আজ
|| ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২২শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
বাড়তি ভাড়া আর যানজটে নাকাল ঘরমুখো মানুষ
প্রকাশের তারিখঃ ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রভাত রিপোর্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া শিল্পাঞ্চলের ছুটিকে কেন্দ্র রাজধানী ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার মানুষের ঢল নেমেছে। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বাস সংকটের সুযোগে কয়েকগুণ বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে এবং অতিরিক্ত ভাড়া গুনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো যাত্রীরা। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে শত-শত মানুষজন দাঁড়িয়ে আছে। আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল দেখা গেছে। কলেজগেট ও গাজীপুরা এলাকায় যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আবার আন্তঃজেলা ও অন্তঃজেলার বাসগুলোও বাড়তি আয়ের আশায় স্বাভাবিক রুট ছেড়ে একাধিক ট্রিপ মারছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এতে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
যাত্রীরা জানান, ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যেতে যেখানে সাধারণত বাসভাড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, সেখানে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। বাস না পেয়ে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ট্রাকেও উঠছেন। ট্রাকে জনপ্রতি নেয়া হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।
ময়মনসিংহের বশিরউদ্দিন, ঢাকা থেকে ভোট দিতে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে গ্রামের পথে রওয়ানা হন তিনি। সকাল সকাল যান মহাখালী আন্ত:জেলা বাস টার্মিনালে। তিনি বলেন, টানা চার দিনের ছুটি পেয়েছি। ঈদ আনন্দের মতো লাগছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। মিরপুরের একটি পোশাক কারখানায় প্রায় এক যুগ ধরে কাজ করেন বশিরউদ্দিন। বশিরউদ্দিনের ভাষ্য, সাধারণত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় টানা কয়েক দিনের ছুটি পান পোশাক শ্রমিকরা। তখন সবাই আনন্দ নিয়ে গ্রামে ছুটে যান। এখন নির্বাচন উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে টানা চার দিনের ছুটি পেয়েছেন। এতে ঈদ আনন্দের মতো লাগছে তার। তিনি আরও বলেন, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিতে গ্রামে গিয়েছিলাম। কিন্তু কেন্দ্রে গিয়ে দেখি, আমার ভোট কে যেন দিয়ে দিয়েছে। তখন ভয়ে প্রতিবাদও করার সাহস পাইনি। এবার গণঅভ্যুত্থানের পর সময় পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ নিজ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চায়। আশা করি এবার ভোটের পরিবেশ ভালো থাকবে।
তার মতো আরও বহু মানুষ ভোট দিতে গ্রামে যাচ্ছেন। তাদের সবার মুখে একই কথা, দীর্ঘ কয়েকবছর পর এবার জাতীয় নির্বাচন জমে উঠেছে। ভোট দিতে দল বেধে গ্রামে ছুটছেন তারা। এই আনন্দ ঈদের উৎসবের মতো লাগছে। এখন সুষ্ঠুভাবে নিজের ভোট, নিজেরাই দিতে চান তারা।
মহাখালী বাস টার্মিনালের পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা জানান, মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে দিনে পাঁচ শতাধিক বাস বগুড়া, নওগাঁ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুর, বৃহত্তর ময়মনসিংহ তথা নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর, টাঙ্গাইল জেলায় চলাচল করে। এছাড়া ওই টার্মিনাল থেকে সিলেটেও বাস চলাচল করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রী পরিবহনে তিন শতাধিক দূরপাল্লার বাস সারিবদ্ধভাবে পার্কিং করা রয়েছে। টার্মিনালের সামনে রাখা বাসগুলোতে একেক করে যাত্রী উঠছেন। যাত্রীদের অনেকেই পরিবার নিয়ে গ্রামে যাচ্ছেন। আবার অনেকে একাই যাচ্ছেন।
বিলাশ পরিবহনের একটি বাসে উঠেন মোস্তাক আহমেদ। তার গন্তব্য শেরপুরে। আলাপকালে মোস্তাক আহমেদ বলেন, পছন্দের দলকে ভোট দিতে গ্রামে যাচ্ছি। ঈদের মতো আনন্দ লাগছে।
নির্বাচন ও গণভোটের কারণে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকে টানা চারদিনের ছুটি পেয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যারা চাকরি করেন তারাও তিন দিনের (১৩ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার) ছুটি পেয়েছেন। এ কারণে আজ মঙ্গলবার থেকে উত্তরাঞ্চলগামী বাসের টিকিট সংকট রয়েছে। কোনো বাসেই আসন ফাঁকা নেই। তবে মহাখালী বাস টার্মিনালের চিত্র অনেকটা ভিন্ন। এখানে লম্বা সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে যাত্রীরা টিকিট পাচ্ছেন। তবে যাত্রী চাপ অনেক বেশি।
ইউনাইটেড পরিবহনের কাউন্টারের বিক্রয় কর্মী হাসান মিয়া বলেন, তাদের এসি, ননএসি সার্ভিস রয়েছে। সিরিয়াল দিয়ে টিকিট কাটছেন যাত্রীরা। কারো টিকিট পেতে সমস্যা হচ্ছে না।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক কাজী জোবায়ের মাসুদ গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচনি ছুটির কারণে মহাখালীসহ ঢাকার বাস টার্মিনালগুলোতে সকাল থেকে যাত্রী চাপ রয়েছে। দুপুরের পর এ চাপ আরও কয়েকগুণ বাড়তে পারে। তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে প্রায় আড়াই হাজার বাস রিকুইজিশন করেছে পুলিশ।দূরপাল্লার গন্তব্যগুলোতে যেতে বাসের কিছুটা সংকট রয়েছে। তারপরও যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা চেষ্টা করছেন।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.