আজ
|| ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২৯শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
সুন্দরবনে বনদস্যু আতঙ্কে মাছ ধরা বন্ধ, বিপাকে হাজারো জেলে
প্রকাশের তারিখঃ ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কুলসুম আকতার পুতুল, শরণখোলা: সুন্দরবনে বনদস্যুদের অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে জেলেদের মাঝে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে দুবলারচরসহ আশপাশের এলাকায় মাছ ধরা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এতে উপকূলীয় হাজারো জেলে পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
দুবলারচর শুটকি পল্লীর অন্তত দশ সহস্রাধিক জেলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ আহরণ বন্ধ রেখে চরে অবস্থান করছেন। সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আলোরকোল থেকে মুঠোফোনে জানান, সুন্দরবন ও সাগরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় জেলেরা চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। বনদস্যুরা জেলেদের ধরে নিয়ে গিয়ে মুক্তিপণ আদায় করছে। টাকা দিতে না পারলে মারধরের ঘটনাও ঘটছে। মৌসুমের শেষ সময়ে এসে কাজ বন্ধ থাকায় জেলেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনে বর্তমানে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে চারটি বনদস্যু চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা সাগর ও বনের নদীপথে বেপরোয়া তৎপরতা চালাচ্ছে।
গত সপ্তাহে দস্যুদের হামলায় আহত চার জেলে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় দস্যুরা আরও সাহসী হয়ে উঠছে।
আলোরকোলে অবস্থানরত রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, “আগে শুনতাম জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ—এখন সাগরে গেলে ডাকাত।” গত ১৫ দিনে বহু জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দস্যুদের কব্জায় এখনও শতাধিক জেলে আটক থাকতে পারে।
এদিকে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মোঃ খলিলুর রহমান জানান, বনদস্যু আতঙ্কে বর্তমানে কোনো জেলে পাস (অনুমতি) নিচ্ছেন না। এতে মাসিক রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, বনদস্যু তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বনরক্ষীরা কাজ করছেন বলেও তিনি জানান।
উপকূলের জেলেরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর অভিযান চালিয়ে বনদস্যু দমন না করা হলে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব ক্ষতি বাড়বে, অন্যদিকে হাজারো জেলে পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়বে।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.