প্রভাত রিপোর্ট: রোজার প্রথম দিনেই রাজধানীর বাজারে মুরগির মাংসের দাম বেড়েছে। জাতভেদে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে কেজিতে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) কারওয়ান বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। সেই সঙ্গে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা ও খাশির মাংস ১২০০ থেকে ১২৫০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজারে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা, দেশি মুরগি ৭৫০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা ও লাল লেয়ার মুরগি ৩৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেটের সততা মুরগির আড়তের কর্মচারী সুমন বলেন, সব ধরনের মুরগির দাম বেড়েছে। সপ্তাহখানেক আগে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এখন দাম ২০০ টাকা। দেশি মুরগি ৫৮০ থেকে ৬৮০ টাকা থাকলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৭৫০০ টাকায়। আর ২৮০ টাকার লাল মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকা কেজিতে। এদিকে, বাজারে লেবু ৬০ থেকে ১২০ টাকা হালি, শশা ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি ও বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সেই সঙ্গে আলু ২০ টাকা ও পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজারে মানভেদে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা দামের খেজুর রয়েছে। ৫০টির বেশি জাত ও মানের খেজুর বিক্রি হচ্ছে চট্টগ্রাম নগরীর ফলমন্ডি রেলওয়ে মেনস মার্কেটের ফলের পাইকারি বাজারে। এর মধ্যে ‘কম দামি’ খ্যাত জাহেদি জাতের খেজুরের দাম বেশি বেড়েছে। ১৫ দিন আগে ১০ কেজি প্যাকেটের ‘জাহেদি’ খেজুর বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৯০০ টাকায়। বর্তমানে একই খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। অন্যান্য খেজুরের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম দাম হওয়ায় জাহেদি খেজুরকে ‘কম দামি’ খেজুর বলা হয়। নিম্ন ও নিম্নমধ্য আয়ের লোকজন এসব খেজুরের ভোক্তা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, থাইল্যান্ডে সাগরে ডুবে যাওয়া জাহাজে খেজুরও ছিল। এসব খেজুরভর্তি কনটেইনার সাগরে ডুবে গেছে। যার বেশিরভাগই কম দামি খেজুর। তবে বাজারে অন্য সব ধরনের খেজুরের দাম গত বছরের তুলনায় কম। বাজারে সরবরাহও স্বাভাবিক।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি থাইল্যান্ডের ফুকেটের অদূরে আন্দামান সাগরে কনটেইনারবাহী জাহাজ ‘এমভি সিলয়েড আর্ক’ ডুবে যায়। জাহাজটি মালয়েশিয়া থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আসছিল। চট্টগ্রামের খেজুর ব্যবসায়ীদের দাবি, এমভি সিলয়েড আর্ক জাহাজটিতে প্রায় দেড়শ কনটেইনার খেজুর ছিল।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, মিশর, জর্ডান, আলজেরিয়া, তিউনিশিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত এবং চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে খেজুর আমদানি হয়। আবার স্বল্প পরিমাণে যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, হংকং, মালয়েশিয়া থেকে খেজুর আনেন সৌখিন ব্যক্তিরা।
এনবিআরের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে ফ্রেশ খেজুর আমদানি হয়েছে ৫১ হাজার ৫৮৪ টন। গত অর্থবছরে একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৪৪ হাজার ২৮ টন। যা গত বছরের তুলনায় এবার ৭ হাজার ৫৫৬ টন বেশি আমদানি হয়েছে। চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গত এক মাসে ফ্রেশ খেজুর আমদানি হয়েছে ২৫ হাজার ৭৪৪ টন।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি তৌহিদুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এবার খেজুরের আমদানি বেড়েছে। যে কারণে গত বছরের তুলনায় পাইকারি-খুচরা দুই বাজারেই খেজুরের দাম কম। তবে গত সপ্তাহে থাইল্যান্ডে সাগরে ডুবে যাওয়া একটি জাহাজে দেড়শ কনটেইনার খেজুর বাংলাদেশে আসছিল। রমজান মাসের একেবারে শুরুতে হওয়ায় ওই খেজুর বাজারে না আসাতে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। এতে কম দামি খেজুরের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে অন্য সব ধরনের খেজুরের দাম বাড়েনি।’ তিনি বলেন, ‘বাজারে প্রায় সব খেজুরের দাম গত বছরের তুলনায় এবার কম। গত বছর যে খেজুর তিন হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, এবার একই খেজুর ২ হাজার ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ কম থাকায় শুধু কম দামি খেজুরের দাম বেড়েছে।’