আজ
|| ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ১লা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সম্পাদিত চুক্তি খতিয়ে দেখা দরকার: ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
প্রকাশের তারিখঃ ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রভাত রিপোর্ট: বিগত অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশের সঙ্গে যেসব জানা-অজানা চুক্তি করেছে, সেগুলো খতিয়ে দেখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের পরিকল্পনার সঙ্গে সেসব সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটা যাচাই করা দরকার। এমনকি প্রয়োজনে বাদ দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছাতে উদ্যোগী হতে পারে, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা সিদ্ধান্তও খতিয়ে দেখতে পারে। এজন্য আলাদা ‘ট্রানজিশন দল’ করা যেতে পারে। এরই মধ্যে এলডিসি উত্তরণ পেছাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে গতকাল চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কিছুটা দম নিতে হবে সরকারকে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি স্প্রিন্ট করবে, নাকি ম্যারাথনে দৌড়াবে? ১৮০ দিনের পরিকল্পনার আগে ধৈর্য ধরতে হবে। এই অর্থবছরে কিছু করা ঠিক হবে না।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের বড় ব্যর্থতা, তারা তাদের অর্থনৈতিক সংস্কারের কোনো কৌশলপত্র দেখাতে পারেনি। শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনামন্ত্রী একটি প্রতিবেদন তৈরির কথা বলে বিদায় নিয়েছেন। এই মুহূর্তে জনতুষ্টিবাদী কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
বিএনপি সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘আপনি কৃচ্ছতা না করেন, সংযম দেখাতে হবে। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কৃচ্ছতা না দেখান, সংযম না দেখান তাহলে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি থেকে শুরু করে অন্যান্য অসুবিধাগুলো খুবই পরিষ্কারভাবে ভাগ হয়ে যাবে।’
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু: অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান। আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।
নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে নতুন সরকার এসেছে। রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তারা যথেষ্ট সামর্থ্যবান’ বলেও জানান দেবপ্রিয়।
সরকারের একটা ট্র্যানজিশন টিম বা উত্তরণকালীন দল গঠন করা উচিত জানিয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এক সরকার থেকে আরেক সরকারে যায়; তখন আগের সরকার কী রেখে যাচ্ছে, কী দিয়ে যাচ্ছে, কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি পড়বে সেগুলো এই দল স্বচ্ছতার সঙ্গে মূল্যায়ন করে।
আগের সরকারের কার্যক্রমের ময়নাতদন্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই দল প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয়ের জন্য একটা ব্রিফিং ডকুমেন্টস করতে পারে।’
ট্র্যানজিশন টিমের কাজ প্রসঙ্গে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক বলেন, ‘ডকুমেন্টসে দায়-দেনা পরিস্থিতি, বিগত সরকার যে সমস্ত ক্রয় চুক্তি করে গেছে সেগুলোকে আরও ভালো করে পর্যালোচনা করে দেখা উচিত। যে এই চুক্তিতে কোনো ব্যতয় ঘটেছে কী না কোনো নিয়ম-নীতির। বিগত সরকার যাওয়ার আগে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি করেছে। সে সমস্ত বৈদেশিক চুক্তি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হয়নি, শুধু আমাদের বন্দর দিয়ে দেওয়ার জন্য হয়নি। আরও অন্যান্য ক্ষেত্রে হয়েছে যেগুলো হয়তো আমরা অবহিত না।’
এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘এই সমস্ত বৈদেশিক চুক্তিকেও আবার পুনরায় বিবেচনা করা উচিত, যাতে নতুন সরকারের কাছে এর কী ধরনের দায়-দায়িত্ব বর্তায়; যেহেতু এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনকে পুনঃমূল্যায়ন করতে রাজি আছেন। তাহলে সেগুলো পুনরায় বিবেচনার ভেতরে নিয়ে আসতে হবে বলে আমরা মনে করি। ট্র্যানজিশন দল যদি এই ময়নাতদন্তগুলো করে যেতে পারে, তাহলে অন্য অনেক কাজ সরকার করে যেতে পারবে।’
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.