আজ
|| ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ১লা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
জমজমাট চকবাজারে ইফতারির বাজার
প্রকাশের তারিখঃ ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রভাত রিপোর্ট: পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজারে রমজানের প্রথম দিনই ইফতারসামগ্রীর বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। ক্রেতা–বিক্রেতার ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে শাহি মসজিদের সামনে সার্কুলার রোডের দুই পাশজুড়ে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী এই ইফতারির বাজার। দাম আগের মতো হলেও কয়েকটি পদের ইফতারির দাম কিছুটা বাড়তি বলে অভিযোগ আছে ক্রেতাদের। বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পরই দেখা যায়, দোকানিরা নানা পদের ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসেছেন। হাজারো ক্রেতা সেখানে ভিড় করছেন পছন্দের পদের ইফতারি কিনতে।
প্রতিবছর রমজান মাসজুড়ে এই বাজারে নানা পদের ইফতারি বিক্রি হয়। পুরান ঢাকার বাসিন্দারা ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ চকবাজারে আসেন পছন্দের ইফতারসামগ্রী কিনতে।
রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকা থেকে ইফতারি কিনতে এসেছেন আবদুল হক। তিনি জানান, ইফতারির বিভিন্ন পদের দাম আগের মতোই আছে। তবে মুরগি, কোয়েল পাখির রোস্ট এসব আইটেমে দাম কিছুটা বাড়তি চাচ্ছে। আর গরুর আইটেমের দাম আগের মতোই আছে। কিন্তু এই দাম আমার কাছে কিছুটা বাড়তি মনে হয়েছে। আবদুল হক অভিযোগ করেন, শুরুতে দাম যেমনই থাকুক, অনেক সময় ক্রেতা বেড়ে গেলে বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দেন।
ইফতারসামগ্রী বিক্রি করছিলেন মো. জাকির হোসেন। তিনি পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জ থেকে এসেছেন। এই বিক্রেতা বলেন, তিনি প্রতিবছরের মতো এবারও রমজানে ইফতারির বিভিন্ন আইটেম বিক্রি করছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘এবার বাজার মোটামুটি স্বাভাবিক। শুধু মুরগির দাম একটু বেড়েছে, বাকিগুলোর দাম আগের মতোই আছে।’ ইফতারির অন্য পদলোর দাম স্বাভাবিক বলে দাবি করেন এই বিক্রেতা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইফতারসামগ্রীর মধ্যে কোয়েল পাখির রোস্ট বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। চিকেন কাঠি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মুরগির রোস্ট প্রতি পিচ ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা। চিকেন ললিপপ প্রতি পিচ ৫০ টাকা। কাঠি কাবাব ৬০ টাকা পিস এবং চিকেন বল ৬০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে। নান রুটির মধ্যে দুধ নান ৬০ টাকা, স্পেশাল বাদাম নান ৮০ টাকা এবং গারলিক নান ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ভারী আইটেমের মধ্যে খাসির লেগ প্রতি পিস ৮০০ টাকা। গরুর সুতি কাবাব কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা ও খাসির সুতি কাবাব কেজি ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় আইটেম হিসেবে একটি আস্ত খাসির কাবাবের দাম ১০ হাজার টাকা হাঁকছেন বিক্রেতারা। মো. সালেহ নামের এই বিক্রেতা ক্রেতাদের আকর্ষণের জন্য আস্ত খাসির কাবাব প্রদর্শনে রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘সবাই কিনবে এমন না, কিন্তু দেখতেই মানুষ ভিড় করছে।’ এ ছাড়া গরুর কালা ভুনা প্রতি প্যাকেট ১৫০ টাকা এবং চিকেন তাওয়া প্যাকেট ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
চকবাজারে ইফতারি কিনতে এসেছেন নিউমার্কেটের দোকানি মামুন হোসেন। তিনি জানান, প্রথম রমজান উপলক্ষে তিনি তাঁর দোকানের সব কর্মচারীকে চকবাজারের ইফতারি খাওয়াবেন।
মামুন হোসেন বলেন, ‘প্রথম রমজানের ইফতারি কিনতে এসেছি। দাম আগের মতোই মনে হয়েছে। কিছু আইটেমে সামান্য বেশি দাম চাচ্ছে, তবে মোটের ওপর আগের মতোই আছে। ঐতিহ্যের কারণে চকবাজার থেকেই ইফতারি নেওয়ার আলাদা আনন্দ আছে।’ রমজানজুড়ে প্রতিদিনই দুপুর থেকে মাগরিব পর্যন্ত এই বাজারে ক্রেতাদের ভিড় আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।
Copyright © 2026 প্রভাত. All rights reserved.