• বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন

ভিয়েতনাম বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়াম বানাচ্ছে কেন?

প্রভাত রিপোর্ট / ৫ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রভাত স্পোর্টস: ফুটবল ম্যাচ চলার সময় গ্যালারিতে যখন ঢেউ ওঠে, মনে হয় পুরো স্টেডিয়াম যেন নাচছে। আর সেই গ্যালারি যদি হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড়, তবে সেই উন্মাদনা কোন পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা সহজেই অনুমেয়। ঠিক এমন এক মহাযজ্ঞের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভিয়েতনাম। দেশটি তৈরি করতে যাচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম, যার দর্শক ধারণক্ষমতা হবে চোখ কপালে তোলার মতো—প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার!
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেইল অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বরে হ্যানয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ট্রং ডং’ নামের এই স্টেডিয়াম নির্মাণের সবুজ সংকেত দেয়। আসলে এটি শুধু একটি মাঠ নয়, বরং একটি বিশাল ‘অলিম্পিক স্পোর্টস সিটি’ প্রকল্পের প্রাণকেন্দ্র। আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে আধুনিক সব ক্রীড়া স্থাপনা—কী নেই এখানে! পুরো প্রকল্পের বাজেট শুনলে একটু ধাক্কা খেতেই পারেন—২৮ বিলিয়ন পাউন্ড।
এই স্টেডিয়ামটি কেবল খেলাধুলার জন্য নয়, বরং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রাজনৈতিক সমাবেশের কাজেও ব্যবহার করা হবে। সোজা কথায়, বিশ্বমঞ্চে ভিয়েতনামের শক্তি আর সামর্থ্যের নতুন এক বিজ্ঞাপন হতে যাচ্ছে এই স্থাপনা।
স্টেডিয়ামের নকশাটি করা হয়েছে ভিয়েতনামের প্রাচীন সভ্যতার প্রতীক ‘ডং সন ব্রোঞ্জ ড্রাম’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। ভিয়েতনামি সংস্কৃতিতে এই ড্রাম মূলত একতা ও শক্তির প্রতীক। হাজার বছরের ঐতিহ্যকে আধুনিক স্থাপত্যের সঙ্গে এমনভাবে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে যে স্টেডিয়ামটি হয়ে উঠবে দেশটির এক নতুন আইকন।
প্রকল্পের আয়োজকদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আকাশচুম্বী। তারা বলছেন, ইংল্যান্ডের ওয়েম্বলি, চীনের ‘বার্ডস নেস্ট’ কিংবা কাতারের লুসাইল স্টেডিয়াম যেমন নিজ নিজ দেশের গর্ব, এই স্টেডিয়ামও হবে ভিয়েতনামের জাতীয় গৌরবের প্রতীক।
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম হিসেবে পরিচিত উত্তর কোরিয়ার ‘রুনগ্রাদো ফার্স্ট অব মে স্টেডিয়াম’। সেখানে বসে খেলা দেখতে পারেন ১ লাখ ১৪ হাজার মানুষ। তবে ভিয়েতনামের এই নতুন মাঠের কাজ শেষ হলে উত্তর কোরিয়াকে অনায়াসেই টপকে যাবে তারা। কারণ, এখানে আরও ২১ হাজার বেশি দর্শক বসার সুযোগ পাবেন।
এমনকি ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মরক্কো যে ১ লাখ ১৫ হাজারি ‘দ্বিতীয় হাসান স্টেডিয়াম’ বানাচ্ছে, সেটিও দ্বিতীয় স্থানে চলে যাবে ট্রং ডংয়ের ঝড়ে।
ট্রং ডং স্টেডিয়ামের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ভিয়েতনাম এখন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে বড় খেলোয়াড় হতে চায়। সে জন্য আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধার কোনো বিকল্প নেই। এই স্টেডিয়াম হবে বিশ্বমানের ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ার পথে দেশটির সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এটি পিছিয়ে নেই। এখানে থাকবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘রিট্র্যাকটেবল’ বা খোলা-বন্ধ করা যায় এমন ছাদ। সেই সঙ্গে পরিবেশের কথা মাথায় রেখে ব্যবহার করা হচ্ছে জ্বালানি–সাশ্রয়ী আধুনিক প্রযুক্তি।
বিশ্বকাপ ফুটবল কিংবা অলিম্পিকের মতো বড় আসর আয়োজনের স্বপ্ন নিয়েই গত ডিসেম্বরে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। পুরো প্রকল্পটি চারটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৮ সালের মধ্যে স্টেডিয়ামটির মূল কাজ শেষ হবে। তবে পুরো স্পোর্টস সিটি এবং পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়নসহ সব কাজ শেষ হতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও