• রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জামায়াত আমিররে বাসায় তারেক রহমান আদালতের নির্দেশ পেলে ভোট পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে: ইসি আনোয়ারুল নির্বাচন-পরবর্তী দুই শতাধিক সহিংসতায় নিহত ৩, আহত তিন শতাধিক: এইচআরএসএস নির্বাচনে অসংগতি ও প্রতিহিংসার অভিযোগে বিক্ষোভের ডাক ১১ দলীয় জোটের মন্ত্রিপরিষদ সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের কারণ জানালেন প্রেস সচিব ধানমন্ডিতে ঢাবি শিক্ষকসহ ৫ জনকে আটকের পর ছেড়ে দিল পুলিশ আমরা সৌভাগ্যবান, যারা সুযোগ পেয়েছিলাম: শেষ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা রমজান মাসে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ নতুন সরকারের স্পিকার হতে পারেন ড. আব্দুল মঈন খান দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় মির্জা ফখরুল

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় মির্জা ফখরুল

প্রভাত রিপোর্ট / ৩ বার
আপডেট : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনে দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এককভাবে সরকার গঠনের সুযোগ পেল। দলটির অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ ও প্রবীণ নেতা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব নেওয়ার পথে। দলের পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা করা হয়েছে, নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণ করবে আগামীকাল মঙ্গলবার।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ নেবেন। একই দিনে বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি, তাই রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হবেন।
দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, রাষ্ট্রপতির পদে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচনের পর তিনি দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব এবং আপসহীন চরিত্র তাকে রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই নেতা ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে তিনি ঢাকা কলেজসহ সরকারি বিভিন্ন কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনীতিতে তিনি ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী এবং দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালে মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর দলের ইতিহাসে দীর্ঘমেয়াদি মহাসচিব হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নতুন সরকারের স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও তরুণ নেতৃত্বকে সমন্বয় করে নির্বাচিত ও অনির্বাচিত সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা চলছে। দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, তিন প্রবীণ নেতা এবং একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তির নাম রাষ্ট্রপতির পদে আলোচনায় রয়েছে। এই পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নজরুল ইসলাম খান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি, তবে দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজনীতিতে যুক্ত আছেন। এক সময় তিনি কুয়েতে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করেছেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে পারদর্শী হিসেবে তৈরি করেছে।
অপরদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেও রাষ্ট্রপতির পদে রাখার বিষয়ে বিএনপিতে আলোচনা চলছে। অতীতে বলা হয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রপতি হতে পারেন। এছাড়া মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নামও আলোচনায় রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী এবং অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন ব্যাপারী নামও রাষ্ট্রপতির পদে আলোচনায় এসেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শপথ ও সরকার গঠন সংক্রান্ত কোনো প্রক্রিয়া সংবিধানের বাইরে হলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে। তাই গেজেট প্রকাশের তিনদিন পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তাবনা নেয়া হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও