাগে বাসা বুক করেছিলেন সস্তায়। ড্রর পর মালিক মেসেজ দিলেন—‘সফটওয়্যারের ত্রুটি’র কারণে তাঁর বুকিং রাখা যাচ্ছে না। সিয়ারের ধারণা, আসলে দাম বাড়িয়ে পুনর্বিক্রয় করতেই এই বাহানা।
২০২৫ সালের জুনে এয়ারবিএনবি ফিফার অফিশিয়াল পার্টনার হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই বিশ্বকাপে শুধু এয়ারবিএনবিতেই প্রায় ১২০ কোটি ডলারের লেনদেন হবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ‘টেইলর সুইফট ইফেক্ট’ বা ‘বিয়ন্সে ইফেক্ট’- দেখা গেছে। তাঁদের কনসার্ট ঘিরে কোনো শহরের অর্থনীতি চাঙা হয়ে উঠত।
আগামী ১৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত পুরো বিশ্বই হয়তো দেখবে ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ইফেক্ট’।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও