আজ
|| ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২২শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
জাবিতে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক লাঞ্ছিত, ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ
প্রকাশের তারিখঃ ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সুমাইয়া আক্তার, জাবি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সংবাদ সংগ্রহকালে আরিফুর রহমান নামের এক ক্যাম্পাস সাংবাদিকের ওপর হামলা ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ সময় তার ক্যামেরা ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী আরিফুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জাবি প্রতিনিধি। তিনি জানান, গত ৬ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে সংবাদ সংগ্রহের সময় নিজের পরিচয় নিশ্চিত করার পরও পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের ৪৮ ব্যাচের মোহাম্মদ ইমন, দর্শন বিভাগের ৪৮ ব্যাচের মো. সাহানুর রহমান সানজুসহ অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচ-ছয়জন তাকে ঘিরে ধরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
আরিফুর বলেন, ‘ইমন আমার হাত থেকে মোবাইল ফোন জোর করে নিয়ে ফুটেজ দেখতে থাকে। ক্যামেরা (সনি আলফা ৬৪০০) কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ক্যামেরা ও লেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’ পরে জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিবসহ কয়েকজন ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইমন বলেন, ‘মারধর বা হেনস্তার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার দাবি, সেদিন রাতে সুরা বিকৃত করে পাঠ করার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা সেখানে ছিলেন। এ সময় ওই সাংবাদিক উল্টো তাদের এক সহপাঠীকে ধাক্কা দিলে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।’
মোবাইল ও ক্যামেরা চেক করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সুরা বিকৃতির ঘটনাটির ফুটেজ তার কাছে আছে কি না, আমরা কেবল তা দেখতে চেয়েছিলাম। ক্যামেরা ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার পর সহকারী প্রক্টর আব্দুর রাজ্জাক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মেহেদী মামুনকে বিষয়টি জানান ভুক্তভোগী।
আরিফুরের অভিযোগ, পরে অভিযুক্তরাসহ বাংলা বিভাগের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান ইমন (বাবু) আবারও এসে তার নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করার কথা বলে দ্বিতীয়বার তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি পরপর দুইবার আক্রমণের শিকার হই।’
অভিযোগের বিষয়ে মাহমুদুল হাসান ইমন (বাবু) জানান, ঘটনার শুরুতে কী হয়েছে তা তিনি জানতেন না। ধর্ম অবমাননার খবর শুনে সেখানে যান এবং দেখেন কয়েকজন শিক্ষার্থী বাগবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন এবং কাউকে আঘাত করেননি বলে দাবি করেন।
এ ছাড়া ঘটনার পর ভুয়া ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে তাকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন আরিফুর।
একজন সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এ ধরনের হামলাকে সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মতপ্রকাশ ও সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা সংবিধানে প্রদত্ত মতপ্রকাশ ও সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.