প্রভাত স্পোর্টস: প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা–দৌড়ে এগিয়ে থাকা আর্সেনালের ওপর চাপ যে আসবে, তা আগেই বোঝা যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ১–১ গোলের ড্রয়ে মিকেল আরতেতার দলের ওপর সেই চাপ এখন আরও বেশি। শিরোপা লড়াইয়ে থাকা দলগুলোর মধ্যে আর্সেনাল এখনো ৪ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে। তবে তালিকায় দ্বিতীয় ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে তাদের পয়েন্টের ব্যবধানটা ক্রমেই কমে আসছে।
আর্সেনাল যদি ব্রেন্টফোর্ডকে হারাতে পারত, তবে তারা ৬ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে যেত। শুধু তা–ই নয়, আগামী বুধবার উলভসের বিপক্ষে জিতে সেই ব্যবধান ৯ পয়েন্টে নিয়ে যাওয়ার সুযোগও ছিল। কিন্তু এখন উল্টো ৪ পয়েন্টের ব্যবধান নিয়ে পরিকল্পনা সাজাতে হবে আর্সেনাল কোচ আরতেতাকে। ২৬ ম্যাচে আর্সেনালের পয়েন্ট ৫৭, সমান ম্যাচে সিটির পয়েন্ট ৫৩।
লিগে এখনো ১২ ম্যাচ বাকি। তবে এই মুহূর্তে আর্সেনালকে চোখ রাঙাচ্ছে অতীত। মৌসুমের শেষ দিকে গানারদের পারফরম্যান্স খুব একটা ইতিবাচক নয়। একাধিকবার শেষ দিকের ম্যাচগুলোতে পয়েন্ট হারিয়ে লিগ শিরোপা হাতছাড়া করার ঘটনাও ঘটেছে। এবারও তেমন পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, সেই শঙ্কাও এখন দেখা দিয়েছে।
গত পাঁচ মৌসুমে মাত্র একবারই আর্সেনাল একটি মৌসুমের শেষ ১২টি লিগ ম্যাচের মধ্যে ১০টিতে জিততে পেরেছে। এ ছাড়া ওই মৌসুমগুলোতে শেষ ১২ ম্যাচে আর্সেনাল কখনোই শেষ পর্যন্ত শিরোপাজয়ী দলের চেয়ে বেশি পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারেনি।
শিরোপা জয়ের চেষ্টায় থাকা আর্সেনালের অতীত অভিজ্ঞতা এবং আরতেতার অধীনে তাদের ইতিহাস নিয়ে চারপাশে যে আলোচনা চলছে, সে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আর্সেনাল কোচ বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ম্যাচ জেতার মানসিকতা নিয়ে প্রস্তুতি নেব। আমাদের একমাত্র কাজ হলো সেদিকেই মনোযোগ রাখা এবং দলগত ও ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের মান আরও বাড়ানো, যাতে প্রতি সপ্তাহে প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো খেলতে পারি।’
গত রবিবার ম্যানচেস্টার সিটি যখন লিভারপুলের বিপক্ষে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে ছিল, তখন আর্সেনালের ৯ পয়েন্টে এগিয়ে যাওয়াকে সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচটি জিতে নেয় সিটি, যা স্বাভাবিকভাবেই চাপ বাড়ায় আর্সেনালের ওপর। সেই চাপ সামলাতে না পেরে গতকাল রাতে পয়েন্ট হারাল আরতেতার দল। যদিও সিটির পরে খেলাকে চাপ বলে মনে করছেন না আর্সেনাল কোচ, ‘এ মৌসুমে কয়েকবারই আমরা তাদের পরে খেলেছি এবং ভালো খেলেই ম্যাচ জিতেছি।’
চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনাল এখন পর্যন্ত ১৭টি ম্যাচে প্রথম গোল করেছে। এর মধ্যে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ড্র’টা মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ, যেখানে তারা জিততে পারেনি। অন্যটি ছিল জানুয়ারিতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে হারের ম্যাচ।
এর মধ্যে আর্সেনালকে চোখ রাঙাচ্ছে চোট। ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ম্যাচে আর্সেনাল তাদের মূল সেন্টার-ব্যাক উইলিয়াম সালিবাকে ছাড়া খেলেছে। সালিবা এবং গ্যাব্রিয়েল ম্যাগালায়েসের জুটির কারণে আর্সেনাল এই মৌসুমে লিগে মাত্র ১৮টি গোল হজম করেছে। লিগে এখনো ১২ ম্যাচ বাকি। তবে এই মুহূর্তে আর্সেনালকে চোখ রাঙাচ্ছে অতীত। মৌসুমের শেষ দিকে গানারদের পারফরম্যান্স খুব একটা ইতিবাচক নয়।
পরিসংখ্যানও সালিবার গুরুত্ব প্রমাণে যথেষ্ট। ২০২২-২৩ মৌসুমের শুরু থেকে সালিবার খেলা ম্যাচে আর্সেনালের জয় হার ৬৮.৬ শতাংশ। সালিবার না খেলা আর্সেনালের জয়ের হার কমে দাঁড়ায় ৪২.১ শতাংশে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি হাঁটুর চোট থেকে ফিরে আসার পর কাই হাভার্টজ মাংসপেশির চোটে আক্রান্ত হওয়ায় দলের সঙ্গে নেই। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই খেলোয়াড়দের হারানো নিশ্চিতভাবে সামনের দিনগুলোতে চাপে রাখবে আর্সেনালকে। তবে আর্সেনালের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি সম্ভবত তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স। শেষ ৫ ম্যাচের তিনটিতেই পয়েন্ট হারিয়েছে তারা। দুটিতে ড্র এবং অন্যটিতে হার। সাবেক আর্সেনাল ডিফেন্ডার মার্টিন কিউন টিএনটি স্পোর্টসকে বলেছেন, ‘যখন আমি মাঠ ছাড়ছিলাম, মানুষ চিৎকার করছিল, “ম্যান সিটি ধরতে আসছে।” তারা যদি ম্যাচটা জিতত, তবে বড় এক বার্তা দিয়ে দিতে পারত। কিন্তু প্রথম থেকেই তা পারবে বলে মনে হচ্ছিল না।’
সর্বশেষ তিন মৌসুমে রানার্সআপ হওয়ার পথে আর্সেনাল দুটিতে শিরোপা হাতছাড়া করেছে সিটির কাছে। আবারও মৌসুমের শেষভাগে এসে সেই সিটির সঙ্গে লড়তে হচ্ছে তাদের, যা অনেক সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্কও তৈরি করেছে।
সাবেক ইংলিশ ফুটবলার পিটার ক্রাউচ ‘টিএনটি স্পোর্টস’কে বলেন, ‘ম্যান সিটির যা আছে, তা হলো অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক ইতিহাস। এটা স্টেডিয়ামে একধরনের স্নায়ুচাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে মৌসুমের শেষ দিকে।’ ম্যান সিটি ও পেপ গার্দিওলাকে পেছনে দেখে আপনি সব সময় পেছনে তাকিয়ে থাকবেন। তবে আর্সেনালের অবস্থান অনেক বেশি সুবিধাজনক।’
ক্রাউচের মতে, আর্সেনালের জন্য শিরোপা জেতার এমন একটি সুযোগ আর কখনো আসবে না, ‘ম্যান সিটি আর পুরোনো ম্যান সিটি নয়। লিভারপুল আর আগের মতো নেই। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও চেলসিও আগের মতো নেই। লিগের শীর্ষ স্তরের মানের অভাব রয়েছে। অতীতের মতো স্ট্যান্ডার্ড এখন আর নেই। এটা এখন আর্সেনালের জন্য দারুণ সুযোগ। যদি তারা শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে না পারে, তাহলে আরও অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হবে।’