আজ
|| ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
আবারও আলোচনায় নিউ মেক্সিকোতে কুখ্যাত এপস্টিনের খামার
প্রকাশের তারিখঃ ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রভাত ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা গতকাল সোমবার একটি আইন পাস করেছেন। তাঁরা বলছেন, এটিকে সেখানকার জোরো র্যাঞ্চ নামের খামারে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর প্রথম পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করার উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেছেন। কুখ্যাত মার্কিন যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের বিরুদ্ধে এ খামারে নারী পাচার এবং তাদের যৌন হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে।
দলমত–নির্বিশেষে একটি তদন্ত কমিটি ওই খামারে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলা মানুষদের সাক্ষ্য নেবে। খামারটি অঙ্গরাজ্যের রাজধানী সান্তা ফে থেকে প্রায় ৩০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। আইনপ্রণেতারা স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সামনে এসে তথ্য ও সাক্ষ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এপস্টিন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে মারা যান। কর্তৃপক্ষ এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে সাব্যস্ত করে। ওই সময় এপস্টিনের বিরুদ্ধে নারী পাচারসংক্রান্ত একটি মামলায় বিচারকাজ চলছিল।
তথাকথিত ‘সত্য অনুসন্ধান কমিশনে’ চারজন আইনপ্রণেতা রয়েছেন। তাঁরা এপস্টিনের ৭ হাজার ৬০০ একর আয়তনের খামারটিতে ভ্রমণকারী অতিথি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। তাঁরা আশা করছেন, এর মধ্য দিয়ে খামারের মূল ভবন ও অতিথি ভবনে সংঘটিত যৌন নির্যাতনে কারা অংশ নিয়েছিলেন, তা জানা যাবে।
ডেমোক্রেটিক নেতৃত্বাধীন এই তদন্তে রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে এবং এপস্টিনের অপরাধ উদ্ঘাটনের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টিন সংক্রান্ত লাখ লাখ নথি প্রকাশ করেছে। ওই সব নথিতে জোরো খামারে ঘটা নানা কর্মকাণ্ডের তথ্যও আছে।
নথিগুলোতে দেখা গেছে, এপস্টিনের সঙ্গে নিউ মেক্সিকোর দুজন সাবেক ডেমোক্র্যাট গভর্নর এবং একজন অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্পর্ক ছিল।
নিউ মেক্সিকোর প্রতিনিধি পরিষদে সর্বসম্মতভাবে পাস হওয়া একটি আইনের আওতায় খামারটি নিয়ে তদন্ত হবে। এতে এপস্টিনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকা আরও রাজনীতিবিদ, বিজ্ঞানী, বিনিয়োগকারী ও খামারে যাওয়া প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ই–মেইল থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালে এপস্টিন জোশুয়া রামোকে বলেছিলেন, তিনি টেন থাউজ্যান্ড ওয়েভস নামের একটি স্পা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন। সান্তা ফেতে মধ্যাহ্নভোজের জন্য দেখা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এপস্টিন। উত্তরে রামো লিখেছিলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম আমরা পিংক বটম র্যাঞ্চে দেখা করব।’
এ তদন্তের জন্য ২৫ লাখ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির সমন জারি করার ক্ষমতা আছে। এর লক্ষ্য হলো, নিউ মেক্সিকোর আইনে যে দুর্বলতা থাকার কারণে এপস্টিন সেখানে সহজে কাজ করতে পেরেছিলেন, সেগুলো চিহ্নিত করা। কমিটির আগামী জুলাইয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদন এবং বছরের শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা আছে।
ভুক্তভোগীদের পক্ষে কাজ করা অধিকারকর্মীরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ফেডারেল তদন্তে মূলত এপস্টিনের ক্যারিবীয় দ্বীপ ও নিউইয়র্কের বাড়ির দিকে নজর দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু জোরো র্যাঞ্চ প্রায় উপেক্ষিত ছিল।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের মন্তব্য জানতে চাইলে তারা এফবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে। তবে এফবিআই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
নাগরিক সমাজের দায়ের করা কয়েকটি মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে, এপস্টিন জোরো খামারে মেয়েদের যৌন হয়রানি করতেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কখনো কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
খামারটিকে স্থানীয়ভাবে ‘প্লেবয় র্যাঞ্চ‘ নামে ডাকা হয়ে থাকে। আইনপ্রণেতা আন্দ্রিয়া রোমেরো বলেন, খামারটিতে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থা আগে কখনো তল্লাশি চালিয়েছে বলে তথ্য নেই।
অভিযোগ আছে, ১৯৯৬ সালের শুরুর দিকে এপস্টিন ওই খামারে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়েছিলেন।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.