প্রভাত স্পোর্টস : ম্যানচেস্টার সিটির ডাগআউটে টাকমাথার সেই লোকটা যখন অস্থির হয়ে পায়চারি করেন, গ্যালারির দর্শকেরা তখন নিশ্চিন্ত থাকেন। কারণ, তাঁরা জানেন, ফুটবলীয় মগজ দিয়ে সবুজ ঘাসে দাবা খেলতে পেপ গার্দিওলার জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু প্রশ্নটা হলো—কিংবদন্তিরা তো চিরকাল থাকেন না। গার্দিওলা যখন ইতিহাদ ছাড়বেন, তখন সিটির সেই রাজকীয় সিংহাসনে বসবেন কে?
ফুটবল–দুনিয়ার দলবদলের ‘ইনসাইডার’ ফাব্রিজিও রোমানো অন্তত একটা আভাস দিয়েছেন। তাঁর দাবি, গার্দিওলার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে ম্যানচেস্টার সিটির রাডারে এখন সবার ওপরে একজনের নাম—এনজো মারেসকা। হ্যাঁ, চেলসির সেই সাবেক বস, যাঁকে সম্প্রতি টটেনহামের সঙ্গে জড়িয়ে অনেক গুঞ্জন ডালপালা মেলেছিল। কিন্তু রোমানো জল ঢেলে দিয়েছেন সব জল্পনায়। তাঁর দাবি, সিটির হট সিটে বসার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন মারেসকাই।
২০১৬ সালে ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির হাত থেকে ব্যাটনটা নিয়েছিলেন পেপ। বার্সেলোনা আর বায়ার্ন মিউনিখের সাফল্যের মুকুট মাথায় নিয়ে আসা এই স্প্যানিশ কোচ ইতিহাদকে বানিয়ে ফেলেছেন নিজের সাম্রাজ্য। গত কয়েক বছরে সিটির জার্সিতে তাঁর পরিসংখ্যান দেখলে যেকোনো কোচের ঈর্ষা হতে পারে। ৫৭৪ ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে জয় পেয়েছেন ৪০৪টিতে। ড্র ৮৩ আর হার মাত্র ৮৭ ম্যাচে। জয়ের হার অবিশ্বাস্য—৭০.৩৮ শতাংশ। ঝুলিতে ভরেছেন ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ আর বহু আরাধ্য সেই চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রফি। সব মিলিয়ে সিটিকে এখন পর্যন্ত গার্দিওলা জিতিয়েছেন ১৮টি ট্রফি! কিন্তু এত সব সাফল্যের পর বিদায়ের সুর তো একদিন বাজবেই। ২৬/২৭ মৌসুমের শেষে যখন সিটির সঙ্গে গার্দিওলার চুক্তির মেয়াদ ফুরাবে, তখন কী হবে? বাজারে অনেক গুঞ্জন। জাভি আলোনসো থেকে মিকেল আরতেতা, রবার্তো ডি জেরবি থেকে ভিনসেন্ট কোম্পানি—তালিকাটা বেশ লম্বা। কিন্তু রোমানোর দাবি, দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে মারেসকাই।
মারেসকা কেন? উত্তরটা লুকিয়ে আছে সিটির অন্দরমহলে। ৪৬ বছর বয়সী এই ইতালিয়ান গার্দিওলার সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। হুয়ানমা লিলো যখন চলে গেলেন, মারেসকাই ছিলেন পেপের ডান হাত। সিটির ফুটবল–দর্শনের প্রতিটি রন্ধ্র তাঁর চেনা।
সম্প্রতি চেলসি থেকে বরখাস্ত হয়েছেন মারেসকা। যদিও তাঁর অধীনে চেলসি উয়েফা কনফারেন্স লিগ আর ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছিল। ব্লুদের হয়ে ৯২ ম্যাচে তাঁর জয়ের হার ছিল ৫৯.৭৮ শতাংশ। শোনা যায়, চেলসি কর্তাদের সঙ্গে বনিবনা না হওয়াতেই চাকরি হারিয়েছেন তিনি। তবে চেলসির ক্ষতিই হয়তো সিটির জন্য শাপেবর হতে যাচ্ছে।
টমাস ফ্রাঙ্ককে ছাঁটাই করার পর টটেনহাম নাকি মারেসকাকে পাওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল। কিন্তু রোমানো পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, স্পারদের সঙ্গে মারেসকার কোনো কথা হয়নি। আপাতত ইগর তুদোরকে দিয়ে মৌসুম শেষ করতে চায় টটেনহাম। অন্যদিকে মারেসকার লক্ষ্য আরও বড়—আবারও সেই ইতিহাদে ফেরা, তবে এবার আর সহকারী হিসেবে নয়, এবারে ‘বস’ হয়ে। রোমানোর দাবি কতটা সত্যি, সেটা জানার জন্য আসলে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।