প্রভাত অর্থনীতি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) লেনদেনে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বিপাকে পড়েছেন নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত নেতাকর্মীসহ সাধারণ গ্রাহকেরা। বিকাশ ও নগদে ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউট বন্ধ থাকায় কর্মীদের যাতায়াত ভাড়া ও হাতখরচ পাঠাতে না পেরে অনেক জায়গায় বাকিতে চলছেন কর্মীরা। একই সঙ্গে এমএফএসের মাধ্যমে বেতন পাওয়া গার্মেন্ট শ্রমিক ও এজেন্টরাও পড়েছেন ভোগান্তিতে।
গাজীপুর-১ আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনাকারী আমানউল্লাহ আমান বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে কর্মীদের চা-খরচ ও যাতায়াত ভাড়া বাবদ টাকা পাঠানো এবং আশপাশের কিছু কর্মীর নির্ধারিত প্রতিনিধির মাধ্যমে অর্থ পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। তিনি বলেন, “আমরা বিকাশ ও নগদে বেশ কিছু টাকা ক্যাশ-ইন করে রেখেছি। কিছু টাকা তুলে রেখেছি। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং বিধিনিষেধের কারণে টাকা পাঠাতে পারছি না। কিছু নেতাকে ৩০–৪০ হাজার টাকা ক্যাশ দিলেও প্রশাসন ও নানা ভয়ে বিভিন্ন কর্মীর বাড়িতে সেই ক্যাশ পৌঁছানো যাচ্ছে না।”তিনি আরও বলেন, “এখন অনেক কর্মীকে পরিচিত কারও কাছ থেকে হাওলাত (ধার) নিয়ে খরচ চালাতে বলেছি। নির্বাচন শেষে মোবাইল ব্যাংকিং চালু হলে টাকা পৌঁছে দেব। আপাতত তাদের বাকিতে আশ্বাসের ওপর রাখা হয়েছে।”
ভোলা-৪ আসনে নির্বাচন পরিচালনাকারী নেতা জসিম বলেন, “করার কিছু নেই, ১০–২০ টাকাও ক্যাশ-ইন করা যাচ্ছে না। খুবই কম লিমিট দিয়েছে, যার কারণে কাজ করা যাচ্ছে না।” তিনি বলেন, “কিছু এলাকায় ক্যাশ টাকা পাঠিয়ে সামান্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে যে পরিমাণে কর্মীদের কাছে টাকা পৌঁছানোর কথা ছিল, খুবই নামমাত্র পৌঁছেছে। অনেককে নির্বাচনের পরে টাকা দেওয়ার কথা বললেও তারা তাতে ভরসা পাচ্ছেন না।”
রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকার বানিয়ানগর মোড়ে অবস্থিত ‘মায়ের দোয়া ডিপার্টমেন্টাল স্টোর’-এর এক এমএফএস এজেন্ট জানান, বিকাশ, নগদ ও রকেটে ক্যাশ-আউট করা যাচ্ছে না। বিষয়টি না জানায় অনেক গ্রাহক এসে বিরক্ত হচ্ছেন।
ওয়ারী এলাকার তামজিদের স্টোরের এমএফএস এজেন্ট শামসুল ইসলাম বলেন, “বিকাশে কোনো ধরনের লেনদেনই করা যাচ্ছে না। ক্যাশ-আউট ও অ্যাড মানি অপশন বন্ধ। নগদ ও রকেটেও ক্যাশ-আউট বন্ধ। তবে সেন্ড মানির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা পাঠানো যাচ্ছে।”
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস (বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) লেনদেন ৯৬ ঘণ্টা সীমিত রাখার বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে, যা ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
এই ৯৬ ঘণ্টায় গ্রাহকেরা নির্দিষ্ট কিছু সেবা ব্যবহার করতে পারলেও ক্যাশ-ইন বা ক্যাশ-আউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো বন্ধ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে একে অপরকে টাকা পাঠানো বা ‘সেন্ড মানি’ করা যাবে। তবে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার—অর্থাৎ দিনে ১০ হাজার টাকার বেশি সেন্ড মানি করা যাবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচনকালীন সময়ে ভোট কেনাবেচা বা নাশকতামূলক কাজে অর্থের জোগান বন্ধ করতেই এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতের পর থেকে সব ধরনের এমএফএস সেবা আগের মতো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
বিকাশের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও করপোরেট কমিউনিকেশন্সের জনসংযোগ প্রধান শামসুদ্দিন দালিম গণমাধ্যমকে বলেন, “নির্বাচনকালীন সময়ে কালো টাকা যেন না ছড়িয়ে পড়ে, সে জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমএফএসে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। আমাদের যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, আমরা তা পুরোপুরি অনুসরণ করছি।”